Home » ব্যবসায়ীদের আন্দোলনের চাপে শর্ত সাপেক্ষে খুলে গেল মঙ্গলাহাট

ব্যবসায়ীদের আন্দোলনের চাপে শর্ত সাপেক্ষে খুলে গেল মঙ্গলাহাট

সময় কলকাতা ডেস্কঃ শেষ পর্যন্ত ব্যবসায়ীদের আন্দোলনের চাপে খুলে গেল মঙ্গলাহাট। আগামী রবিবার, সোমবার এবং মঙ্গলবার হাওড়া ময়দান চত্বরে বসতে চলেছে এই হাট। শুক্রবার এবং শনিবার হাওড়া হাটের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে হাওড়া পুরসভার প্রশাসক মন্ডলীর চেয়ারম্যান সুজয় চক্রবর্তীর দু’দফা বৈঠক হয়। ব্যবসায়ীরা কোভিড স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলবেন এই প্রতিশ্রুতি দিলে প্রশাসন হাটখোলার অনুমতি দেয়। সুজয়বাবু ব্যবসায়ীদের চাপে নতি স্বীকারের কথা অস্বীকার করেন।  এর আগে গত কয়েক দিন লাগামছাড়া কোভিড সংক্রমনের জেরে বন্ধ করে দেওয়া হয় এশিয়ার বৃহত্তম হাট হাওড়া ময়দান এলাকার মঙ্গলাহাট। এর ফলে বিপাকে পড়েন এক লক্ষেরও বেশি ছোট-বড় ব্যবসায়ী এবং প্রায় ১০  লক্ষের মত ক্রেতা। পুলিশ এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার ফলে গত রবিবার, সোমবার এবং মঙ্গলবার মঙ্গলাহাটে বিক্রিবাটা বন্ধ থাকে। এর প্রতিবাদে হাটের ব্যবসায়ীরা কোনা এক্সপ্রেস ওয়ে এবং হাওড়া ময়দানে দফায় দফায় রাস্তা অবরোধ করেন। এর প্রেক্ষিতে নড়েচড়ে বসে প্রশাসন।

গত সোমবার হাওড়ার শরৎ সদনে হাট ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠক করেন পুলিশ, প্রশাসন এবং হাওড়া পুরসভার কর্তারা। পুরসভার পক্ষ থেকে হাট ব্যবসায়ীদের কাছে হাট খোলার জন্য বেশ কিছু শর্ত আরোপ করা হয়। তার মধ্যে উল্ল্যেখযোগ্য ছিল হাটখোলা থাকলে কিভাবে কোভিড স্বাস্থ্যবিধি মানা সম্ভব তা নিয়ে তাদের লিখিত প্রস্তাব দিতে বলা হয়। সেইমতো হাট ব্যবসায়ীরাও তাদের প্রস্তাব লিখিত আকারে পুরসভার কাছে জমা দেয়। এর প্রেক্ষিতে শুক্রবার এবং শনিবার হাট ব্যবসায়ীদের সঙ্গে পুরসভার প্রশাসক মন্ডলীর চেয়ারম্যান সুজয় চক্রবর্তীর দু’দফায় বৈঠক হয়।

মূলত হাট এলাকায় হাওড়া জেলা হাসপাতাল, হাওড়া কোর্ট , জেলাশাসকের অফিস, হাওড়া পুরসভা এবং প্রশাসনের মূল অফিসগুলি থাকার কারণে প্রশাসনের পক্ষ থেকে হাট চালু রাখার আপত্তি ওঠে। তবে প্রশাসনিক কর্তাদের সঙ্গে আলোচনার সময় ব্যবসায়ীরা প্রতিশ্রুতি দেন ব্যবসা চলাকালীন হাট চত্বরে কোভিড বিধি পুরোপুরি মেনে চলবেন। এরপরই হাটখোলার অনুমতি দেয় প্রশাসন। জানা গেছে হাট খোলা থাকার সময় ব্যবসায়ীরা এবং পুলিশের পক্ষ থেকেও একই সঙ্গে নজরদারি চালানো হবে।

 

হাওড়া মঙ্গলা হাট ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি জানিয়েছেন এর ফলে ব্যবসায়ীরা রবিবার থেকে ব্যবসা করতে পারবেন। হাটগুলিকে স্যানিটাইজ কাজ তারা শুরু করেছেন। এর পাশাপাশি ক্রেতা এবং বিক্রেতা যাতে সবাই মাক্স পড়েন তা দেখা হবে। সকলকে সচেতন করতে মাইকে ঘোষণার পাশাপাশি হাট চত্বরে পোস্টার মারা হবে।

হাওড়া পুরসভা প্রশাসক মন্ডলীর চেয়ারম্যান সুজয় চক্রবর্তী ব্যবসায়ীদের চাপের কথা অস্বীকার করেন। তিনি বলেন মানবিক কারণে হাট করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন তারা হাওড়া হাসপাতালের বাইরের অংশে বসবেন না। এছাড়াও তারা নিজেরাই হাট চত্বর স্যানিটাইজ করবেন। তাই শর্ত সাপেক্ষে ব্যবসা করার অনুমতি দেওয়া হচ্ছে।

About Post Author