Home » ভারসাম্যহীন স্বামীকে নিয়ে জীবনের কঠিন লড়াইয়ে এক হার না মানা দুর্গার গল্প

ভারসাম্যহীন স্বামীকে নিয়ে জীবনের কঠিন লড়াইয়ে এক হার না মানা দুর্গার গল্প

ভারসাম্যহীন স্বামীকে নিয়ে জীবনের কঠিন লড়াইয়ে এক হার না মানা দুর্গার গল্প

সময় কলকাতা ডেস্কঃ বাড়িতে অর্থোপার্জনের কেউ নেই। স্বামী মানসিক ভারসাম্যহীন। অভাবের সংসারে একাই বেঁচে থাকার কঠিন লড়াই লড়ছেন এক ‘মা’।একা হাতে সামলাচ্ছেন ঘরে ও বাইরে।একটাই মেয়ে।পড়াশোনা করে সে অনেক বড় হতে চায়।কিন্তু উপায় কি? দুবেলা যাদের খাবার জোটেনা, তাদের জন্য পড়াশোনা যেন আকাশ-কুসুম কল্পনা।

এই জীবন যোদ্ধার নাম ভাদু মাল।মানসিক ভারসাম্যহীন স্বামী সুশান্ত মাল ও তার একমাত্র মেয়ে তনু মালকে নিয়ে বাঁকুড়া জেলার ইন্দাস ব্লকের সাঁপুড়া গ্রামের বাসিন্দা  ভাদু ।গ্রামে নিজের জমি জায়গা বলতে কিছুই নেই তাদের। লোকের বাড়ি কাজ করে রোজগার। তাতেই পেট চলে তিনজনের। তিন বেলায় যে পেটপুরে খেতে পান  এমনটাও নয়।

এই জীবন সংগ্রামের মাঝেই ধীরে ধীরে বড় হচ্ছে তাদের একমাত্র মেয়ে তনু মাল। তার বয়স এখন মাত্র ১২ । ষষ্ঠ শ্রেণীর ছাত্রী। তনুর চোখে এখন অনেক স্বপ্ন।সে অনেক বড় হতে চায়।পড়াশোনা করে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে চায়।কিন্তু জীবনের এই কঠিন লড়াইয়ের মাঝে তনুর জীবনও যেন দিশা হীন।

মেয়ের পড়ালেখার জন্য অর্থ কোথা থেকে আসবে? কিভাবে সে করবে তার একমাত্র মেয়েকে মানুষ? কোথা থেকেই বা হবে অসুস্থ স্বামীর চিকিৎসা? এসব চিন্তায় রাতের ঘুম উড়েছে তনুর মা ভাদু মালের।তিনি একা লোকের বাড়ি কাজ করে কতটাই বা সংসার চালাতে পারবেন। ফলে, কোথাও যেন, আর্থিক অনটনের নীচে তনুর বড়  হওয়ার স্বপ্ন ধীরে ধীরে চাপা পড়ে যাচ্ছে। অর্থের অভাবে সঠিক ভাবে লেখা পড়া করতে পারেনা। সার্মথ্য নেই টিউশন পড়ারও। ফলে, কাউকে কিছু না বলতে পেরে নীরবেই চোখের জল ফেলে সে ছোট্ট কিশোরী তনু।

সরকারি কিংবা বেসরকারি যেকোনো ধরনের আর্থিক সাহায্যের প্রয়োজন ঐ পরিবারটির, নয়তো ওই পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের সঙ্গেই হারিয়ে যাবে একটি ছোট্ট মেয়ের ভবিষ্যৎ।

বাঁকুড়া জেলার ইন্দাস ব্লকের সাঁপুড়া গ্রামের বাসিন্দা মানসিক ভারসাম্যহীন সুশান্ত মাল, তার হতভাগ্য স্ত্রী ভাদু মাল আর এই দম্পতির ১২ বছরের ভাগ্যহীনা মেয়ে তনু মাল,  এক বুক আশা নিয়ে তাকিয়ে আছে আগামীর দিকে।

About Post Author