Home » অধীর চৌধুরী নিজে ডুবলেন, ইন্ডিয়া জোটকে ডোবালেন, বাঁচালেন এনডিএ ও বঙ্গ বিজেপিকে

অধীর চৌধুরী নিজে ডুবলেন, ইন্ডিয়া জোটকে ডোবালেন, বাঁচালেন এনডিএ ও বঙ্গ বিজেপিকে

পুরন্দর চক্রবর্তী ও চুমকী সূত্রধর , ৯ জুন : কি হতে পারত তা কখনই কোনও ভাবে বিবেচ্য হতে পারে না। যা হয়েছে তাই বিবেচনা করা যায়। বঙ্গ রাজনীতিতে লোকসভা ভোটে অধীর রঞ্জন চৌধুরীর পরাজয়ের সমীকরণ যে অঙ্কে জড়িয়ে আছে, সেখানে বারবার একটি কথা উঠে আসছে, অধীর চৌধুরী নিজের পায়ে নিজেই কুড়ুল মেরেছেন। কেন্দ্রে ইন্ডিয়া জোট হলেও কেন রাজ্যে কংগ্রেস তৃণমূলের সঙ্গে একজোট হয়ে লড়ল না? লড়লে রাজ্যে নাকি বিজেপিকে খুঁজে পাওয়া যেত না। সত্যি কি তাই? বিষয়টি দুভাবে সত্যি।

ফলাফলের দিক থেকে দেখলে মনে হতেই পারে কংগ্রেস ও তৃণমূল একজোট হয়ে লড়লে দার্জিলিং লোকসভা কেন্দ্রের মত এক আধখানি আসন ছাড়া এই সরল সমীকরণটির সত্যি। কারণের সঙ্গে জুড়ে রয়েছে কংগ্রেস ও কংগ্রেস নেতা-নেত্রীদের প্রাদেশিকভাবে রাজনৈতিক অস্তিত্ব রক্ষার বাধ্যবাধকতা। ফলাফলের দিকে আগে তাকানো যাক। বিজেপি জিতেছে ১২ টি কেন্দ্রে। দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার, রায়গঞ্জ, বালুরঘাট, মালদা উত্তর, তমলুক, কাঁথি, পুরুলিয়া, বিষ্ণুপুর, রানাঘাট, বনগাঁ – এই ১২ টি কেন্দ্রে বিজেপি জয়লাভ করেছে। দার্জিলিং লোকসভা কেন্দ্রে বিজেপির রাজু বিস্তা পান ৬ লক্ষ ৭৯ হাজার ভোট। কংগ্রেসের হয়ে মুনিশ তামাং ৮৩ হাজার ভোট পান। তৃণমূলের গোপাল লামা পান ৫ লক্ষ ভোট। অর্থাৎ সুস্পষ্ট ভাবে বোঝা যাচ্ছে, খালি কংগ্রেসের ভোট দিয়ে তৃণমূল পরাজয়ের ব্যবধান দূর করতে পারত না দার্জিলিং লোকসভা কেন্দ্রে। একই চিত্র সমতলে আলিপুরদুয়ার লোকসভা কেন্দ্রে। মনোজ টিজ্ঞা এখানে পেয়েছেন ৬ লক্ষ ৯৫ হাজার ভোট। প্রকাশ চিক বরাইক পেয়েছেন ৬ লক্ষ ১৯ হাজার ভোট। তৃতীয় শক্তি হিসেবে বাম প্রার্থী মিলি ওঁরাও পান ৩৯ হাজার ৭০০ ভোট। জলপাইগুড়ি লোকসভা কেন্দ্রে জয়ন্ত রায়ের সঙ্গে নির্মল রায়ের ভোটের ব্যবধান ৮৭ হাজার। বাম প্রার্থী দেবরাজ বর্মণ পেয়েছিলেন মাত্র ৭৪ হাজার ভোট। এই কেন্দ্রগুলিতে তৃতীয় শক্তি হিসেবে শুধু কংগ্রেস নয়, বামফ্রন্ট পাশে থাকলেও তৃণমূল জয়ী হতে পারত না, অন্তত পরিসংখ্যানের হিসাব দিয়ে বোঝা যাচ্ছে। সমতলে এসে একই চিত্র দেখা যাবে রানাঘাট লোকসভা কেন্দ্রেও। বিজেপির জগন্নাথ সরকার ৭ লক্ষ ৮২ হাজার ভোট পান। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী তৃণমূলের মুকুটমণি অধিকারী পান ৫ লক্ষ ৯৫ হাজার ভোট। বামেদের হয়ে অলোকেশ দাস পান ১ লক্ষ ২৩ হাজার ভোট। সারা রাজ্যের মধ্যে বিজেপির হয়ে সর্বাধিক ব্যবধানে জয়ী হন জগন্নাথ সরকার। এই কেন্দ্রে বাম, কংগ্রেসের যৌথ ভোট তৃণমূলের সঙ্গে যোগ হলেও ফলাফলে হেরফেরের কোনও সম্ভাবনাই দেখা যাচ্ছে না। কাঁথি লোকসভা কেন্দ্রেও বাম-কংগ্রেস জোট বিন্দুমাত্র রেখাপাত করতে পারেনি। সৌমেন্দু অধিকারী পান ৭ লক্ষ ৬৩ হাজার ভোট। উত্তম বারিক পান ৭ লক্ষ ১৫ ভোট। উর্বশী ভট্টাচার্য পান ৩১ হাজার ভোট। বনগাঁ কেন্দ্রে ব্যবধান ছিল ৭৫ হাজার। কংগ্রেস পায় ৬৫ হাজার ভোট। অর্থাৎ দেখা যাচ্ছে দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার, রানাঘাট, বনগাঁ ও কাঁথি কেন্দ্রে বিজেপি, তৃণমূল ও বাম কংগ্রেসের যৌথ ভোটের চেয়ে বেশি ভোট পেয়েছে। কিন্ত বিজেপি তাদের জেতা বাকি ৬ কেন্দ্রে তৃণমূল ও বাম কংগ্রেসের যৌথ ভোটের চেয়ে কম পেয়েছে। জলের মত পরিষ্কার, তৃণমূল ও কংগ্রেসের জোট হলে সিপিআইএমের সমর্থন ছাড়াই মালদা উত্তর কেন্দ্রে লক্ষাধিক ভোটে জয়ী হত তৃণমূল ও কংগ্রেসের জোট। বহরমপুর লোকসভা কেন্দ্রের আলোচনার আগে অন্য ৬টি কেন্দ্রের কথা আলোচনা করা যাক। মালদা উত্তর কেন্দ্রে ৭৮ হাজার ভোটে জয়ী হন বিজেপির খগেন মুর্মু। অন্যদিকে, ৪ লক্ষ ৪৯ হাজার ভোট পান প্রসূন ব্যানার্জি। কংগ্রেসের হয়ে ৩ লক্ষ ৮৪ হাজার পান মোস্তাক আলম। এরকম কেন্দ্র আরও একাধিক রয়েছে। প্রথমেই বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদারের কেন্দ্র বালুরঘাটের কথা আলোচনা করা যাক। এখানে তৃণমূলের বিপ্লব মিত্র বিজেপির সুকান্ত মজুমদারের কাছে হারেন মাত্র ১০ হাজার ভোটে। এখানে বাম ও কংগ্রেসের হয়ে লড়তে নেমে জয়দেব সিদ্ধান্ত পান ৫৪ হাজারের বেশি ভোট। রায়গঞ্জ কেন্দ্রে কার্তিক পালের পরাজয় নিশ্চিত ছিল কংগ্রেস ও তৃণমূলের জোট হলে। কংগ্রেসের ইমরান রামজ ওরফে ভিক্টর একাই পান ২ লক্ষ ৬৩ হাজার ভোট। কার্তিক পাল ৬৮ হাজার ভোটে হারান কৃষ্ণ কল্যাণীকে। বিষ্ণুপুরে বিজেপির সৌমিত্র খাঁ জিতেছেন মাত্র ৬ হাজার ভোটে। সৌমিত্র খাঁ ৬ লক্ষ ৮০ ভোট পান সুজাতা মণ্ডল ৬ লক্ষ ৭৪ হাজার ভোট। তৃতীয় শক্তি বাম কংগ্রেসের হয়ে শীতল কৈবর্ত্য পান ১ লক্ষ ৫ হাজার ভোট। রায়গঞ্জ,বালুরঘাট, মালদা উত্তর এবং বিষ্ণুপুর, পুরুলিয়া এই পাঁচটি আসনে কংগ্রেস এবং তৃণমূলের জোট হলে বিজেপির পরাজয় নিশ্চিত ছিল। বঙ্গ রাজনীতিতে বামেরা তৃণমূলের সঙ্গে এক না হওয়ার কথা ভাবলেও তাদের এবারও ভোট সেভাবে বাড়েনি তা অত্যন্ত পরিষ্কার। মিলি ওঁরাও, বাসুদেব বর্মন, সৃজন ভট্টাচার্য থেকে মহম্মদ সেলিম, দিপ্সিতা তা প্রকট করে দিয়েছেন। সুজন চক্রবর্তী ও এম এস সাদি হয়তো সামান্য আশার আলো দেখিয়েছেন। কিন্তু লোকসভা নির্বাচনের নিরিখে বামেরা যে আসন গুলিতে দাঁড়িয়েছেন, তাদের ভোট শতাংশগত হিসেবে কমেছে বঙ্গে। বিগত লোকসভা নির্বাচনে তুলনায় ০. ৬৬ শতাংশ ভোট তাদের কমেছে। ৬.৩৩ শতাংশ থেকে নেমে তাদের ভোট দাঁড়িয়েছে ৫.৬৭ শতাংশে। কংগ্রেসের ভোট কমেছে ১ শতাংশ। যেখানে তৃণমূল গতবারের চেয়ে আড়াই শতাংশ ভোট বাড়িয়ে ফেলেছে বঙ্গে। এবারের তাদের ভোটের শতাংশগত হিসাব ৪৫. ৭৬। গতবার বিজেপির ভোট ছিল ৪০.৩ শতাংশ, যা কমে হয়েছে ৩৮. ৭৩ শতাংশ। বিজেপির ভোট কমেছে বঙ্গে, জনসমর্থন কমেছে বঙ্গে। তৃণমূল কংগ্রেসের পাশাপাশি বামেদের সহায়তা পেলে বিজেপিকে হারতে হত তমলুক কেন্দ্রেও। তমলুক কেন্দ্রে অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় পান ৭ লক্ষ ৬৫ হাজার ভোট। দেবাংশু পান ৬ লক্ষ ৮৭ হাজার ভোট। ব্যবধান ছিল ৭৮ হাজারের। বাম প্রার্থী সায়ন ব্যানার্জি পান ৮৫ হাজার ভোট। তবে বাম নেতৃত্ব তৃণমূলের সঙ্গে বঙ্গে জোট করতে কতটা আগ্রহী, সে নিয়ে প্রশ্নচিহ্ন রয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অধীর রঞ্জন চৌধুরীকে বঙ্গের বামের দিকে তাকাতে হত না। অধীর রঞ্জন চৌধুরী বহরমপুর লোকসভা কেন্দ্রে বিপুল ভোটেই জয়ী হতে পারতেন জোট হলে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দেওয়া ডাকে অধীর রঞ্জন চৌধুরী সাড়া দিলে বহরমপুর কেন্দ্রে কংগ্রেস ও তৃণমূল কংগ্রেসের যৌথ শক্তির কাছে হামাগুড়ি দিতে হত বিজেপিকে। বহরমপুর লোকসভা কেন্দ্রে অধীর রঞ্জন চৌধুরী হেরেছেন ৮৫ হাজার ভোটে। আর অধীর এবং বিজয়ী ইউসুফ পাঠানের যৌথ ভোট ৯ লক্ষ ৬৩ হাজার। বিজেপি প্রার্থী নির্মল সাহা পেয়েছেন মাত্র ৩ লক্ষ ৭১ হাজার। অর্থাৎ এই কেন্দ্রে ৫ লক্ষ ৯২ হাজার ভোটে জিততে পারতেন অধীর চৌধুরী যদি তৃণমূল এই কেন্দ্রটি কংগ্রেসকে ছেড়ে দিত। বিষয় হচ্ছে কেন্দ্রটি কংগ্রেসকে ছেড়েও দিয়েছিল তৃণমূল। শুধু এই কেন্দ্রটি নয়, মালদা দক্ষিণ কেন্দ্র কংগ্রেসকে ছেড়ে দিয়েছিল তৃণমূল। মালদা দক্ষিণ কেন্দ্রে ডালু বাবুর পুত্র ঈশা খান চৌধুরী জয়ী হলেও অধীর রঞ্জন চৌধুরীকে হারতে হয়।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, অধীর চৌধুরীর পরাজয়ের কারণ অধীর চৌধুরী নিজে। কংগ্রেসের ক্ষয়ে যেতে থাকা শক্তিকে না বুঝে তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে দরাদরিতে না গিয়ে, কংগ্রেসের অধীর চৌধুরী নিজের ইগোতে অটল থাকেন। এবার ভোটে জোটের কথা যখন ওঠে, তখন তৃণমূল কংগ্রেস প্রথমে কংগ্রেসকে মালদা দক্ষিণ ও বহরমপুর কেন্দ্র ছাড়তে চাইলেও কংগ্রেস আটটি আসন দাবি করে। পরে তৃণমূল নমনীয় হয়ে আরও দুটি আসন দিতে চেয়েছিল বলে তৃণমূল ও কংগ্রেসের বিশ্বস্ত সূত্রের দাবি। সমঝোতায় এই আসন সংখ্যা বেড়ে কংগ্রেসের পক্ষে পাঁচও হতে পারতো বলে মনে করা হয়। মালদা উত্তর এবং পুরুলিয়া কেন্দ্র কংগ্রেসকে ছাড়া হতে পারতো বলে জানিয়েছেন সমঝোতার সময় বিষয়টির দিকে চোখ রাখা কংগ্রেস ও তৃণমূল কংগ্রেসের একাধিক শীর্ষ নেতা। জোট না হওয়ায় কংগ্রেস বহরমপুরের আসন যেমন হারিয়েছে, তেমনই হাতছাড়া হয়েছে আরও দু থেকে তিনটি আসন। জোট হলে তৃণমূল কংগ্রেস ও কংগ্রেসের জোট নিশ্চিতভাবে বঙ্গে ৩৫ টি আসন পেতে পারত, এই আসন সংখ্যা ৩৬ হতে পারত বামেদের সঙ্গে পেলে। বামেদের সঙ্গে না থেকেও বঙ্গে তৃণমূল এবং কংগ্রেসের একযোগে অন্তত পাঁচটি আসন কমার জন্য একাধিক কংগ্রেস নেতা অধীর চৌধুরীকে দায়ী করার পাশাপাশি দীপা দাশমুন্সির প্ররোচনাকেও দায়ী করেন। এরকম বলা হয়ে থাকে, অভিষেক মনু সিংভির সামনে কংগ্রেসকে বঙ্গে চূড়ান্ত ডিলে পাঁচটি আসন ছাড়ার বিষয়ে সিলমোহর পড়তে যাচ্ছিল, সেই সময় অধীর চৌধুরী বেঁকে বসেন। আর এখানেই বেঁকে যায় বঙ্গে কংগ্রেসের ভবিষ্যৎ। ৪.৬৮ শতাংশ ভোট নিয়ে কংগ্রেস কার্যত সাইনবোর্ডের চেহারা নায়ক পশ্চিমবঙ্গে। তৃণমূলের সঙ্গে থাকলে যে কংগ্রেস অক্সিজেন পেয়ে বর্ধিত রূপ পেতে পারত, সেই কংগ্রেস এবারের লোকসভা নির্বাচনের পরে আরও শ্বাসকষ্টে ভুগতে শুরু করেছে। কংগ্রেসের একাংশ বলছেন, অধীর চৌধুরী প্রকৃত অর্থেই নিজের পায়ে নিজেই কুড়ুল মেরেছেন। তৃণমূল কংগ্রেস সুপ্রিমো যখন অধীর চৌধুরীকে বহরমপুর আসন ছাড়ছেন স্থির হয়ে যায়, তখন অধীর চৌধুরী নিজের গোঁ ও জেদ থেকে সরে আসলেই পারতেন। অধীর চৌধুরী ও দীপা দাশমুন্সির জেদের ফল দাঁড়ায় মালদা দক্ষিণ কেন্দ্রছাড়া কংগ্রেসের বঙ্গ থেকে নিশ্চিহ্ন হয়ে যাওয়া। বঙ্গ রাজনীতিতে কংগ্রেসের প্রভাব কার্যত শূন্য হয়ে যায় অধীর চৌধুরীর একটি অনাবশ্যক ও ভ্রান্ত সিদ্ধান্তে। মালদা দক্ষিণ কেন্দ্রে জয়ী ঈশা খানের পিতা ডালু বাবু বিগত এক বছর ধরে বারবার বলে এসেছিলেন বামেদের সঙ্গে নয়, তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে জোট চাই কংগ্রেসকে বাঁচাতে। কংগ্রেসের হাই কমান্ডও তৃণমূল এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে জোট করে চলতে যে আগ্রহী ছিল, তা বোঝা যায় মল্লিকারজুন খাড়গের সঙ্গে অধীর চৌধুরীর বিবাদে। কংগ্রেসের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব ও হাই কম্যান্ড তৃণমূলের সঙ্গে একসঙ্গে চলতে চেয়েছিল। মল্লিকার্জুন খাড়গেই যে ঠিক ছিলেন, অধীর চৌধুরীর যে সম্পূর্ণ ভুল ছিলেন, তা অধীর চৌধুরী তাঁর পতনের মধ্যে দিয়ে সুস্পষ্ট করে দিয়েছেন।

রাজনৈতিক মহলের সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা, অধীর চৌধুরী নিজের গোঁ বজায় রাখতে গিয়ে ইন্ডিয়া জোটের ভারসাম্যেও ব্যাঘাত ঘটিয়েছেন। বঙ্গে কংগ্রেস এবং তৃণমূল একজোট হয়ে লড়লে কংগ্রেস দেশে শতাধিক আসন পেতে পারত। ইন্ডিয়া জোটের পক্ষে আসতে পারত অন্তত ২৩৮ টি আসন এবং সেক্ষেত্রে বিজেপির আসন সংখ্যা কমে দাঁড়াত ২৩৫-এ। ইন্ডিয়া জোটের আসন সংখ্যা বিজেপির চেয়ে বেশি থাকলে অন্য অনেক রকম রাজনৈতিক সমীকরণের পথ খোলা থাকত বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। অধীর চৌধুরী একটিমাত্র সিদ্ধান্ত, কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলে। কংগ্রেস এবং ইন্ডিয়া জোটকে কার্যত পথে বসিয়েছেন অধীর চৌধুরী, এমনটাই মনে পড়ছে রাজনৈতিক মহল। পাঁচবারের লোকসভা নির্বাচনে কংগ্রেসের হয়ে জয়ী অধীর রঞ্জন চৌধুরীর বঙ্গ কংগ্রেসে অনেক অবদান থাকলেও ২০২৪ লোকসভা নির্বাচনে তিনি সময় ও পরিস্থিতির সঙ্গে সঙ্গে নিজেকে বদলাতে না পারার জন্য, ভ্রান্ত রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণে ডুবেছেন। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের পাশাপাশি, কংগ্রেসের বেশ বড় একটি অংশ মনে করছে, অধীর চৌধুরী নিজে তো ডুবেইছেন, সাইনবোর্ড বানিয়েছেন বঙ্গ কংগ্রেসকে, ডুবিয়েছেন কেন্দ্রের কংগ্রেস এবং ইন্ডিয়া জোটকে। অন্যদিকে, তাঁর সিদ্ধান্ত বাঁচিয়ে দিল এনডিএ ও বিজেপিকে। অধীর চৌধুরীর সিদ্ধান্তে বাঁচলেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার, যিনি গোহারান হারতেন, শুভেন্দু অধিকারীর অবস্থা আরও টালমাটাল হয়ে যেত। পাশাপাশি, জোট হলে কেন্দ্রে কংগ্রেস ও ইন্ডিয়া জোট আরও শক্তিশালী হত। ভোটের পরিসংখ্যান সুস্পষ্ট করে দিচ্ছে, একলা চলোর সিদ্ধান্ত নিয়ে বঙ্গ বিজেপিকে ছাড়া কাউকে বাঁচাতে পারেননি অধীর রঞ্জন চৌধুরী। এনিয়ে কোনও সন্দেহের অবকাশ নেই অধীর চৌধুরী তাঁর সিদ্ধান্তে ডুবিয়েছেন কংগ্রেস ও ইন্ডিয়া জোটকে।।

About Post Author