সময় কলকাতা ডেস্ক, ১২ ডিসেম্বর: রেশন দুর্নীতি মামলার তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই যেন ঘনীভূত হচ্ছে রহস্য। রেশন দুর্নীতির তদন্তে একাধিক নতুন তথ্য উঠে এসেছে ইডির হাতে। রেশন দুর্নীতিকাণ্ডে এবার আরও বিপাকে রাজ্যের বনমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক। অবশেষে রেশন দুর্নীতি মামলায় চার্জশিট জমা দিল ইডি। এই চার্জশিটে অভিযুক্ত হিসেবে রয়েছে ধৃত প্রাক্তন খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক ও আটাকলের মালিক বাকিবুর রহমানের। সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, ইডির পেশ করা ওই চার্জশিটে বাকিবুরকে মূল চক্রী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। সেইসঙ্গে রেশন দুর্নীতিকাণ্ডে প্রায় তিরিশ কোটি টাকার দুর্নীতি হয়েছে, তাও উল্লেখ করা হয়েছে। ইডির দাবি, জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের প্রভাবেই বাকিবুর দুর্নীতির পুরো টাকা ঘুরপথে পাঠাতেন প্রাক্তন খাদ্যমন্ত্রীকে। মঙ্গলবার রেশনবন্টন দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত ১২ জনের বিরুদ্ধে এই চার্জশিট পেশ করে ইডি। তাতে প্রাক্তন খাদ্যমন্ত্রী তথা বর্তমান বনমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক এবং রেশন ডিলার বাকিবুর রহমান ছাড়াও ১০টি সংস্থার নাম রয়েছে। এর মধ্যে পাঁচটি বাকিবুর এবং বাকি পাঁচটি জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের নামে নথিভুক্ত বলে খবর।
আরু পড়ুন বাংলা জুড়ে শীতের আমেজ, হেমন্তের হিমেল হাওয়ায় ক্রমশ কমছে তাপমাত্রা
অন্যদিকে, রেশন দুর্নীতির তদন্তে নেমে ইতিমধ্যেই ইডির জানতে পেরেছে রাজ্যের একাধিক সমবায় কৃষি উন্নয়ন সমিতির চাবিকাঠি প্রাক্তন খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক ঘনিষ্ঠ ব্যবসায়ী বাকিবুর রহমানের হাতে। সমিতিগুলির আইডি ও পাসওয়ার্ড জানতেন বাকিবুর! এমনকী সেগুলির নিয়ন্ত্রণও ছিল এই ব্যবসায়ীর হাতে। সেই সুবিধা নিয়ে নিজেদের ইচ্ছামতো ভুয়ো কৃষকদের নাম ঢোকানো হত সমবায় কৃষি উন্নয়ন সমিতির তালিকায়। এই পদ্ধতিতে রেশন বণ্টনের নামে কোটি কোটি টাকা তছরূপ করেছেন বাকিবুর ও তাঁর সঙ্গীরা, এমনই অভিযোগ ইডির। সূত্রের খবর, ব্যবসায়ী বাকিবুর রহমান গ্রেফতার হওয়ার পর তাঁর একাধিক চালকল ও গমকলে তল্লাশি চালানো হয়। ইডির হাতে উঠে আসে, বাকিবুরের প্রত্যেকটি চালকলই রাজ্য সরকারের নথিভুক্ত ছিল। এই মিলগুলিতে আসত রেশনের চাল। বিপুল পরিমাণের সেই চাল সরিয়ে বাজারে প্যাকেটজাত করে বিক্রি করা হত।
উত্তর ২৪ পরগনার দেগঙ্গায় বাকিবুরের একটি চালকলে তল্লাশি চালিয়ে ১০৯টি স্ট্যাম্প ও সিল উদ্ধার হয়। সেগুলির মধ্যে যেমন খাদ্য দফতরের সঙ্গে যুক্ত কয়েকটি সরকারি সংস্থার আধিকারিকদের স্ট্যাম্প রয়েছে, তেমনই রয়েছে বিভিন্ন জেলার বেশ কয়েকটি সমবায় কৃষি উন্নয়ন সমিতির স্ট্যাম্প আর সিল। ওই সমিতিগুলি নিয়ে ইডি তদন্তে নামে। ইডি সূত্রে জানা গিয়েছে, এই ব্যাপারে সমিতির কয়েকজন কর্তাকেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তদন্তের পর ইডির গোয়েন্দারা নিশ্চিত হন যে, রাজ্যের বেশ কয়েকটি সমবায় কৃষি উন্নয়ন সমিতির নিজস্ব আইডি ও পাসওয়ার্ড বাকিবুর রহমানের দখলে ছিল। বাকিবুর নিজের প্রয়োজনে ইচ্ছামতো তাঁর কর্মচারীদের দিয়ে সমিতিগুলির কম্পিউটার ব্যবহার করতেন। সেই সূত্রেই ইচ্ছামতো ওই সব সমিতির ফাইলে ভুয়ো কৃষকদের তালিকা তৈরি করা হতো। ইডির তদন্তে প্রকাশ, বহু কৃষক নিজেদের ফলানো শস্য সরাসরি সরকার পরিচালিত সমবায়কে না দিয়ে বাধ্য হতেন এজেন্টদের হাতে তুলে দিতেন। সরাসরি অথবা লোক মারফত এই এজেন্টদের পরিচালনা করতেন বাকিবুর রহমানই। এমনই অভিযোগ ইডির।


More Stories
সোনারপুরে অভিষেককে মারধর, মেরে জামা ছিঁড়ে দেওয়া হল অভিষেকের
কেক কেটে ঈদ উদযাপন
আরেকটি পদত্যাগ, এবার শান্তনু সেন