Home » ধৃত ৭, বিজেপি জেলা সভাপতিকে মেরেছিল কারা?

ধৃত ৭, বিজেপি জেলা সভাপতিকে মেরেছিল কারা?

Oplus_131072

দীপ সেন ও পুরন্দর চক্রবর্তী,সময় কলকাতা ডেস্ক, ৪ জুন :  ভোটের ফল প্রকাশের ২৩ দিন পরে, বারাসাত সাংগঠনিক জেলার বিজেপি সভাপতি রাজীব পোদ্দারের উপরে ২৭ মে হামলা হয়। এছাড়াও সেই রাতে বারাসাতের বিভিন্ন জায়গায় খন্ডযুদ্ধ হতে দেখা যায়। এই ঘটনায় ৭ জনকে গ্রেফতার করে মঙ্গলবার বারাসাত আদালতে তোলে পুলিশ। কারা এরা? এদের রাজনৈতিক পরিচয় কী? বিজেপির জেলা শীর্ষ নেতৃত্ব ২৭ তারিখের ঘটনা ও হামলার জন্য বারবার তৃণমূলের দিকে ইশারা করলেও ধৃতরা আদালত চত্বরেই দাবি করেন তারা বিজেপি কর্মী। এখন প্রশ্ন উঠছে, ভোটের ফল প্রকাশের ২৩ দিনের মাথায় ধৃতদের স্বঘোষিত বিজেপি উল্লেখের মধ্যে কোন সমীকরণ রয়েছে?

রাজীব পোদ্দার হাসপাতালে কয়েকদিন কাটিয়ে কিছুটা সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। তাঁর উপর হামলা কারা করেছিল তা নিয়ে তিনি স্পষ্ট কিছু না বললেও ইতিমধ্যেই তিনি আইনগত ব্যবস্থা নিতে পারেন বলেই জানা গিয়েছে। রাজীব পোদ্দার কে মারের ঘটনায়  বারাসাত থানার সামনে অবস্থান বিক্ষোভ হয়েছে বিজেপির পক্ষে । উল্লেখ্য, বিষয়টি বিজেপির আদি ও নব্যের সংঘাত বলেই মনে করা হয়েছিল।  ঝামেলার দিন আক্রান্ত বিজেপি কর্মীরা দাবি করেছিল তাদেরকে মারধর যারা করেছে তারাও বিজেপি কর্মী। এবার পুলিশ যাদের ধরল তাদের দাবি সমীকরণকে জটিল করে তুলেছে কারণ তারা দৃঢ়স্বরে বলেছে তারা জেলা সভাপতি কে মারধর করে নি। তাহলে,রাজীব পোদ্দারকে মারধর করল কারা?

মঙ্গলবার ২৭ তারিখের ঘটনার সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে যাদের আদালতে নিয়ে আসা হয় তাদের নাম পুলিশ জানিয়েছে। এরা হল -পল্লব সিকদার,শংকর মাহাতো,রাজু মাহাতো, কৌশিক দাস,সম্রাট ঘোষ, xপ্রীতম ঘোষ, প্রণব মন্ডল। এরা প্রত্যেকেই আলাদা আলাদা করে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে জানায়, তারা প্রত্যেকেই বিজেপি কর্মী এবং তারা ২৭ তারিখ ঘটনার রাতে উপস্থিত ছিল কিন্তু রাজীব পোদ্দারকে তারা মারধর করেনি।

এ নিয়ে সংশয়ের অবকাশ নেই, রাজীব পোদ্দার বারবার বিতর্কিত থেকেছেন দলের অভ্যন্তরে। তাঁর বিরুদ্ধে প্রচলিত তত্ত্ব যে, তিনি যে কোন বিষয়ের রাজনৈতিক গুরুত্ব উপলব্ধি করতে সময় নেন  এবং অনেক সময় ভুল বুঝে ভুল সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেন।  রাজীব দলের যুব সংগঠনে যুক্তদের বারবার অকারণে কটু কথা বলেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। দলের এক যুবনেতাকে রাজীবের গালাগালি দেওয়ার অতীতের ভাইরাল অডিও সামাজিক গণমাধ্যমে আজও ঘুরে বেড়ায়। ফলে তার বিরুদ্ধে ক্ষুব্ধ দলীয় কর্মীর সংখ্যা কম নয়। এও হতে পারে, আক্রমণকারী হিসেবে ধৃত যারা এই মুহূর্তে নিজেদের বিজেপি দাবি করছেন তারা কয়েকদিন আগে তৃণমূল দলের কর্মী ছিলেন। আরেকটি সূত্রের খবর, অনুযায়ী একটি পিকনিকে গিয়ে ঝামেলার সুপ্রভাত ঘটান রাজীব পোদ্দার নিজেই । সবমিলিয়ে, বিষয়টি সামনে না আনা হলেও  দলীয় স্তরেই মনে করা হচ্ছে নব্য ও আদির সংঘাতে কার্যত নিজেই  ঝামেলার সূত্রপাত ঘটিয়েছিলেন রাজীব পোদ্দার। মুশকিল হল, রাজীব পোদ্দার  বারাসাতের বিধায়ক শংকর চ্যাটার্জীর ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত নন। দলীয় আশঙ্কা, একটি ক্লাব এবং পিকনিক থেকে ওঠা ঝামেলায় আচমকা মার খাওয়া সভাপতি রাজীবের পদক্ষেপ নতুন করে বারাসাত বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়কের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন না করে! কারণ বিধায়ক নিজেই চাইছেন বারাসাত বিধানসভা কেন্দ্রের আইনশৃঙ্খলা যেন অত্যন্ত সুশৃংখল থাকে।।

About Post Author