স্পোর্টস ডেস্ক, সময় কলকাতা, ৭ সেপ্টেম্বর: ব্যালন ডি’অর। ফুটবলের সবথেকে ঐতিহ্যবাহী ও মর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিগত স্তরে সেরার তকমা। নামটা শুনলেই মনে পড়ে যায় অগণিত ফুটবল তারকাদের। যারা জিতেছেন এই সেরার শিরপা। জায়গা করে নিয়েছেন ইতিহাসের পাতায়। এদের মধ্যে সব থেকে উল্লেখযোগ্য আর্জেন্টিনার মহাতারকা লিওনেল মেসি। সর্বাধিক আটবার এই পুরস্কার জিতেছেন তিনি। তারপরেই রয়েছেন মেসির চিরপ্রতিদ্বন্দী বলে পরিচিত ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো। পর্তুগালের নক্ষত্র মোট ছয় বার ব্যালন ডি অর নিজের নামে করেছেন। তারপরেই রয়েছেন ফ্রান্সের মিশেল প্লাতিনি, নেদারল্যান্ডসের জোহান ক্রুয়েফ ও মার্কো ভ্যান বাস্তেন। তিনজনেই তিনবার করে এই পুরস্কার জিতেছেন। এছাড়াও ব্যালন ডি’অর জয়ীর তালিকায় রয়েছেন ক্রোয়েশিয়ার লুকা মদ্রিচ, ব্রাজিলের রোনাল্ডিনহো, ফ্রান্সের ১৯৯৮ বিশ্বকাপের নায়ক জিনেদিন জিদান। সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে পরবর্তী ব্যালন ডি’অর জিততে পারে এমন সম্ভাব্য ফুটবলারদের নাম। কার হাতে উঠবে এবারের সেরার খেতাব দেখতে মুখিয়ে আছেন ভক্তেরা।
কিন্তু কী এই ব্যালন ডি’অর ?
ব্যালন ডি’অর একটি ফরাসি শব্দ যার ইংরেজি অর্থ সোনার বল। একটি ফুটবল মরশুমে সব থেকে ভাল প্রদর্শন করা ফুটবলারকে পরের বছর আনুষ্ঠানিক ভাবে দেওয়া হয় একটি সোনার ফুটবল। ফরাসি এক ম্যাগাজিন এই অনুষ্ঠানের আয়োজক। তারাই উদ্যোগ নিয়ে ১৯৫৬ সাল থেকে প্রতি বছর দিয়ে আসছে ব্যালন ডি’অর। ১৯৫৬ সালে প্রথম বার তারা এই পুরস্কার তুলে দিয়েছিল ইংরেজ ফুটবলার স্ট্যানলি ম্যাথিউয়ের হাতে।
সেরাদের নির্বাচন করে কে?
ব্যালন ডি’অর কাকে দেওয়া হবে, ব্যক্তিগতভাবে বর্ষসেরার শিরোপা কার প্রাপ্য, তা নির্বাচন করা হয় ভোটের মাধ্যমে। আন্তর্জাতিক ফুটবল ফেডারেশনের বা ফিফার রাঙ্কিংয়ে প্রথম একশোর মধ্যে থাকা দেশ গুলির প্রত্যেকটি থেকে একজন করে ক্রীড়া সাংবাদিক নিয়ে গঠন করা হয় একটি কমিটি। এই কমিটির সিংহভাগ ভোট যে ফুটবলারের পক্ষে যায়, তার হাতেই তুলে দেওয়া হয় সোনার ফুটবল। ভালো ফুটবল খেলার পাশাপাশি মাঠে ভালো ব্যবহার, রেফারির সঙ্গে সহযোগিতা মূলক আচরণ ব্যালন ডি’অরের ভোট জেতার ক্ষেত্রে বিবেচ্য।

এবারে কার হাতে উঠতে পারে ব্যালন ডি’অর?
প্রতি বছরই ব্যালন ডি’অর দেওয়ার আগে আয়োজক ফরাসি ম্যাগাজিন একটি তালিকা প্রকাশ করে। সেই তালিকায় নাম থাকে ৩০ জন ফুটবলারের। এবছর ব্যালন ডি’অরের সম্ভাব্যদের তালিকাও ইতিমধ্যেই প্রকাশিত হয়েছে। সেই তালিকায় রয়েছেন ফ্রান্সের এমবাপ্পে, ইংল্যান্ডের জুড বেলিংহ্যাম, জার্মানির টোনি ক্রুস, ব্রাজিলের ভিনিসিয়াস জুনিয়র ও নরওয়ের আর্লিং হালান্ডের মতো তারকারা। ২০২৪ সালের ব্যালন ডি’অর ঘোষণা করা হবে আগামী ২৮ অক্টোবর। তবে পুরস্কারের লড়াইয়ে নিজেদের প্রমাণ করার সুযোগ শেষ হয়ে গিয়েছে। সাধারণত ব্যালন ডি’অরের বিবেচ্য সময় ১ বছর, এ দফায় যার সময় ২০২৩ সালের ১ আগস্ট থেকে ২০২৪ সালের ৩১ জুলাই।

ফিফা বিশ্বকাপের পর ফুটবলে সবচেয়ে বেশি মাতামাতি হয় উয়েফা ইউরো ও কোপা আমেরিকা নিয়ে। তাই এই দুটি প্রযোগিতায় ফুটবলারদের পারফরমেন্স ভোটারদের সিদ্ধান্ত গ্রহণে অনুঘটকের কাজ করবে। কোপায় শেষ ম্যাচে নির্বাসিত থাকায় খেলতে না পারলেও ভিনিসিয়াস জুনিয়ারকেই এবারের ব্যালন ডি’অরের দাবিদার মনে করছেন নেইমারের মত একাধিক ব্রাজিলিয়ান তারকারা। পিছিয়ে নেই ভিনির রিয়াল মাদ্রিদের সতীর্থ জুড বেলিংহ্যামও। ২১ বছর বয়সী এই ইংরেজ মিডফিল্ডার প্রথম মরশুমেই মাদ্রিদের হয়ে অসাধারণ ফুটবল খেলেছেন। ব্যক্তিগত সরমুমে ৪২টি ম্যাচ খেলে ১৩টি অ্যাসিস্ট সহ করেছেন ২৩টি গোল। বাদ রাখা যায় না ফ্রান্সের এমবাপ্পেকেও, ব্যালন ডি’অর ছুটতে পারে তার দিকেও। শেষ বিশ্বকাপের ফাইনালে হ্যাট্রিক হাঁকানো এই ফুটবলার পিএসজির হয়ে শেষ মরসুমে ৪৮ ম্যাচে করেছেন ৪৪টি গোল।
প্রসঙ্গত, ২১ বছর পর এই প্রথম ব্যালন ডি’অরের তালিকায় নেই মেসি ও রোনাল্ডো, যা বদলে দিয়েছে ব্যালন ডি’অরের সমীকরণ। তাই স্পষ্ট করে এখনই কোন ভবিষ্যৎবাণী করা সম্ভব নয়। তালিকার সকলের ভিন্ন যুক্তিতে সেরার দাবিদার।
#Ballond'Or
#ArgentinesuperstarLionelMessi
#MichelPlatini, #JohanCruyff
#MarcovanBasten
#InternationalFootballFederation
#UEFA Euro
#Copa America


More Stories
ইউনিটি কাপ থেকে শূন্য হাতে ফিরছে ভারত
লালহলুদের ইলিশ উৎসব ধূপগুড়িতে
আকিব নবীর হয়ে সরব বেঙ্গসরকার, তাঁর দাবি ঘরোয়া ক্রিকেট বন্ধ করে দেওয়া হোক