Home » স্বপ্ন “ড্রোন ট্যাক্সি”, অসাধ্যকে সাধন করল দুর্গাপুরের এক ফুল বিক্রেতা

স্বপ্ন “ড্রোন ট্যাক্সি”, অসাধ্যকে সাধন করল দুর্গাপুরের এক ফুল বিক্রেতা

সময় কলকাতা ডেস্ক:- “ছোটন ঘোষ” নামটা আজকাল কম বেশি সকলেই জানেন। একজন ফুল বিক্রেতা হয়ে একটি অসাধ্যকর কাজ করে দেখিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের দুর্গাপুরের এই ছোটন ঘোষ। তাই তার নাম এখন শুধু পশ্চিমবঙ্গেই নয়, উত্তরপ্রদেশ, দিল্লী, ঝাড়খণ্ড তথা বিহারের খবরেরও শিরোনামে। ছোটন মূলত জাঙ্ক ব্যবহার করে একটি উড়ন্ত ড্রোন ট্যাক্সি তৈরি করেছেন। যা ১০ ফুট পর্যন্ত উঁচুতে উড়তে পারে। এছাড়াও এটি ১৫ থেকে ২০ কিলোমিটার দূরত্বও অতিক্রম করতে পারে।

ছোটনের কথা অনুযায়ী, এই ড্রোন ট্যাক্সিটি তৈরি করতে তার মাত্র ২০ থেকে ২৫ দিন সময় লেগেছে। এবং সে সাড়ে তিন হাজার আরপিএম মোটর, চারশো পঞ্চাশ ওয়াটের একটি কন্ট্রোলার, একটি ২৪ ভোল্টের ব্যাটারি, একটি স্লেটার, একটি মোটরসাইকেলের হ্যান্ডেল এবং একটি চাবি ব্যবহার করেছে। ছোটন বলেছেন, তিনি যখন এই ড্রোন ট্যাক্সিটি তৈরি করছিলেন, তখন সে অনেকবার ব্যর্থ হয়েছিলেন কিন্তু তিনি হাল ছাড়েনি এবং অবশেষে তিনি সফল হয়েছিলেন এবং তার স্বপ্ন পূরণ করেছেন।

ছোটনের কথা অনুযায়ী, দিন দিন রাস্তায় ক্রমবর্ধমান যানজট দেখে তার মনে হয়েছিল যে, এই জ্যাম থেকে মুক্তির জন্য এমন কিছু উদ্ভাবন করা উচিত, যা মানুষের মূল্যবান সময় বাঁচাতে পারে এবং মানুষ তাদের গন্তব্যে তাড়াতাড়ি পৌঁছাতে পারে। এরপর ছোটন ফুল বিক্রি করে যে সমস্ত টাকা সঞ্চয় করেছিলেন তা তার উড়ন্ত ড্রোন ট্যাক্সি তৈরিতে বিনিয়োগ করেন এবং এর নাম দেন বাইক ড্রোন।

ছোটন এখন স্বপ্ন দেখেন যে, তিনি এই বাইক ড্রোন বা ড্রোন ট্যাক্সি তৈরির মাধ্যমে সমাজের মাংসের সহায়তার কাজে লাগছে। তাই এখন তিনি একটি ড্রোন ট্যাক্সি তৈরির কাজ শুরু করেছেন। এরপর আরও অনেক ড্রোন ট্যাক্সি তিনি তৈরী করতে চান। ছোটন বলেন যে, “ড্রোন ট্যাক্সি তৈরি করতে কেবল সময় লাগবে না, অনেক টাকাও খরচ হবে যা এখন তার কাছে নেই। তাই তিনি সরকারের কাছে সাহায্যের জন্য অনুরোধ করছেন এবং বলছেন যে যদি তিনি সরকারের কাছ থেকে কিছু আর্থিক সাহায্য পান, তাহলে তিনি ড্রোন ট্যাক্সি তৈরি করে তার স্বপ্ন পূরণ করতে পারবেন।”

ইতিমধ্যেই, ছোটনের আবিষ্কার দেখতে দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ দুর্গাপুরে আসছে এবং তার কারুশিল্প দেখে প্রশংসা করছে।

About Post Author