Home » দল মানে কারা? প্রশ্ন তুলে পদত্যাগ অরূপ-সুশান্তের

দল মানে কারা? প্রশ্ন তুলে পদত্যাগ অরূপ-সুশান্তের

Oplus_131072

চুমকী সূত্রধর ও পুরন্দর চক্রবর্তী, সময় কলকাতা, ২৭ মে : “দল মানে কারা। যখন দল থেকে নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে তখন বাকি নেতৃত্ব কোথায়??? হোমড়াচোমড়া কেষ্ট বিষ্টু কোথায় !! যাদের কনভয়ে চারটে পাঁচটা ছয়টা গাড়ি থাকতো তারা কোথায়??এটা একটা প্রতিকী প্রতিবাদ। হারটাকে স্বীকার করতে হবে। ১৬র জয় একুশের জয়টা যদি জয় হয় তাহলে ২৬ এর হাতটাও হার। এটাকে মানতে হবে।”  – প্রতীকি প্রতিবাদ জানিয়েই পদত্যাগ তৃণমূলের দুই শীর্ষ নেতার। পদত্যাগ করলেন সুশান্ত অরূপ।

নির্বাচনে দলের ভরাডুবি হলে দলের পদাধিকারীদের নৈতিক দায়িত্ব নিয়ে দলীয় পদের মোহ কাটাতে হয়। তেমনকরেই হয়তো মোহ কাটালেন সুশান্ত ঘোষ ও অরূপ চক্রবর্তী। তবে তাঁরা তৃণমূলের গঠনতান্ত্রিক এবং অভ্যন্তরীণ যেসব বিষয়ের কথা তুলে দলীয় নীতির কট্টর  সমালোচক হয়ে দেখা দিলেন তাতে মনে হতেই পারে তৃণমূল কংগ্রেসে ফাটল ধরেছে। বলা ভালো ফাটল ছিলই, ফাটলটা এতদিন পরে চোখে পড়ছে। কলকাতা পুরসভায় ফের ঘর ভাঙছে তৃণমূল কংগ্রেসের। গঠনতান্ত্রিক সমালোচনা করেই পদত্যাগ করলেন সুশান্ত ঘোষ, অরূপ চক্রবর্তী। তবে অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক ও তাৎপর্যপূর্ণভাবে এই দুই কাউন্সিলর  বিজেপিকে সাধুবাদ জানালেন। তাতেই দানা বেঁধেছে দলবদলের জল্পনা। তাঁরা এও বললেন, সেলেবদের দাপটে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের  ধারে কাছে যাওয়া যেত না।

তৃণমূলের রক্তক্ষরণ চলছেই। সময় যত এগোচ্ছে ভাঙন চওড়া হচ্ছে তৃণমূলে। বুধবার বরো চেয়ারম্যানের পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে দেন কসবার তৃণমূল কাউন্সিলর সুশান্ত ঘোষ। অ্যাকাউন্টস কমিটির চেয়ারম্যানের পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন আরেক কাউন্সিলর তথা তৃণমূলের অন্যতম মুখপাত্র অরূপ চক্রবর্তী। ১২ নম্বর বোরোর চেয়ারম্যান পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন সুশান্ত। পাশাপাশি মিউনিসিপ্যাল অ্যাকাউন্টস কমিটির পদ ছাড়ছেন অরূপ চক্রবর্তী। এর আগে ৯ নম্বর বোরো চেয়ারম্যানের পদ ছেড়েছিলেন দেবলীনা বিশ্বাস। সেসবের মাঝেই আরও দু’জনের পদত্যাগের ঘটনা কলকাতা পুরসভার অন্দরে তৃণমূল কংগ্রেসের অস্বস্তি আরও বহুগুণ বাড়িয়ে দিল। পদত্যাগ করার সময় একাধিক কারণ তুলে ধরেছিলেন দেবলীনা। তাঁর দাবি ছিল, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিভিন্ন সম্পত্তিতে নোটিস যায়। সেই নিয়ে দলের তরফে চাপ দেওয়া হচ্ছিল তাঁকে। তাই সরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। এসবের মাঝেই বুধবার পদত্যাগ করলেন সুশান্ত ঘোষ, অরূপ চক্রবর্তী ! তবে সূত্রের খবর, শুধু দেবলীনা-অরূপ কিংবা সুশান্ত নয় আরও অনেকেই পদত্যাগ করতে পারেন বলে জানা গিয়েছে।

সুশান্ত-অরূপ পদত্যাগ তো করলেন। তবে এখানেই শেষ নয়। ইস্তফা পর্ব মিটতেই নাম না করে দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও একাধিক উচ্চস্থানীয় নেতাদের নিশানা করেছেন সুশান্ত ও অরূপ। বলেছেন, হার স্বীকার তো করতেই হবে।অরূপ বলছেন, ভোটে হারের পর ২৪, ২৫ দিনে কোনও মন্ত্রীকে দেখা যায়নি। তাঁদের জন্যই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে ঘেঁষা যেত না।

তারপরই তাৎপর্যপূর্ণভাবে ধন্যবাদ জানিয়েছেন বিজেপিকে। বলেছেন, বিজেপি তৃণমূলের ঘরছাড়া ছেলেদের ঘরে ফেরাতে সাহায্য করেছে। জনপ্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব, ঘরছাড়াদের ঘরে ফেরানো।

তবেই শুরু চর্চা, এবার কি তবে বিজেপিতে যোগ দিতে চলেছেন অরূপ-সুশান্তরা? তাঁদের এই ইস্তফা ও বিজেপিকে ধন্যবাদ দেওয়া নিয়ে চর্চা শুরু হয়েছে। যদিও এরা একা নন, তৃণমূল ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকে একাধিক নেতা দলের বিরুদ্ধে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে বিষোদ্গার করেছেন। শুধু কলকাতা পুরসভাতেই নয়, জেলায় জেলায় তৃণমূলের কাউন্সিলররা পদ ছাড়তে শুরু করেছেন। দলের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে মুখ খুলতেও শুরু করেছেন অনেকে। এর মধ্যেই সোমবার কালীঘাটের বাড়িতে দমদম লোকসভা সাংগঠনিক জেলার পুরসভাগুলির কাউন্সিলরদের নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন দমদম জেলা তৃণমূলের সভাপতি তথা কামারহাটির বিধায়ক মদন মিত্র-সহ দলের শীর্ষ নেতৃত্ব। ওই বৈঠকে মূলত কাউন্সিলরদের মনোবল ধরে রাখা, সংগঠনকে ভাঙনের হাত থেকে বাঁচানো এবং আইনি লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিয়েই বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। বৈঠক থেকেই দলের তরফে পাঁচ সদস্যের একটি বিশেষ কমিটি গঠনের কথাও ঘোষণা করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই বৈঠকেই মমতা বলেছিলেন, তিনি কাউকে জোর করে আটকে রাখবেন না। যাঁদের ইচ্ছে তাঁরা যেতে পারেন। কিন্তু যাঁরা দলের সঙ্গে থাকবেন, তাঁদের নিয়েই আবার নতুন করে দল গড়বেন। তবে তারপরই দেখা গেল, বুধবার পদত্যাগ করলেন সুশান্ত ঘোষ, অরূপ চক্রবর্তী ! সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক পুরসভার কাউন্সিলরদের পদত্যাগ এবং দল ছাড়ার ঘটনা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে। সম্প্রতি দলের যাবতীয় পদ ছেড়েছেন দীর্ঘদিনের সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার। এবার সুশান্ত ঘোষ, অরূপ চক্রবর্তী ! অর্থাৎ রাজ্যে পালাবদল হতেই তৃণমূল যে ভেঙে পড়ছে তাসের ঘরের মতো।।

About Post Author