সময় কলকাতা ডেস্ক, ২২ ফেব্রুয়ারি: সন্দেশখালিকাণ্ডে উত্তেজনার পারদ ক্রমশ চড়ছে। তারই মধ্যে এবার এই ঘটনায় রাজ্যের মুখ্যসচিব এবং ডিজিকে নোটিস দিল জাতীয় মানবাধিকার কমিশন। শুধু তাই নয়, গোটা পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে সন্দেশখালিতে বিশেষ দল পাঠাচ্ছে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন। বুধবার সন্দেশখালির পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে কলকাতায় আসেন জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের ভাইস চেয়ারম্যান অনন্ত নায়েক। বৃহস্পতিবার তিনি সন্দেশখালি যাবেন। সন্দেশখালির ঘটনায় রাজ্য পুলিশ-প্রশাসন এখনও পর্যন্ত কি পদক্ষেপ করেছে এবং কি পদক্ষেপ করার পরিকল্পনা করেছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানতে চেয়ে রাজ্যের ডিজি ও মুখ্যসচিবকে নোটিশ দিয়েছে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন। আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে সম্পূর্ণ রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে।
আরও পড়ুন ঘূর্ণাবর্তের জের, বৃহস্পতিবার দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা
বুধবারই গোটা পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে সন্দেশখালিতে গিয়েছিলেন রাজ্য পুলিশের ডিজি রাজীব কুমার। সঙ্গে ছিলেন এডিজি (সাউথ বেঙ্গল) সুপ্রতীম সরকার ও বসিরহাট পুলিশ জেলার এসপি। সূত্রের খবর, বুধবার সন্দেশখালির নিরাপত্তা খতিয়ে দেখতে সন্দেশখালি থানায় বৈঠক করেন ডিজি। এদিন দুপুরে ধামাখালি থেকে লঞ্চে করে সন্দেশখালিতে পৌঁছন ডিজি-সহ পদস্থ পুলিশ কর্তারা। গোটা এলাকার নিরাপত্তা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখার পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলার প্রতি মানুষের আস্থা ফেরাতেও উদ্যোগে নেন তিনি। কথা বলেন এলাকার সাধারণ মানুষের সঙ্গেও। গত কয়েকদিন ধরে অগ্নিগর্ভ সন্দেশখালি। তবে বুধবার সকাল থেকে নতুন করে কোনও অশান্তির খবর নেই। এর আগে ভবানী ভবন থেকে সন্দেশখালি নিয়ে সাংবাদিক বৈঠক করেছিলেন রাজীব কুমার। ওইদিনই সাংবাদিক বৈঠকের পরে গ্রেফতার হয়েছিলেন শিবু হাজরা। তবে তৃণমূলের সন্দেশখালি-২ ব্লকের সভাপতি শাহজাহান শেখ এখনও ‘বেপাত্তা’।
প্রসঙ্গত, সন্দেশখালিকাণ্ডে ধৃত তৃণমূল নেতা শিবু হাজরাকে ইতিমধ্যেই ৮ দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে বসিরহাট মহকুমা আদালত। আগামী ২৬ ফেব্রুয়ারি ফের আদালতে পেশ করা হবে ধৃত তৃণমূল নেতাকে। রবিবার স্বাস্থ্য পরীক্ষার পর বেলা পৌনে ১২ নাগাদ বসিরহাট থানা থেকে কড়া পুলিশি পাহারায় শিবুকে বসিরহাট মহকুমা আদালতে নিয়ে যাওয়া হয়। এদিন সকাল থেকে থানা চত্বরে কড়া পুলিশি নিরাপত্তা ছিল। শিবুকে লক্ষ্য করে ‘চোর’‘চোর’ স্লোগান দেন স্থানীয়রা। কবে শেখ শাহজাহান গ্রেফতার হবে, এই প্রশ্ন তুলে থানার সামনে বিক্ষোভও দেখান ‘নির্যাতিত’রা। গোটা গ্রামে ঘুরে ঘুরে মিষ্টিমুখও করেন স্থানীয়রা।
শিবুর বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩৫৪ এ, ৩৫৪ বি, ৩৭৬ ডি, ৩০৭, ৩৪১, ৩২৩, ৫০৬, ৫০৯ ও ৩৪ নম্বর ধারায় মামলা রুজু হয়েছে। বাকি মামলাগুলি আগেই হয়েছিল। পরে এক মহিলার গোপন জবানবন্দি নেওয়ার পর শনিবার মামলায় যুক্ত হয় ৩৭৬ ডি (গণধর্ষণ) ও ৩০৭ (খুনের চেষ্টা) ধারাও।


More Stories
সাত-বউ, পাঁচটি রাজপ্রাসাদ শ্রীরামপুরের কাউন্সিলর টাইগারের!
তৃণমূলের শ্বাসকষ্টের আরেক শিকার অভিষেক ঘনিষ্ঠ শুভ্রকান্তির পদত্যাগ
অর্জুন সিংকে ‘চমকানো’ বনিকে কোমরে দড়ি বেঁধে ঘোরালো পুলিশ