Home » বিশ্বকাপে প্রথম অঘটন, গতবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের হারিয়ে ইতিহাস আফগানিস্তানের

বিশ্বকাপে প্রথম অঘটন, গতবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের হারিয়ে ইতিহাস আফগানিস্তানের

স্পোর্টস ডেস্ক, সময় কলকাতা, ১৫ অক্টোবর: চলতি বিশ্বকাপের প্রথম অঘটন। গতবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের বিরুদ্ধে দাপুটে জয় আফগানিস্তানের। রবিবার দিল্লির অরুণ জেটলি স্টেডিয়ামে থ্রি লায়নদের বিরুদ্ধে ৬৯ রানে জয় পাঠানদের। প্রথমে ব্যাট করে ৪৯.৫ ওভারে ২৮৫ রান তোলে আফগানরা। জবাবে ব্যাট করতে নেমে ২১৫ রানের শেষ গতবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের ইনিংস।

একটি দল গতবারের বিশ্বসেরা। নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে হেরে চলতি বিশ্বকাপে অভিযান শুরু করেছে ইংল্যান্ড। তবে দ্বিতীয় ম্যাচে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে দাপুটে জয় পেয়েছে। অপরদিকে গত ২ টি ম্যাচের ২ টিতেই হারতে হয়েছে আফগানিস্তানকে। ফলে অনেকেই ভেবেছিলেন, আফগানিস্তানকে সহজেই হারিয়ে নিজেদের দ্বিতীয় জয় নিশ্চিত করবে তিন সিংহের দেশ। দিনের শুরুতে টস জিতে আফগানদের প্রথম এই ব্যাটিং করতে পাঠান ইংল্যান্ড অধিনায়ক জস বাটলার। লক্ষ্য ছিল কম রানের মধ্যে আফগানিস্তানের ইনিংসকে বেঁধে রাখার। তবে বাস্তবে হল উল্টো। বিশ্বসেরা বোলিং লাইন আপের সামনে দাপুটে ব্যাট করলেন আফগান ওপেনার রহমনুল্লাহ গুরবাজ। তাকে যোগ্য সঙ্গ দিলেন ইব্রাহিম জাদরান। প্রথম উইকেটে দুজনে মিলে গড়লেন ১১৪ রানের জুটি। দলের বড় রানের ভিত গড়ে প্যাভেলিয়ানে ফিরলেন জাদরান। এরপর তিন ওভার এর মধ্যে তিনটি উইকেট হারিয়ে কিছুটা চাপে পড়ে যায় আফগান শিবির। ৫৭ বলে ৮০ রান করলেন গুরুবাজ। তিনি রান আউট হতে আফগানিস্তানের রানের গতি কিছুটা কমে যায়। মিডিল অডারে দায়িত্বশীল ইনিংস খেলেন ইকরাম আলিখিল। তাঁর ব্যাট থেকে এল ৬৬ বলে ৫৮ রান। শেষের দিকে ১৬ বলে ২৮ রানের ক্যামিও ইনিংস খেলেন মহম্মদ নবী। ৪৯.৫ ওভারে ২৮৪ রানে শেষ হয় আফগানিস্তানের ইনিংস। ইংরেজদের এদিনের সফলতম বোলার আদিল রাশিদ। ৩ টি উইকেট নেন তিনি।

আরও পড়ুন: ম্যাচ চলাকালীন ঢুকে পড়েছিলেন মাঠে, খেতে হল ইংল্যান্ড পেসারের জোর ধাক্কা..

২৮৫ রান তারা করতে নেমে শুরু থেকে উইকেট হারাতে থাকে গতবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা। টপ অর্ডারে ব্যর্থ হলেন জনি বেয়ারস্টো ও জো রুট। বেয়ারস্টো ফিরলেন ২ রানে। ১১ রানের মাথায় বোল্ড হন রুট। কিছুটা লড়াই করেন দাউহিদ মালান। ৩৯ বলে ৩২ রান করেন এই ইংরেজ ওপেনার। বেশি ক্ষণ ক্রিজে থাকতে পারেননি অধিনায়ক বাটলার। মাত্র ৯ রানে প্যাভিলিয়নে ফেরেন তিনি। মিডল অর্ডারে রান পাননি লিয়াম লিভিংস্টোন ও অলরাউন্ডার স্যাম কারেন। দুজনের ব্যাট থেকেই আসে ১০ রান। একমাত্র উইকেট আগলে লড়াই করছিলেন হ্যারি ব্রুক। মুজিবের বলে তিনি ফিরতেই ম্যাচের ভাগ্য লেখা হয়ে গিয়েছিল। উপমহাদেশের উইকেটে স্পিনারদের পাশাপাশি দারুন বল করলেন আফগান পেসাররা। বোলারদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় দিল্লিতে নতুন ইতিহাস লিখল পাঠানদের দেশ। শেষের দিকে আদিল রশিদ (২০), মার্ক উড (১৮) ও রিচি টপলি (১৫) লড়াই করলেও শেষ রক্ষা হয়নি। ৬৯ রানের ব্যবধানে ম্যাচ জিতে নেয় আফগানিস্তান। আফগানিস্তানের হয়ে ৩ টি করে উইকেট নেন মুজিব উর রহমান ও রশিদ খান। দুটি উইকেট নেন মহম্মদ নবি। একটি করে উইকেট নেন ফারুকী ও নবীন উল হক।

About Post Author