Home » বিভূতিভূষণের নিজের হাতে গড়া লাইব্রেরি বন্ধ কেন?

বিভূতিভূষণের নিজের হাতে গড়া লাইব্রেরি বন্ধ কেন?

বিভূতিভূষণের নিজের হাতে গড়া লাইব্রেরি বন্ধ কেন?

শ্যাম বিশ্বাস,বসিরহাট

পথের পাঁচালি, আরণ্যক, অপরাজিত, চাঁদের পাহাড় – তাঁর সৃষ্টি।তিনি যেন কথা সাহিত্যিক শুধু নন, তিনি পথের কবিও। তাঁর লেখা উপন্যাস ও গল্পে মেঠো গন্ধ আর পথের সুবাস। তিনি বিভূতিভূষণ বন্দোপাধ্যায়। তাঁর মত যশস্বী লেখকদের সৃষ্টির প্রতি আজও পাঠকের টান বর্তমান সময়ে বই পড়ার অভ্যাস কমে যাওয়ার তত্বে করে কুঠারাঘাত।তাঁর স্মৃতি বিজড়িত বিভূতিভূষণ গ্রামীণ পাঠাগার পাঠকদের আবিষ্ট করার তত্বে ভরপুর।বসিরহাটে নিজের হাতে এই পাঠাগার তৈরি করেছিলেন বিভূতিভূষণ।দুর্ভাগ্য এই পাঠাগার বন্ধ হয়ে পড়ে রয়েছে বেশ কিছুদিন ধরে।

উত্তর চব্বিশ পরগনার বসিরহাট মহকুমার ভারত -বাংলাদেশ সীমান্তে ছোট্টো গ্রাম পানিতর। এই গ্রামের মেয়ে ছিলেন গৌরী দেবী।১৯১৭ সালে গৌরী দেবীকে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ করেছিলেন বিভূতিভূষণ ।তাঁদের এক বছরের দাম্পত্য জীবন শেষ হয়ে যায় গৌরী দেবীর অকালপ্রয়াণে।প্রথমা পত্নীকে হারিয়ে ভেঙ্গে পড়া বিভূতিভূষণের আমৃত্যু প্রাণের যোগ ছিল পানিতরের সঙ্গে ।আর বিভূতিভূষণের উদ্যোগে সাহিত্যিকের স্মৃতির উদ্দেশ্যে উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাট মহকুমার বসিরহাট ১নং ব্লকের ইটিন্ডা পানিতর গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত ঘূণীর ঘরে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল বঙ্গীয় গ্রামীণ পাঠাগার।

সেই সময় তৎকালীন পূর্ব বঙ্গের থেকেও বহু পাঠক এই পাঠাগারে ভিড় জমাতেন। কিন্তু দেশভাগের পরে তা ইতিহাসে পরিণত হয়। তাঁর মৃত্যুর পর কিছুকাল কেটে গেলেও তৎকালীন পশ্চিমবঙ্গ সরকার দায়িত্ব নেয় ওই লাইব্রেরির। ১৯৭৮ সালে বিভূতিভূষণ গ্রামীণ পাঠাগার নামে আত্মপ্রকাশ করার পর, সেই পাঠাগারে মানুষের আনাগোনা ছিল চোখে পড়ার মতো। দীর্ঘদিন ধরে স্বমহিমায় সেই পাঠাগার তার অস্তিত্ব বজায় রাখলেও বর্তমানে সেই লাইব্রেরি বন্ধ হয়ে পড়ে রয়েছে। কারণ এই পাঠাগারের যিনি গ্রন্থাগারিক ছিলেন তিনি অবসর নিয়েছেন। তারপর থেকেই লাইব্রেরি বন্ধ হয়ে পড়ে রয়েছে।
যার জন্য বিপাকে স্থানীয় পাঠক থেকে শুরু করে সীমান্ত এলাকার ছাত্র-ছাত্রী সহ এলাকার বইপ্রেমী মানুষ। যদিও বর্তমানে মোবাইলের দৌলতে লাইব্রেরির ভূমিকা অনেকটাই ফিকে হয়ে গিয়েছে। কিন্তু কথা সাহিত্যিকের স্মৃতি বিজড়িত এই লাইব্রেরিতে বসে বই পড়ার নস্টালজিয়া সীমান্তের গ্রামের মানুষের কাছে ছিল এক অনন্য পাওনা। যা থেকে বঞ্চিত হয়ে তাদের মন যথেষ্টই খারাপ।

শান্তনু সরকারের মত স্থানীয় পুস্তকপ্রেমীরা সখেদে জানিয়েছেন -লাইব্রেরি খুলে দেওয়া হলে বইপ্রেমী মানুষের বঞ্চনা কমবে।
ইতিমধ্যে রাজ্যের গ্রন্থাগার মন্ত্রী সিদ্দিকুল্লা চৌধুরী সরকারি লাইব্রেরিগুলোকে নতুন মোড়কে আনার পরিকল্পনা নিয়েছেন। সীমান্তের এই লাইব্রেরি বন্ধ হওয়া খুবই দুর্ভাগ্যর বলে মনে করছেন বই প্রেমী মানুষ।
ইটিন্ডা পানিতর গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান মালেকা বিবি জানান, তাঁরা এই সমস্যা সম্পর্কে অবগত হয়েছেন। উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছেন, দ্রুত এই সমস্যার সমাধান হবে -আশা ব্যক্ত করেছেন তিনি।তাঁর আশা আর বাস্তবে লাইব্রেরি আবার চালু হয়ে যাওয়া এই দুয়ের মেলবন্ধনের স্বপ্নে বিভোর সীমান্তের গ্রাম পানিতর সহ এক বিস্তীর্ণ এলাকার পাঠকেরা। বিভূতিভূষণ বন্দোপাধ্যায়ের নিজের হাতে প্রতিষ্ঠিত গ্রন্থাগারকে নিয়ে অবহেলা বুকে বাজছে পুস্তকপ্রেমীদের।।

About Post Author