Home » নোবেলজয়ীর মতে,শিশুদের পক্ষে বাবা মাকে নগ্ন অবস্থায় দেখা ভালো

নোবেলজয়ীর মতে,শিশুদের পক্ষে বাবা মাকে নগ্ন অবস্থায় দেখা ভালো

সময় কলকাতা

” শিশুদের পরস্পরকে এবং তাদের বাবা মাকে নগ্ন অবস্থায় দেখা ভালো “,মনীষী বার্ট্রান্ডরাসেল তাঁর ” বিবাহ ও নৈতিকতা” গ্রন্থে এমনটাই লিখে গেছেন। তিনি লিখেছেন : “যৌনতার বিষয়ে নান্দনিক দৃষ্টিভঙ্গির পক্ষে সবচেয়ে বড় বাধা নগ্নতার ওপর নিষেধাজ্ঞা। “রাসেল তাঁর বহুচর্চিত গ্রন্থে লিখেছেন কেন বাবা মাকে নগ্ন অবস্থায় দেখা শিশুদের পক্ষে বাঞ্ছনীয়।ন

নোবেলজয়ী মনীষীর মতে, সন্তানদের স্বাভাবিকভাবে শিশু অবস্থায় বাবা মার নগ্নরূপ দেখা ভালো যার সুফল সুদূরপ্রসারী।

শিশু পুত্র সন্তানের প্রতিক্রিয়া কি হতে পারে তার ব্যাখায় গেছেন রাসেল।তাঁর মতে, এরফলে শিশুর মনে এই অনুভূতি জাগতে পারে যে বাবা ও মায়ের শারীরিক গঠনের পার্থক্য রয়েছে এবং সে তুলনা করবে তার ও বোনের শারীরিক গঠনের পার্থক্যর সাথে।রাসেল আলোচ্য গ্রন্থে জানিয়েছেন,এই অবস্থা অতি দ্ৰুত কেটে যাবে এবং পরে তার পোশাকের চেয়ে নগ্নতায় কোনো উৎসাহ থাকবে না।

বার্ট্রান্ড আর্থার উইলিয়াম রাসেল, (১৮ মে ১৮৭২ – ২ ফেব্রুয়ারি ১৯৭০) ছিলেন একজন ব্রিটিশ দার্শনিক, যুক্তিবিদ, গণিতবিদ, ইতিহাসবেত্তা, সমাজকর্মী, অহিংসাবাদী, এবং সমাজ সমালোচক। যদিও তিনি ইংল্যান্ডেই জীবনের অধিকাংশ সময় কাটিয়েছেন, তার জন্ম হয়েছিল ওয়েলস এ, এবং সেখানেই তিনি ৯৭ বছর বয়সে প্রয়াত হন।
রাসেল ১৯০০ সালের শুরুতে ব্রিটিশদের আদর্শবাদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহে নেতৃত্ব প্রদান করেন। তাকে বিশ্লেষণী দর্শনের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা বিবেচনা করা হয়, এর অন্যান্য প্রতিষ্ঠাতারা ছিলেন তার শিষ্য ভিটগেনস্টেইন এবং পূর্বসূরি ফ্রেগে এবং তাকে ২০ শতাব্দীর শ্রেষ্ঠতম যুক্তিবিদদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়। রাসেল এবং হোয়াইটহেড একত্রে প্রিন্সিপিয়া ম্যাথমেটিকা নামে একটি গ্রন্থ রচনা করেন, যাতে তাঁরা গণিতকে যুক্তির ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করেন। তার দার্শনিক নিবন্ধ “অন ডিনোটিং” দর্শনশাস্ত্রে মডেল হিসেবে বিবেচিত হয়। দুটো গ্রন্থই যুক্তি, গণিত, ভাষাতত্ত্ব এবং দর্শনকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছে।

তিনি ছিলেন একজন প্রখ্যাত যুদ্ধবিরোধী ব্যক্তিত্ব এবং জাতিসমূহের মধ্যে মুক্ত বাণিজ্যে বিশ্বাস করতেন।তিনি ছিলেন সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী। রাসেল তার অহিংস মতবাদ প্রচারের জন্যে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় জেলবন্দী হন, তিনি হিটলারের বিরুদ্ধে প্রচার চালান, সোভিয়েত টোটালিটারিয়ানিজম এবং ভিয়েতনাম যুদ্ধে আমেরিকার অংশগ্রহণের সমালোচনা করেন এবং পরমাণু নিরস্ত্রীকরণের পক্ষে ছিলেন সর্বদা সোচ্চার।

রাসেল ১৯৫০ সালে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার অর্জন করেন, যা ছিল “তার বহুবিধ গুরুত্বপূর্ণ রচনার স্বীকৃতিস্বরূপ যেখানে তিনি মানবতার আদর্শ ও চিন্তার মুক্তিকে ওপরে তুলে ধরেছেন।” বারট্রান্ড রাসেলের বই সমূহ বিভিন্ন ভাষার অনুবাদ করা হয়।

তাঁর লেখা গ্রন্থ ও রচনাসমুহর মধ্যে উল্লেখযোগ্য :

এবিসি অফ রিলেটিভিটি
আত্মজীবনী
দ্য এনালিসিস অফ মাইন্ড
লজিক এন্ড নলেজ
বিবাহ ও নৈতিকতা
রোডস টু ফ্রিডাম
আন পপুলার এসেস
আমি কেন ক্রিস্টান নই

তাঁর লেখার গভীরতা টের পেতে হলে তাঁকে জানতে হবে, তাঁর লেখা পড়তে হবেই।

বিশ্বাসের হেরফেরে কত যে কৌতুক মিশে থাকে, উদাহরণ দিয়ে শানিত রচনা রাসেলের যেখানে বর্ণবিদ্বেষ নিয়ে প্রচলিত ধ্যানধারণাকে করেছেন কুঠারাঘাত :

“মাত্র কয়েক বছর আগে মনে করা হত, ছেলেরামেয়েদের চাইতে বেশী বুদ্ধি ধরে। দার্শনিক স্পিনোজার মত মনীষীও এই মত পোষণ করতেন এবং সে কারণেই মেয়েদের ভোট দেওয়ার অধিকার মেনে নেন নি।সাদা চামড়ার লোকেরা বিশ্বাস করে অন্য রঙের চামড়াওয়ালা মানুষের চাইতে তারা উন্নততর মানবগোষ্ঠী। বিশেষ করে কালো মানুষের চাইতে তো বটেই।এদিকে জাপানে বড় করে দেখা হত হলদে রঙকে।ওঁদের ত্বকের রঙ তাই।হাইতিদ্বীপের কালো লোকেরা যীশু ও শয়তানের মূর্তি তৈরি করার সময় যীশুকে কালোবরণ এবং শয়তানকে সাদা করে গড়েন।অ্যারিস্টটল এবং প্লেতোর বিবেচনায় গ্রীক জাতি সর্বশ্রেষ্ঠ আর সব বর্বর। তাই তাঁদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দাসত্বপ্রথা তখনই সমর্থনযোগ্য যখন মনিব হবেন একজন গ্রীক এবং দাস তথাকথিত বর্বর সমাজের।” আনপপুলার এসেস

বিবাহ ও নৈতিকতার মধ্যে ভারসাম্যহীনতার উল্লেখ তাঁর রচনায় ঘুরে ফিরে এসেছে :

বিবাহ ও নৈতিকতা গ্রন্থে রাসেল ক্ষুরধার যুক্তি তুলে ধরেছেন দাম্পত্য জীবনে জুড়ে থাকা যৌনতা বিষয়ে।”প্রচলিত শিক্ষায় বড় হয়েছেন এমন দম্পতি যুগলের মধ্যে খুব কমই আছেন যারা বিবাহিত জীবনের সাথে যৌনতারমধুর সম্পর্ক অনুভব করতে পারেন।তাদের বাবা মা এবং শিক্ষকেরা যৌনতা বিষয়ে যেসব ভুলে ভরা মিথ্যে তত্বকে পরিবেশন করা গণ্য করার ফল হল যেমন বংশরক্ষার তাগিদে পাশবিক বৃত্তি আশ্রয় করতে ও স্ত্রীকে পালন করতে হয় গর্ভধারণ ও সন্তান প্রসবের মত কষ্টকর দায়িত্ব। এই মানসিকতার প্রভাবে নারী পুরুষ কারো পক্ষেই বিবাহিত জীবন আনন্দময় হয়ে ওঠে না – যা হতে পারত সুখকর অভিজ্ঞতা তা নৈতিকতার সৌজন্যে নিষ্ঠুরতার পর্যায়ে চলে যায়।”

বিবাহ ও নৈতিকতা বইটি ঘিরে রাসেলের তত্ব নিয়ে আজও চৰ্চা হয়, বিতর্ক গড়ে ওঠে। রাসেলের তত্ব মানা না মানা ব্যক্তিবিশেষের বিষয় কিন্তু রাসেলের তত্ব ও রাসেলকে দূরে সরিয়ে রাখা অসম্ভব।

About Post Author