Home » ডায়মন্ড হারবার লোকসভা কেন্দ্র : অভিষেকের জয়ের সম্ভাবনা কতটা উজ্জ্বল?

ডায়মন্ড হারবার লোকসভা কেন্দ্র : অভিষেকের জয়ের সম্ভাবনা কতটা উজ্জ্বল?

পুরন্দর চক্রবর্তী ও চুমকী সূত্রধর, সময় কলকাতা ৩০ মে : ওই একই রকম হয়। রাজনৈতিক সমাবেশে হয়, সাংবাদিক সম্মেলনে হয়, চায়ের আড্ডায় হয়। তাঁর বিরুদ্ধে হাজার হাজার শব্দ উচ্চারিত হয় অথচ তাঁর বিরুদ্ধে শেষ পর্যন্ত সমানে সমানে লড়ার লোক আর পাওয়া যায় না। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী আর মেলে না।

ডায়মন্ড হারবার লোকসভা কেন্দ্রে দেরিতে হলেও সিপিআইএমের প্রতিকুর রহমান ছাড়া অন্য রাজনৈতিক দলগুলির তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী খুঁজে পেতে যেন কালঘাম ছুটেছে। অথচ এখানেই আইএসএফের নওশাদ সিদ্দিকী বলেছিলেন, তিনি প্রার্থী হতে চান । নওশাদের দলের কেউ কেউ নাকি বাধা দিচ্ছিলেন। নওশাদের আর প্রার্থী হওয়া হল না।

শেষবেলায় প্রার্থী করা হল নবাগত মজনু লস্করকে। রাজনীতিতে আর একজন নবাগত তাঁর নাম শুনলে ফুঁসতে থাকেন। ক্রোধ যেন ব্যক্তিগত আক্রমণের রূপ নেয়। তাঁকে কখনও নাম ধরেই সম্বোধন করেন না। প্রাক্তন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় কার্যত তাঁর স্বঘোষিত রাজনৈতিক জীবনের প্রথম সাংবাদিক সম্মেলনে বলেছিলেন, বিজেপি চাইলে তিনি ডায়মন্ড হারবারে ‘তালপাতার সেপাইয়ের’ বিরুদ্ধে লড়বেন। দেখা গেল টিকিট পেলেন তিনি ঠিকই, তবে তা বিজেপির বঙ্গের প্রথমসারির সেফ সিটের অন্যতম তমলুকে। বিদ্রুপভরে তিনি তাঁকে কখনও বলেছেন সেনাপতি কখনও বলেছেন তালপাতার সেপাই। অথচ ‘তাঁর’ বিরুদ্ধে বিচারপতির রাজনৈতিক জীবনের আস্তানা বিজেপিরই প্রার্থী পেতে পেতে ভোট প্রায় চলে এল। অবশেষে একদম শেষলগ্নে ববির তথা অভিজিৎ দাসের দেখা মিলল। ফলশ্রুতি, ডায়মন্ড হারবার লোকসভা কেন্দ্রে তাঁর অর্থাৎ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াই করতে দেখা গেল না নওশাদ সিদ্দিকী বা অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়কে। কার্যত বাগযুদ্ধ সেরে ডায়মন্ড হারবার থেকে পিঠটান দিয়েছেন তাঁরা সেই কবেই। এখন প্রশ্ন সেনাপতির বিরুদ্ধে যাদের আইএসএফ, বিজেপি ও বামেরা প্রার্থী করেছে, তাঁরা যুদ্ধে কতটা সফল হবে ? ‘সেনাপতি’র বিরুদ্ধে কতটা লড়বেন তাঁরা? অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় কেন সেনাপতি নামেই আখ্যা পাচ্ছেন?

অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় তার সাংবাদিক সম্মেলনে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম না করে ‘তালপাতার সেপাই’ বলায় তাঁর দিকে প্রশ্ন ছুড়ে দেওয়া হয়। তাঁকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল কাকে আপনি ‘তালপাতার সেপাই’ বলছেন? প্রাক্তন বিচারপতি সাংবাদিকদের উত্তর দিয়েছিলেন, আপনারা যাকে সেনাপতি বলেন। তবে সেনাপতিকে শুভেন্দু অধিকারী বা তাঁর রাজনৈতিক প্রতিপক্ষরা যতই আক্রমণ করুন, রাজনীতিতে ক্রমেই পরিণত থেকে পরিণততর হয়ে উঠছেন তিনি। তিনি ক্রমেই ধারালো ও শানিত হয়ে উঠেছেন। হতে পারে রাজনৈতিক ভাবে তিনি যা বলছেন তা তাঁর বিরুদ্ধে যেতে পারত। তবে তিনি কখনও সে অর্থে বিপদে পড়েননি বরং দলকে বিপদ থেকে উদ্ধার পাওয়ার রাস্তা দেখিয়েছেন। তাঁর দলকে সাহস এবং রাজনৈতিক যুদ্ধে পায়ের তলায় মাটি যুগিয়েছেন। ইডির সমন পেয়ে তাদের উত্তর দিতে যাওয়ার আগে এবং পরে তাঁর আপাত নির্ভীক রূপ দেখেছে বঙ্গ, যা তাঁর দলকে নিশ্চয়তা দিয়েছে। তৃণমূল সুপ্রিমো অনেক সময় যে রাজনৈতিক আক্রমণের অভিমুখ স্থির করতে পারেননি, তিনি তাঁকে অভিমুখ দিয়েছেন। কেন্দ্রকে আক্রমণ করেছেন। উদাহরণ হিসেবে দেখা যেতে পারে মানুষের অপ্রাপ্তি ও বঞ্চনার সঙ্গে রাজনৈতিক সমীকরণ সুকৌশলে মিশিয়ে দিতে তিনি সফল হয়েছেন।

ঝড়ে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দুর্গতদের পাশে দাঁড়িয়েছেন। আর তিনি মুখ্যমন্ত্রীর পরে আসন্ন নির্বাচনকে মাথায় রেখে প্রচারপর্বের অঙ্গ হিসেবে উত্তরের জলপাইগুড়ি, ময়নাগুড়ি, ধূপগুড়ির ঝড় নিয়ে আবাস যোজনার কথা তুলে ধরেছেন। ঝড় পরবর্তীতে স্কুল পড়ুয়া থেকে সাধারণ মানুষের অসুবিধার তত্ত্ব হিসেবে আবাস যোজনায় কেন্দ্রের টাকা না পাওয়াকে বন্দুকের নলের মুখে রেখেছেন, মুখে বলেছেন উত্তরে আমাদের ফল গত দুটি নির্বাচনে আশানুরূপ হয়নি তবুও আমরা আপনাদের পাশে আছি।

তিনি কেন্দ্র বা রাজ্যের মন্ত্রী নন। তিনি দলের সেনাপতি ছাড়া কী বিশেষণ পেতে পারেন? বাঁকুড়ার পাথর খাদান ও পাথরশিল্প নিয়ে তিনি ন্যাশানাল গ্রীন ট্রাইবুনালের রায়কে কেন্দ্রের নির্দেশ হিসেবে দেখতে পেয়েছেন, বলেছেন কেন্দ্রের নির্দেশে বন্ধ হয়েছিল পাথর শিল্প। পঞ্চায়েত ভোটের আগে সাময়িক ভাবে তা আবার চালু করা হয়েছে। আবার কৌশলী তিনি। আদালত ও আদালতের রায়কে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ঠুকেছেন সন্দেশখালি নিয়ে, আইনের মারপ্যাঁচ সত্ত্বেও আদালতের রায়কে আক্রমণ করার মত দুঃসাহস দেখিয়েছেন। তিনি পিছিয়ে পড়েননি, আদালতকে ব্যাখ্যা দিতে হয়েছে তাদের ফরমানের। সন্দেশখালির আন্দোলন থেকে জমি আন্দোলনের কথা অনুচ্চারিত রেখে জোর দিয়েছেন নারী নির্যাতনের বিষয়টিকে কেন্দ্র করে বিজেপির অভিযোগের। তিনি বলেছিলেন, অভিযোগটি বিজেপির সুপরিকল্পিত চক্রান্ত। ভাইরাল ভিডিও-অডিও ক্লিপ তাঁর বক্তব্যে কিছুটা হলেও সিলমোহর দিয়েছে। তিনি সেনাপতি ছাড়া কী হতে পারেন? তাঁকে যিনি তালপাতার সেপাই বলেন, তাঁকে রাজনীতিতে আসার আগেই তিনি বিরোধী রাজনৈতিক দলের লোক বলে আখ্যা দিয়েছিলেন এবং তাঁর রায়কে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা প্রসূত বলে আখ্যা দিয়েছিলেন। অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক মঞ্চে পদার্পণ তাঁর তত্ত্বকে জোরালো ভাবে প্রমাণ করেছে।

এই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় আর ২০১৯ সালের অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এক নন। এই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় আল্টোপকা মন্তব্য করে দলকে বিপাকে ফেলেন না। ২০১৯ সালের মত তিনি অর্জুন সিং-য়ের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নেমে ভোটের ফলের আগাম পূর্বাভাস করে রাজনৈতিক সন্ন্যাস লাভের ইচ্ছের কথা বলেন না। এই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় রাজনৈতিকভাবে অতি পরিণত বোধের পরিচয় রাখছেন, হাতে তথ্য রেখে কৌশলী ভাবে দলের স্ট্র্যাটেজির সঙ্গে তাল মিলিয়ে বিপক্ষকে আক্রমণ করে চলেছেন। তাঁকে ভাইপো বলে বিদ্রুপ করেন শুভেন্দু অধিকারী। তবে এও মাথায় রাখতে হবে শুভেন্দুর বঙ্গে ডানা বিস্তারের প্রধান বাধা অভিষেক। তৃণমূল সুপ্রিমো যদি বামদের ৩৪ বছরের শাসনের অবসান ঘটানোর প্রতিজ্ঞা করে তা পালন করার ক্ষমতা রেখে থাকেন, অভিষেক তবে বঙ্গে বিজেপিকে রুখতে বদ্ধপরিকর হয়ে ওঠেন সেনাপতি সুলভ আগ্রাসনে। তাঁর প্রাথমিক লক্ষ্য বঙ্গে তৃণমূলের ভালো ফল, যার ভিত্তিপ্রস্তর তিনি স্থাপন করেছেন দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা জুড়ে। ভোটের প্রচারে তাই তাঁর কেন্দ্রে স্রেফ বলেন, কী কাজ হয়েছে সবাই দেখতে পাচ্ছে। ডায়মন্ড হারবার মডেলই উন্নয়নের জন্য সর্বত্র পথের দিশা।এই উন্নয়নের মডেল ধরেই তিনি এগিয়েছেন বলে ঘোষণা করেন আর পাশাপাশি দক্ষিণ ২৪ পরগনা জুড়ে সবুজ ঝড় তোলার প্রাথমিক কাজ করার পরে নিজেকে ব্যস্ত রেখেছেন তৃণমূলের প্রচারে, জেলায় জেলায় জনগর্জন ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। পাশাপাশি, বিজেপিকে ক্রমশই ভেঙেছেন। রায় দীঘিতে ভেঙেছেন, মন্দির বাজারে ভেঙেছেন। তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে বিধায়ক পদের প্রার্থী হওয়া প্রথম সারির নেতাদের দলে ফিরিয়ে এনেছেন। অথচ মনে হতেই পারে খুবই কি দরকার ছিল দল থেকে চলে যাওয়া মানুষদের ফেরানো? তাঁর ঘনিষ্ঠ বাপি হালদারের কেন্দ্র মথুরাপুরে প্রত্যেকটি বিধানসভা আসনে ২০২১ সালে তৃণমূলই জয়ী হয়েছিল। কিন্তু যুদ্ধে বিপক্ষকে আরো হীনবল করাই যুদ্ধ পরিচালনাকারীদের কাজ। তিনি তৃণমূলের সেনাপতি ছাড়া আর কী হতে পারেন?

জয়নগর, মথুরাপুরের মতই ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের ছবি ছিল ডায়মন্ড হারবারে। ডায়মন্ড হারবার, ফলতা, সাতগাছিয়া, বিষ্ণুপুর, মহেশতলা, বজবজ, মেটিয়াবুরুজ – দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা ও কলকাতা ছুঁয়ে থাকা দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার অংশগুলিতে বিধানসভা নির্বাচনে অপ্রতিহত ছিল তৃণমূল। কী হবে ২০২৪ সালের লোকসভা ভোটে ডায়মন্ড হারবার কেন্দ্রে ? ডায়মন্ড হারবারের সাম্প্রতিক সময়ে লোকসভার রাজনৈতিক ইতিহাসে হাল্কা করে নজর রাখা যাক। ২০১৯ সালের লোকসভা ভোটে ৭ লক্ষ ৯১ হাজার ভোট পেয়ে ৩ লক্ষ ২১ হাজার ভোটে হারিয়ে দিয়েছিলেন বিজেপির নীলাঞ্জন রায়কে। বিজেপি ১৭ শতাংশ ভোট বাড়িয়েছিল ঠিকই কিন্তু গায়ে গা লাগিয়ে প্রায় ১৫.৮২ শতাংশ ভোট বাড়িয়ে ছিল তৃণমূল, যা বঙ্গের অধিকাংশ লোকসভা আসনের সঙ্গে ঠিক মেলানো যায় না। রাজ্যে আট বছর শাসনের পরে, মুকুল -শুভেন্দু ও তাদের অনুগামীদের ক্ষয়কার্য এবং বিজেপির বঙ্গে ঝাঁপিয়ে পড়া সামাল দিতে ২০১৯ সালে হিমশিম খেতে হয় তৃণমূলকে। তৃণমূল বেশ কিছু লোকসভা আসন হারায় আর হাতে গোনা কয়েকটি আসনে লিড বাড়ে, যে কয়েকটি কেন্দ্রে লিড বেড়েছিল, সেগুলিও দু পাঁচ শতাংশের। কিন্তু অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডায়মন্ড হারবার লোকসভা কেন্দ্র যে অত্যন্ত সুরক্ষিত থেকে গিয়েছে, তা তাঁর ভোটের বিপুল মার্জিন বৃদ্ধিতেই সুস্পষ্ট। অথচ প্রথমবার সাংসদ হওয়ার লড়াইয়ে বেশ কঠিন বাধার মুখে পড়েছিলেন অভিষেক। ২০০৯ সালে এই কেন্দ্রে তৃণমূলের টিকিটে প্রথমবার জয়ী হওয়া সোমেন মিত্রর ১ লক্ষ ৫১ হাজার ভোটে জয়ের মার্জিন ২০১৪ সালে এক ধাক্কায় ৭১ হাজারে নেমে আসে। সেবারই ডায়মন্ড হারবার কেন্দ্রে প্রথম লোকসভা নির্বাচনে অবতীর্ণ হয়েছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ২০১৯ সালে ৭১ হাজার থেকে আরও আড়াই লাখ ব্যবধান বাড়িয়ে ফেলেন অভিষেক। ২০২৪ সালেও ব্যবধান বাড়লে অবাক হওয়ার কিছু নেই বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। কিন্তু কেন? অন্য বিরোধী রাজনৈতিক দল দেরিতে হলেও ভোটের ময়দানে এসে সশরীরে রয়েছেন। তাঁরা কী বলছেন? ভোটযুদ্ধে সেনাপতির বিরুদ্ধে লড়তে তাদের স্ট্রাটেজি তাঁরা কিভাবে সাজিয়েছেন?

বিজেপির অভিজিৎ দাস বিচারপতি অভিজিতের মতই ব্যক্তি আক্রমণে জোর দিয়েছেন। তৃণমূলের দুর্নীতিতে জোর দিয়েছেন। আইনশৃঙ্খলার অবনতির কথা বলছেন। তিনি কখনও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ডন বলছেন, কখনও বলছেন ভাইরাস। তবে অভিজিৎ দাসের অসুবিধা তিনি প্রচারের জন্য হাতে পেয়েছেন হাতে গোনা কয়েকদিন। তাছাড়া এবার এই কেন্দ্রে রয়েছেন অন্য দুই প্রতিপক্ষ যার মধ্যে বামেদের উত্থানের পরিষ্কার ইঙ্গিত রয়েছে। মনে রাখা দরকার এই কেন্দ্রে ফুয়াদ হালিমের ভোটযুদ্ধে বামেরা ২৮ শতাংশ ভোট হারিয়েছিল ৫ বছর আগে। তবে অভিজিৎ দাসের প্লাস পয়েন্ট হল বিজেপি দলের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পর্ক। ডায়মন্ড হারবার কেন্দ্রটি তাঁর হাতের তালুর মতো চেনা। আগেও তিনি বিজেপির হয়ে লড়েছেন। তবে এবার তাঁর লড়াই খুব কঠিন।

সিপিআইএম বা আইএসএফের প্রচার বিজেপির চেয়ে সম্পূর্ণ অন্য খাতে বইছে। মজনু লস্কর বন্ধ কলকারখানা খোলা এবং কর্মসংস্থানের দিকে নজর দিয়েছেন। অন্যদিকে, সিপিআইএমের প্রতিকুর রহমান এই কেন্দ্র জুড়ে বন্ধ হতে থাকা কল কারখানা ও বেকারত্বের ছবি তুলে ধরার পাশাপাশি খাদ্য-শিক্ষা -বাসস্থানের কথা বলছেন। ডায়মন্ড হারবার লোকসভা কেন্দ্র জুড়ে মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার খর্ব হওয়ার কথা বলছেন প্রতিকুর রহমান। তথাপি হারিয়ে যাওয়া বাম ভোটকে ফিরিয়ে আনাই প্রতিকুরের প্রাথমিক লক্ষ্য। বঙ্গের দু-একটি কেন্দ্র বাদ দিলে অধিকাংশ কেন্দ্রের মতই এখানেও বামেদের লক্ষ্য কিকরে দ্বিতীয় স্থানে উঠে আসা যায়। কার্যত অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের মূল প্রতিপক্ষ তিনজনের লক্ষ্যই ভিক্ট্রি স্ট্যান্ড নয়। কারণ, অভিষেকের বিরুদ্ধে ডায়মন্ড হারবারে বাকিদের প্রচার পর্ব শুরু হতে না হতেই মনোনয়ন পর্ব জমা দেওয়ার দিন চলে এসেছে। লড়াই করার সময় তাঁরা পাননি, পেলেও তাঁরা কতটা সফল হতেন, তা বলা খুব দুরূহ। কারণ অভিষেক তাঁর লোকসভা কেন্দ্র সুকৌশলী ভাবে ইতিমধ্যেই সুরক্ষিত করে ফেলেছেন।

অথচ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় স্রেফ ডায়মন্ড হারবারে পড়ে নেই, তাঁর চোখ ও ব্যাপ্তি বঙ্গ জুড়ে। তথাপি ডায়মন্ড হারবার তাঁর নিজের কেন্দ্র। তিনি সেকেন্ড হোম মনে করেন ডায়মন্ড হারবারকে। তিনি মনে করেন কিনা তারচেয়ে বড় কথা ঘরের ছেলে হিসেবেই তাঁকে ডায়মন্ড হারবার স্বীকৃতি দিয়েছে। এবারও লোকসভা ভোটের হাওয়ার অভিমুখ বলছে রাজ্যে শাসকদলের সেনাপতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের টানা তৃতীয়বার জয়ের সম্ভাবনা ডায়মন্ডের মতই উজ্জ্বল।।

About Post Author