সময় কলকাতা ডেস্ক, ১৪ মার্চ: পূর্ব রেলের শিয়ালদা ডিভিশনের ডিআরএম দীপক নিগম দাবি করেছিলেন, মঙ্গলবার উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা শুরু দিন স্বাভাবিক চলবে লোকাল ট্রেন। কিন্তু প্রতিশ্রুতিই সাড়, এদিনও অস্বাভাবিক দেরি চলছে শিয়ালদা-রানাঘাট শাখার সমস্ত লোকাল ট্রেন। এদিন সকাল থেকেই ব্যারাকপুর, পলতা, ইছাপুর, শ্যামনগর, জগদ্দল বা কাঁকিনাড়া স্টেশনে দেখা গেল তুমুল ভিড়। স্টেশনেই উৎকন্ঠায় ঠায় দাঁড়িয়ে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার্থীরা এবং তাঁদের অভিভাবকরা। আপ ও ডাউনে একেকটি ট্রেন আধঘণ্টা থেকে এক ঘণ্টার বেশি দেরিতে চলছে। ফলে চরম ভিড় ট্রেনগুলিতে। একে অফিস টাইম অন্যদিকে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা, ফলে মাত্রা ছাড়াল ভিড়। এখন প্রশ্ন উঠছে কেন স্বাভাবিক হল না লোকাল ট্রেন পরিষেবা?

শিয়ালদা শাখার নৈহাটি ও কল্যাণীর মধ্যে অটোমেটিক সিগনাল এবং তৃতীয় লাইন চালু করার কাজ করার কাজ চলছে। সোমবারই শিয়ালদার ডিআরএম জানিয়েছিলেন নৈহাটিতে নন ইন্টারলকিংয়ের কাজ সোমবার রাতের মধ্যেই শেষ হয়ে যাবে। তাই বাতিল ট্রেনের সংখ্যা কমবে। আর অন্যান্য ট্রেনগুলিও সময় চালানোর চেষ্টা করা হবে। কিন্তু আদতে তা হল না। যদিও রেল বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানিয়েছে, নৈহাটি থেকে কল্যাণী পর্যন্ত নন-ইন্টারলকিংয়ের কাজের সময়সীমা আরও বাড়ানো হয়েছে। কাজ চলবে ২০ মার্চ পর্যন্ত। রেল স্পষ্ট জানিয়েছে, নৈহাটিতে কাজ শেষ হলেও কল্যাণী পর্যন্ত কাজ সম্পন্ন করতে আরও সাত দিন সময় লাগবে। যদিও শিয়ালদার ডিআরএম জানিয়েছেন, ২০ মার্চ পর্যন্ত প্রতিদিন শিয়ালদা থেকে কল্যাণীর মধ্যে ১৩ জোড়া এবং নৈহাটি-রানাঘাটের মধ্যে ৬ জোড়া লোকাল বাতিল থাকবে।

রেলের কর্তারা জানিয়েছেন, কোনও এলাকায় নন-ইন্টারলকিং কাজ চলার সময় দূর্ঘটনা এড়াতে ব্যাপকভাবে ট্রেন নিয়ন্ত্রন করতে হয়। পাশাপাশি পাওয়ার ব্লকেরও প্রয়োজন হয়। অর্থাৎ ওভারহেড তারে বিদ্যুৎ সংযোগ থাকে না। তাই ট্রেন ওই লাইনে ট্রেন বাতিল করা হয়। আবার যে ট্রেনগুলি চলাচল করে তাও অস্বাভাবিক দেরিতে চলে। রেলকর্মীদের কথায়, কোনও স্টেশনে যখন নন-ইন্টারলকিংয়ের কাজ চলে তখন সেখানকার সমস্ত মোটর পয়েন্ট নিউট্রাল করে দেওয়া হয়। এরপর ম্যানুয়ালি পয়েন্ট সেট করে ধীরে ধীরে ট্রেনগুলি ওই এলাকা পার করানো হয়।

রেল সূত্রে জানা যাচ্ছে নৈহাটি স্টেশন যেহেতু শিয়ালদা ও হাওড়া শাখার মধ্যে ক্রস ওভার পয়েন্ট তাই এখানে কাজ শেষ হতে দেরি হল। নৈহাটি স্টেশনের আওতায় ১৬৬টি মোটর পয়েন্ট রয়েছে। একইরকম হালিশহরে ২৮টি, কাঁচড়াপাড়ায় ৬টি এবং কল্যাণীতে ৫৮টি মোটর পয়েন্ট রয়েছে। এই মোটর পয়েন্ট যখন নিউট্রাল থাকে তখন ম্যানুয়ালি পয়েন্ট লক করার জন্য একেকটি পয়েন্টকে ক্র্যাঙ্ক হ্যন্ডলের সাহায্যে ১৬৪ বার ঘোরাতে হয়। তবেই পয়েন্টটি লক হয় এবং ট্রেন যেতে পারে। ফলে বোঝাই যাচ্ছে প্রক্রিয়াটি সময় সাপেক্ষ। নৈহাটি থেকে হালিশহরের মধ্যে ১০ কিমি নন-ইন্টারলকিং কাজ শেষ হয়েছে। এখন চলছে হালিশহর থেকে কাঁচড়াপাড়া পর্যন্ত কাজ। এরপর কাঁচড়াপাড়া থেকে কল্যাণী পর্যন্ত কাজ শুরু হবে। ফলে ভোগান্তির শেষ হতে আরও সাতদিন।


More Stories
দুশ্চিন্তার দিন শেষ! আয়ুষ্মান কার্ড এখন হাতের মুঠোয়
আমডাঙায় ফুড প্লাজা ভাঙচুর, অভিযোগের তির বিজেপির দিকে
চুরমার বারাসাতের তৃণমূল নেতা অরুণ ভৌমিকের বাড়ি ও পার্টি অফিস, মেরে ফেলা হতে পারে আশঙ্কা স্ত্রীর