পুরন্দর চক্রবর্তী, সময় কলকাতা, ২৭ মে : দলটা কি তাহলে এতদিন নাম কা ওয়াস্তে ছিল? সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার যখন বিক্ষুব্ধ, তখন অপর বিক্ষুব্ধ নেতা অরূপ চক্রবর্তী বলছেন কর্মীদের পাশে কিভাবে থাকতে হয় তা বিজেপির কাছে শেখা উচিত তৃণমূলের। “আদতে দলটাই হয়তো এতদিন ছিল না, এখন তা বোঝা যাচ্ছে, এবার থাকবে মমতা -অভিষেক, সঙ্গে থাকবেন কল্যাণ “- তৃণমূল দলের বিক্ষুব্ধদের তালিকা ও তাঁদের প্রতিক্রিয়া দেখে বলছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষক এবং জেলা রাজনীতি সম্পর্কে ওয়াকিবহাল প্রবাদপ্রতিম সাংবাদিকরা। একদিকে,দু একজন নেতা ও সেলিব্রিটিকে বাড়তি গুরুত্ব দেওয়ায় ক্ষোভ ঝরে পড়েছে পদত্যাগী অরূপ সুশান্ত দের গলায়। অন্যদিকে, একাধিক দলীয় পদ থেকে অব্যাহতি নেওয়া কাকলি ঘোষ দস্তিদার তীব্র আক্রমণ করছেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে যিনি সম্প্রতি নতুন করে সংসদে মুখ্য সচেতকের দায়িত্ব পেয়েছেন । কাকলি ঘোষ দস্তিদার নারী-বিদ্বেষী ও কুসংস্কার-আছন্ন সাংসদ হিসেবেই দেখছেন কল্যাণকে। দলের মধ্যে বেঁধেছে সংঘাত, নারীদের প্রতি “সম্মানহীন,অমার্জিত” বক্তব্যের জন্য এবার কাকলি বিঁধছেন কল্যাণকে। বিষয়ের গভীরে যাওয়া যাক।
তৃণমূল দল ছাড়েন নি বারাসাতের চারবারের সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার তবে একের পর এক পদ দলীয় ছেড়ে দিচ্ছেন তিনি। আগেই তিনি আক্রমণ করেছিলেন আইপ্যাককে। বলেছিলেন ভুঁইফোঁড় সংস্থা। পাশাপাশি বরাবরই তাঁর নিশানায় কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, তিনিও চারবারের সাংসদ। বিষয় হল, তৃণমূল দল থেকে কল্যান বন্দ্যোপাধ্যায় কে যে মর্যাদা দেওয়া হচ্ছে সেই মর্যাদা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন কাকলি ঘোষ দস্তিদার। কাকলি ঘোষ দস্তিদার দলের কাছে বারাসাত বিধানসভা আসনের জন্য নিজের পুত্রের কথা বললেও তাঁকে গুরুত্ব দেওয়া হয়নি, অথচ কল্যান বন্দ্যোপাধ্যায়ের ক্ষেত্রে দল অন্য নীতি নিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং কাকলি ঘোষ দস্তিদার কে এক ফ্রেমে পাওয়া যায়নি। ভোটের ফল প্রকাশ পেতে না পেতেই সংসদে মুখ্য সচেতগতকের ভূমিকা থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় কাকলি ঘোষ দস্তিদার কে। অথচ কাকলি ঘোষ দস্তিদার বারবার বলে এসেছেন, মহিলা সাংসদদের কটুক্তি করতে আটকায় না কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের। বুধবার তৃণমূল দলের সব পথ থেকে অব্যাহতি চাওয়ার বিষয়ে তাঁর প্রতিক্রিয়া এবং লিখিত পত্রের বিষয়ে কাকলি ঘোষ দস্তিদার এর সঙ্গে যোগাযোগ করতেই কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সম্পর্কে সরব হন কাকলি ঘোষ দস্তিদার। সাংসদ মহুয়া মৈত্রকে করা কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের উক্তি স্মরণ করিয়ে বলেন, কাউকে দেখলে দিন খারাপ যায় এ ধরনের উক্তি অমার্জনীয়। কাকলি ঘোষ দস্তিদার এও বলেন, পরিবারের সন্তানহীন নারীদের উদ্দেশ্যেও এরকম অমার্জিত কেউ করেন না। উল্লেখ্য, সংসদে একাধিক বক্তব্য পেশের ক্ষেত্রে বিতর্কিত হয়ে উঠেছিলেন কল্যান বন্দ্যোপাধ্যায়। বিজেপি থেকে একাধিকবার তার বক্তব্যের প্রতিবাদ করা হয়। এবার দলের মধ্যেই কল্যাণকে প্রশ্ন উঠছে।।


More Stories
দল মানে কারা? প্রশ্ন তুলে পদত্যাগ অরূপ-সুশান্তের
অরুণ ভৌমিকের ১৪ দিনের জেল হেফাজত
শিলিগুড়ির বিশ্ববাংলা লোগো ভাঙা পড়ল