সময় কলকাতা ডেস্ক, ৫ জানুয়ারি, ২০২৬ : শেখ হাসিনাকে ক্ষমতা থেকে সরানোর যুক্তি হিসেবে বাংলাদেশের ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লবের কারিগররা তাঁকে স্বৈরাচারী শাসক হিসেবে আখ্যা দিয়েছিলেন, ২০২৪ সালে ভেনিজুয়েলার নির্বাচনের পর থেকেই নিকোলাস মাদুরোকে স্বৈরাচারী শাসক হিসেবে আখ্যা দিচ্ছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প ও মার্কিন প্রশাসন। সত্যি কি নিকোলাস মাদুরো একনায়কতন্ত্র জারি করেছিলেন?
এ নিয়ে সন্দেহের অবকাশ নেই যে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা, মানবাধিকার গোষ্ঠী এবং বিশ্বের অনেক গণতান্ত্রিক দেশ নিকোলাস মাদুরোকে একজন স্বৈরাচারী শাসক বা একনায়ক হিসেবে অভিহিত করে। ২০১৩ সাল থেকে ভেনেজুয়েলার ক্ষমতায় ছিলেন মাদুরো। তাঁর শাসনকালেদের বিরোধীদের দমন, গণমাধ্যমের ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ এবং বিচার বিভাগের ওপর একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তারের মাধ্যমে একটি ‘কর্তৃত্ববাদী’ (Authoritarian) ব্যবস্থা গড়ে তোলার অভিযোগ রয়েছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণতন্ত্র সূচক অনুযায়ী ভেনেজুয়েলাকে দীর্ঘকাল ধরে ‘স্বৈরতান্ত্রিক’ রাষ্ট্র হিসেবে শ্রেণীবদ্ধ করা হয়েছে,বিশেষ করে ২০২৪ সালের নির্বাচনে ব্যাপক জালিয়াতির অভিযোগ ওঠায় আন্তর্জাতিক মহলে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা তলানিতে ঠেকে যায়। হিউম্যান রাইটস ওয়াচ এবং জাতিসংঘের বিভিন্ন প্রতিবেদনে মাদুরোর নিরাপত্তা বাহিনী কর্তৃক বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, নির্যাতন এবং শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ দমনের অসংখ্য প্রমাণ নথিবদ্ধ করা হয়েছে। জানুয়ারি মাসের ৩ তারিখে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এক বিশেষ সামরিক অভিযানের মাধ্যমে মাদুরোকে কারাকাস থেকে বন্দি করা হয় বর্তমানে তিনি নিউইয়র্কের একটি আদালতে মাদক-সন্ত্রাসবাদ (Narco-terrorism) এবং দুর্নীতির অভিযোগে বিচারের মুখোমুখি হচ্ছেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং প্রতিবেশী দেশগুলোর একটি বড় অংশ তাঁকে একজন “অবৈধ স্বৈরশাসক” হিসেবে মনে করে তবে চীন ও রাশিয়ার মতো দেশগুলো তাঁর ওপর হওয়া সাম্প্রতিক এই বহিঃআক্রমণকে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন বলে নিন্দা জানিয়েছে।
উপরোক্ত অভিযোগগুলি যাই হোক না কেন, ২০০৩ সালে ইরাক আক্রমণ কালে সাদ্দাম হোসেনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন মানবতাবিরোধী, জঙ্গি সংযোগ এবং মানব ধ্বংসকারী অস্ত্রের অভিযোগ এনেছিল যার একটিও সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়নি।তবুও মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল সাদ্দাম হোসেনকে।এবার আমেরিকা কোকেন ও মাদক সংযোগের অভিযোগ এনেছে নিকোলাস মাদুরোর বিরুদ্ধে। পাশাপাশি, কোন শাসক কে ক্ষমতাচ্যুত করার জন্য বারবার কোনও না কোনও যুক্তি খাড়া হয়ে থাকে। বিকোলাস মাদূরোর বিরুদ্ধে স্বৈরতান্ত্রিক শাসন তত্ত্ব এক্ষেত্রে ব্যতিক্রম কিছু নয়, যদিও আমেরিকা শেষ পর্যন্ত কোকেন তত্ত্ব খাড়া করেছে ভেনেজুয়েলার ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট বিকোলাস মাদুরোর বিরুদ্ধে। যদিও আন্তর্জাতিক মহলের একটি বিরাট অংশ এই কোকেন তত্ত্ব মানতে নারাজ। বোঝা কঠিন নয়, মাদুরোর স্বৈরাচারী শাসন একটি অছিলা মাত্র, ভেনেজুয়েলার ভূগর্ভস্থ সম্পদ নিকোলাস মাদুরোর পতনের নেপথ্যে রয়েছে ,অন্তত আমেরিকার জনতার একটি বিরাট অংশ তাই বিশ্বাস করে, নইলে সে দেশের রাস্তায় no blood for oil ব্যানার নিয়ে মিছিল চোখে পড়ত না।।


More Stories
ভেনেজুয়েলায় মার্কিন হানা , ‘বন্দি’ সস্ত্রীক মাদুরো
কেন বাংলাদেশের মুস্তাফিজুরকে না রাখার নির্দেশ ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের?
জলপাইগুড়ির মেয়ে খালেদা জিয়া