সময় কলকাতা ডেস্ক:- ‘গুজবে কান নয়’, মহাকুম্ভে ভয়াবহ দুর্ঘটনার পর মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের বার্তা। পুণ্যার্থীদের কাছে তিনি আবেদন জানালেন, কোনওরকম গুজবে কান না দেওয়ার জন্য। পাশাপাশি দুর্ঘটনার পর পর অমৃতস্নান বাতিল করেছিল আখড়া পরিষদ। তবে বর্তমানে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ার পর ফের স্নানপর্ব শুরু করার বার্তা দিয়েছে আখড়া পরিষদ।
ময়দানে নামলো এনএসজি ও আধা সামরিক বাহিনী
এদিকে এবার মহাকুম্ভ প্রাঙ্গণ ভিড় সামলাতে ময়দানে নামলো এনএসজি ও আধা সামরিক বাহিনী। আকাশ পথেও চলছে হেলিকপ্টার থেকে কড়া নজরদারি। মৌনী অমাবস্যার ‘পুণ্যস্নান’ উপলক্ষে কোটি কোটি মানুষ ভিড় জমিয়েছিল মহাকুম্ভে। তার মধ্যে আচমকা হুড়োহুড়িতে পদপিষ্ট হয়ে ২০ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন কমপক্ষে আরও ৪০জন। এই ঘটনায় বদলে গিয়েছে মহামেলার পরিবেশ। আতঙ্কিত পুণ্যার্থীদের একাংশ দ্রুত প্রয়াগরাজ ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। যদিও পদপিষ্টের ঘটনার পর পরই উত্তরপ্রদেশ সরকারের তরফে একাধিক পদক্ষেপ করা হয়েছে। সতর্ক প্রশাসন জরুরি বার্তা দিচ্ছে—ত্রিবেণী সঙ্গমের দিকে না গিয়ে কাছাকাছি ঘাটে স্নান করার। আকাশে ঘুরছে নজরদারি হেলকপ্টার। মেলার মাঠে সতর্ক পাহারায় পৌঁছে গিয়েছে এনএসজি, আধাসেনা।

মৌনী অমাবস্যার ‘অমৃতস্নান’ উপলক্ষে মঙ্গলবার রাত্রি দুটো নাগাদ ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে মহাকুম্ভে। স্নানের জন্য ত্রিবেণী সঙ্গম ঘাটের দিকে ভিড় জমিয়েছিলেন লক্ষ লক্ষ পুণ্যার্থী। সেখানেই ১১ থেকে ১৭ নম্বর খুঁটির মাঝে ভিড়ের চাপে ব্যারিকেড ভেঙে যায়। বহু পূর্ণার্থী কে সেই সময় ঘাটের দিকে দৌড়ে যেতে দেখা যায়। সেই সময়ই ঘটে যায় দুর্ঘটনা। যার জেরে পদপিষ্ট হন বহু মানুষ। দুর্ঘটনায় ৫০ থেকে ৬০ জন আহত হয় এবং প্রথমে পদপৃষ্ট হয়ে ১০ জন মানুষের মৃত্যু হয় পরে আরও ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। আহতদের উদ্ধার করে নিয়ে যাওয়া হয় কুম্ভের অস্থায়ী হাসপাতালে। এই ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই আতঙ্ক চরম আকার নেয়। মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথকে ফোন করে ঘটনার বিস্তারিত খোঁজ নেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সবরকম সাহায্যের আশ্বাস দেওয়া হয়।

আখড়া পরিষদের তরফ থেকে জানানো হয়
মঙ্গলবার রাত ১ টা থেকে বুধবার বেলা ৪টে পর্যন্ত ৪ কোটি মানুষ পুণ্যস্নান করেছেন। আখড়া পরিষদের তরফ থেকে জানানো হয়, “এই পরিস্থিতিতে আপাতত সাধু সন্ন্যাসীরা পূর্ণ স্নান বন্ধ রাখছে। আগে পুণ্যার্থীরা স্নান করুক। ভিড় কিছুটা কমলে তারপর তাঁরা স্নান করবে।” পাশাপাশি আখড়ার তরফেও ঘোষণা করা হয়, “প্রয়াগরাজের ১৫ থেকে ২০ কিলোমিটার পর্যন্ত অসংখ্য অস্থায়ী ঘাট তৈরি করা হয়েছে। সবই গঙ্গা মায়ের ঘাট। আপনারা যে যেখানে আছেন সেখানে স্নান করুন। ত্রিবেণী সঙ্গমের দিকে আর এগোবেন না।” এছাড়া প্রশাসনের সঙ্গে সমস্ত রকম সহযোগিতা করার আবেদন দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। পুণ্যার্থীদের কাছে তার আর্জি, ‘কোনওরকম গুজবে কান দেবেন না।’ এক্স হ্যান্ডেলেও এই বিষয়ে বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।


More Stories
কুম্ভমেলা শেষ, চলছে সাফাই কর্মসূচি, এলাকার মানুষ খুশি আর্থিক পরিস্থিতি চাঙ্গা হওয়ায়
মহা কুম্ভের কৃতিত্ব কার? মহা কুম্ভের সাফল্য নিবেদনে সোমনাথ মন্দিরে পূজো দিলেন মোদি
এবার নাগা সন্ন্যাসীরা একে একে কুম্ভমেলা প্রাঙ্গণ ছেড়ে যাওয়া শুরু করলেন, কেন?