দীপ সেন,সময় কলকাতা , ২৪ সেপ্টেম্বর : এলাকার বাসিন্দাই নন। দত্তপুকুরে ঘুরতে এসেছিলেন রাজনৈতিক নেত্রী হয়ে ওঠা মেয়ে দেবযানীর বাড়িতে। নিজের বাড়ি আর ফেরা হল না বেবিরানী সর্দারের। তাঁকে দুই দুষ্কৃতী খুন করেছে বলে অভিযোগ করেছেন এলাকার প্রাক্তন তৃণমূল পঞ্চায়েত প্রধান দেবযানী সর্দার।

দত্তপুকুর ১ নম্বর পঞ্চায়েতের ব্যায়াম সমিতি এলাকায় প্রাক্তন তৃণমূল পঞ্চায়েত প্রধান দেবযানী সরদারের মা বেবিরানী সরদারের মৃত্যু ঘিরে চাঞ্চল্যও ছড়িয়েছে। ভারী বস্তু দিয়ে মাথায় একাধিকবার আঘাত করা হয় যার ফলেই রক্তক্ষরণে মৃত্যু।বেশ কিছুটা সময় পরেও চাপা উত্তেজনা থেকেই গিয়েছে ।তাকে খুন করা হয়েছে বলে তাঁর মেয়ে দেবযানী জানিয়েছেন, কিন্তু কেন এই খুন তাঁর বিন্দু বিসর্গ তিনি অনুমান করতে পারছেন না বলে জানিয়েছেন । সবচেয়ে বড় কথা, পুলিশের ওপরে বিন্দুমাত্র আস্থা নেই নেত্রীর। তিনি বলছেন, আইনি প্রতিকার কতদূর কি হবে বলা মুশকিল। কেন তিনি এরকম বলছেন তার ব্যাখ্যাও মিলছে না।
মাস্ক পরিহিত দুই দুষ্কৃতী বাড়িতে ঢুকে বয়স্কা মহিলাকে ভারী বস্তু পিটিয়ে খুন করেছে বলে পরিবারের তরফে জানানো হয়েছে । কাছে শুয়ে থাকা দেবযানীর মেয়ে ঘুমের ভান করে কোনওক্রমে বেঁচে যায়। এই খুন কোনও শত্রুতা থেকে কি না তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।ঘটনাস্থলে দত্তপুকুর থানার পুলিশ। এখনও পুলিশ এবিষয়ে মুখে কুলুপ এঁটে আছে। তবুও সুদূর পূর্ব মেদিনীপুরের বাসিন্দা নিজের বাড়ি ছেড়ে মেয়ের বাড়ি এসে খুন হবেন কেন তা নিয়ে ধন্ধ রয়েছে।
পূর্ব মেদিনীপুরের বাসিন্দা বেবিরানী সর্দার সম্প্রতি দক্ষিণ কলকাতায় নাকতলায় থাকতেন । উত্তর চব্বিশ পরগনার দত্তপুকুরে এসেছিলেন স্রেফ বেড়াতে তাহলে কেন এই খুন? প্রাথমিকভাবে পুলিশ কিছু না জানালেও দুটি সন্দেহ এলাকার লোকেদের মাথায় ঘুরছে। প্রথমত, বেবিরানী যে মেয়ের বাড়িতে এসে ঠাঁই নিয়েছিলেন তা সম্ভবত আততায়ীরা জানত না, ভ্রমবশত অন্ধকারে মেয়ে দেবযানী ভেবে মাকে খুন করে বসে তাঁরা। দ্বিতীয়ত, ভুল নাও হয়ে থাকতে পারে মনে করছেন এলাকাবাসী। প্রতিহিংসা স্পৃহা চরিতার্থ করতে বেবিরানী সর্দারকে খুন করা হয়ে থাকতে পারে। কেন এই প্রতিহিংসা তার কারণ হিসেবে একাধিক সম্ভাবনা এলাকাবাসীর মাথায় কাজ করছে। রাজনৈতিক নাকি ব্যক্তিগত শত্রুতা,কি এর কারণ?
এলাকার মানুষরা মনে করছেন, হতেই পারে নিহত বেবিরানী সর্দারের ওপরে ক্রোধ এই খুনের মোটিভ। কিন্তু এও মনে করা হচ্ছে, তাঁর মেয়ে দেবযানী সর্দারের ওপরে প্রতিহিংসাবশত এই খুন হয়ে থাকতে পারে। দেবযানী ভেবে তাঁর মাকে মারা হোক বা না হোক,দেবযানী সর্দারের ওপরে কিছু মানুষের বিভিন্ন কারণে ক্ষোভ রয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক সময় এলাকার মানুষ সরব থেকেছেন। নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক মানুষরা বলছেন, দেবযানী নিজের ঔদ্ধত্য ও দুর্ব্যবহারের কারণে এলাকায় মোটেই জনপ্রিয় নন। এলাকার মানুষই আবার বলছেন, এতবড় কি কারণ ছিল যার বদলে পরিণতি খুন তা তাঁদের মাথায় ঢুকছে না। ধোঁয়াশা তাই থেকেই যাচ্ছে।।


More Stories
চিকিৎসকের বঙ্গসংস্কৃতির উদযাপন নববর্ষে
মোথাবাড়ি কাণ্ডের অশান্তির নেপথ্য “খলনায়ক” মোফাক্কেরুল ইসলাম গ্রেফতার কিসের ইঙ্গিত?
আরেক অভিনেতা প্রণবের অকালপ্রয়াণ