Home » ব্যঙ্গাত্মক রাজনৈতিক দল ককরোচ জনতা পার্টির উদ্ভব

ব্যঙ্গাত্মক রাজনৈতিক দল ককরোচ জনতা পার্টির উদ্ভব

পুরন্দর চক্রবর্তী, সময় কলকাতা :জন্মলগ্নেই শোরগোল ফেলেছে ব্যঙ্গাত্মক রাজনৈতিক সংগঠন ককরোচ জনতা পার্টি বা আরশোলা জনতা পার্টি (cockroach Janata Party)। কে এই দল গড়লেন? কেন গড়লেন? কারা আছেন এই দলে? এই দলের লক্ষ্য কী ?

সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্তের বেকার, কর্মহীনদের ও সংবাদ মাধ্যম এবং আইনজীবীদের আরশোলা বলতেই ঝড় উঠেছিল। প্রধান বিচারপতির মন্তব্য ঘিরে ঝড় ওঠার মাঝেই ককরোচ জনতা পার্টি বা আরশোলা জনতা পার্টি নামে নতুন দল গড়ে আলোড়ন ফেলে দিয়েছেন অভিজিৎ ডিপকে। তিনদিনের মধ্যেই দলের সদস্য সংখ্যা এক লক্ষ হওয়ার দিকে এগোচ্ছে। সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন তৃণমূলের মহুয়া মৈত্র কীর্তি আজাদের মত দুই সাংসদও। উল্লেখ্য,১৫ মে সূর্যকান্ত একটি মামলায় বিতর্কিত হয়ে ওঠা ককরোচ বা আরশোলা সংক্রান্ত বক্তব্য রেখেছিলেন। কেবলমাত্র ব্যাঙ্গাত্মক ফর্মে ডিজিটাল বিপ্লব করার জন্য অভিজিৎ ডিপকের দল গঠিত হওয়ার পরে সাড়া পড়ে গিয়েছিল। অতঃপর পাঁচ দফা কর্মসূচি এবং ইশতেহার প্রকাশিত হয়েছে। অত্যন্ত সুস্পষ্ট যে, ব্যঙ্গাত্মক রাজনৈতিক দল হলেও তাদের ডিজিটাল বিপ্লবের লক্ষ্যর সাথে রাজনীতির যোগসূত্র রয়েছে।

কি বলেছিলেন প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত? একটি মামলা চলাকালীন শুনানিতে তিনি কর্মহীন, বেকার ছেলেমেয়েদের ‘আরশোলা’, ‘পরজীবী’র সঙ্গে তুলনা করেন। কোথাও কিছু করতে না পারলে বেকাররা সাংবাদিকতা, সমাজকর্মী, আইনের মতো পেশাকে আঁকড়ে ধরেন বলে মন্তব্য করতে শোনা যায় সূর্যকান্তকে। পরের দিনই (১৬ মে )অভিজিৎ দিপকে X-তে একটি গুগল ফর্ম পোস্ট করেছেন যেখানে “ককরোচ জনতা পার্টি”-তে যোগ দেওয়ার জন্য সাধারণ মানুষকে আমন্ত্রণ জানানো হয়। এই সংগঠনকে অলসদের সংগঠন বলে প্রথমে বলা হলেও পাঁচ দফার ইস্তেহার প্রকাশ করা হয়েছে। ইশতেহারে বলা হয়েছে, সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতিরা অবসরের পর রাজ্যসভায় যেতে পারবেন না। আসন না বাড়িয়েই সংসদে মহিলাদের ৫০ শতাংশ সংরক্ষণ দিতে হবে। দলবদল করা বিধায়ক-সাংসদরা অন্তত ২০ বছর নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না। সিবিএসই -তে নম্বর পুনর্মূল্যায়নে ইচ্ছে মতো টাকা নেওয়া যাবে না। নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসে পরীক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানোর কথা বলা হয়েছে। সংগঠন নিজেদের ধর্মনিরপেক্ষ ও গণতান্ত্রিক আখ্যা দিয়েছে।

কে এই অভিজিৎ ডিপকে? তিনি বস্টন ইউনিভার্সিটি তে পাঠরত এবং আম আদমি পার্টির সোশ্যাল মিডিয়া বা সামাজিক মাধ্যমের সঙ্গে তার বিশেষ যোগ রয়েছে। তবে আপের সঙ্গে যোগসূত্র থাকার কথা বলা হয়নি এই ব্যঙ্গাত্মক, ধর্মনিরপেক্ষ, গণতান্ত্রিক ও অলসদের সংগঠনে। মহুয়া মৈত্র এবং কীর্তি আজাদের মত দুই তৃণমূল সাংসদ এই দলে রয়েছেন যেখানে তাঁদের যোদ্ধা বলে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।

ইতিমধ্যেই প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত স্পষ্ট করেছেন যে তাঁর মৌখিক পর্যবেক্ষণ শুধুমাত্র জাল ডিগ্রি ব্যবহারকারী আইন এবং মিডিয়ার মতো পেশায় প্রবেশকারীদের জন্য ছিল, বেকারদের জন্য নয়। তাতে কি? সমাজের বিভিন্ন বর্গের মানুষের পাশাপাশি জেনজি বা যুবসমাজের কাছে এই সংগঠন অত্যন্ত গ্রহণযোগ্য হয়ে উঠেছে। প্রথম কয়েক ঘন্টার মধ্যেই পাঁচ হাজারের বেশি আবেদন জমা পড়ে অভিজিতের কাছে। অর্থাৎ সুস্পষ্ট জনতার রাজনৈতিক অসন্তোষ ও হাস্যরস মিশে গিয়েছে বিচারপতির বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে। এখন দেখার ককরোচ বা আরশোলা জনতা পার্টি কোন পথে এগোয়।রাজনৈতিক দল হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ার জন্য ককরোচ জনতা পার্টি উদ্যোগী হবে কিনা নাকি ডিজিটাল মাধ্যমে তাদের ব্যঙ্গাত্মক বিপ্লব জারি থাকবে তা সময়ই বলবে।

About Post Author