Home » কূটনীতির প্যাঁচে জলে মারার ছক দিল্লির

কূটনীতির প্যাঁচে জলে মারার ছক দিল্লির

সময় কলকাতা ডেস্ক:- পাকিস্তানকে শুধু ভাতে মারা নয়, জলকষ্টের ব্যথাও টের পাওয়াতে চাইছে ভারত। নয়াদিল্লির জল-কূটনীতির পিছনে তেমনই অঙ্ক দেখছেন ওয়াকিবহাল মহল। ২২ এপ্রিল পহেলগামে জঙ্গি হামলায় পাকিস্তানি যোগসূত্র সামনে আসার পরদিনই সিন্ধু জলচুক্তি স্থগিতের কথা ঘোষণা করেছে ভারত।

ওয়াকিবহাল মহলের একাংশ মনে করছেন, কূটনীতির ফাঁসেই পাকিস্তানকে বেশ চাপে ফেলেছে ভারত। আফগানিস্তানের প্রাক্তন ভাইস প্রেসিডেন্ট আমরুল্লা সালেহের কথাতেও অনেকটা তেমনই সুর। সালেহের ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য, ‘মনে হচ্ছে, শত্রুকে ইলেকট্রিক চেয়ারে বসে শক খাইয়ে মারার বদলে তার গলায় একটা লম্বা দড়ি পেঁচিয়ে তিলে তিলে মারবে ভারত।’

খাইবার পাখতুনখোয়ার এক মৌলানাকে পাকিস্তানি সেনার উদ্দেশে বলতে শোনা যাচ্ছে, ‘আপনারা পাশতুনদের অনেক কষ্ট দিয়েছেন, এখন ভাবছেন যুদ্ধ বাধলে আমরা আপনাদের পাশে থাকব? মোটেই না।’ সাধারণ মানুষও গলা মিলিয়েছেন মৌলানার সঙ্গেই, এমনই ভিডিও ভাইরাল হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়াতে।

অর্থাৎ পাকিস্তানের অবস্থা এখন এমন- হয় জলে ভাসতে হবে, নয়তো জলকষ্টে মরতে হবে। ভারতের এই কূটনৈতিক চাপের প্যাঁচটা বেশ ভালোই মা‍লুম হচ্ছে পাকিস্তানের আমজনতার। আর তাই, সম্প্রতি সামনে আসা বেশ কয়েকটি ভিডিয়োয় (সত্যতা যাচাই করেনি সময় কলকাতা) দেখা যাচ্ছে, পাকিস্তানের আমজনতা যুদ্ধের পক্ষে নন। ইসলামাবাদের লাল মসজিদে ইমাম প্রশ্ন করছেন, ‘ভারতের সঙ্গে যুদ্ধ লাগলে কারা পাকিস্তানকে সমর্থন করবেন?’ মসজিদ উপস্থিত একজনও পাকিস্তানিকে হাত তুলতে দেখা যায়নি।

চলতি সপ্তাহেই জলসম্পদ মন্ত্রী সিআর পাটিল, শক্তিসম্পদ বিষয়ক মন্ত্রী এমএল খাট্টার এবং কৃষিমন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহানের সঙ্গে বৈঠকে বসার কথা ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের।

১৯৮৭ এবং ২০০৯ সালে দু’টি বাঁধ তৈরির পর থেকে তার পলি পরিষ্কার হয়নি। এখন সিন্ধু জলচুক্তি স্থগিতের যুক্তিতে জল ছেড়ে রিজার্ভার সাফাইয়ের কাজ শুরু করেছে ভারত। গত সপ্তাহেই এই জল ছাড়ার জন্য পাকিস্তানের একাংশ ভেসে গিয়েছে। কিন্তু এই জল ছাড়ায় ভারতের লাভ হয়েছে। প্রথমত, পলি সাফ করে অতিরিক্ত জল পাকিস্তানে না পাঠিয়ে জলাধারেই মজুত রাখা সম্ভব, দ্বিতীয়ত, পলি সাফের ফলে ভারতের জলবিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের টারবাইনগুলোরও কর্মক্ষমতা বাড়বে। সেন্ট্রাল ওয়াটার কমিশনের প্রাক্তন প্রধান কুশবিন্দর ভোহরার বক্তব্য, ‘পাকিস্তানের জলের সাপ্লাই পুরোপুরি বন্ধ করতে গেলে অতিরিক্ত জল ধরে রাখার জন্য ভারতকে নতুন জলাধার তৈরি করতেই হবে। তবে আপাতত কিছুদিন পলি সাফ করে পুরোনো জলাধারেই অতিরিক্ত জল ভারত ধরে রাখতে পারবে, আর সেক্ষেত্রে পাকিস্তানের উপর চাপ তৈরির কাজটা ভালোই হবে।’

সম্প্রতি চন্দ্রভাগা ও বিতস্তার জলবণ্টনেও রাশ টেনেছে ভারত। কিন্তু সিন্ধু, চন্দ্রভাগা, বিতস্তার জ‍ল পাকিস্তানে না পাঠালে অতিরিক্ত জল ধরে রাখার মতো রিজার্ভার ভারতের নেই। সেই সূত্র ধরেই এ বার সামনে এলো ভারতের নতুন পরিকল্পনা। সিন্ধু জলচুক্তি অনুযায়ী, এই তিনটি নদীর ঊর্ধ্বগতির জল পায় ভারত, যা শুধুমাত্র কৃষিকাজ ও জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের কাজে ব্যবহার করতে পারে। অন্যদিকে, এর ৮০ শতাংশ জল যায় পাকিস্তান যা সেখানের জলসেচের প্রধান উৎস। সিন্ধু জলচুক্তি অনুযায়ী, ভারত এই নদীগুলির উপর শুধুমাত্র জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকাঠামো তৈরি করতে পারে, কিন্তু সেখানে অতিরিক্ত জলাধার তৈরি করতে গেলে লাগবে পাকিস্তানের অনুমোদন।

এই চুক্তির ফাঁসেই নির্মীয়মাণ অবস্থায় আটকে রয়েছে ভারতের ছ’টি জলবিদ্যুৎ প্রকল্প, কারণ এগুলো নিয়ে নানাবিধ আপত্তি তুলেছে পাকিস্তান।

অথচ, এই প্রকল্পগুলোর কাজ শেষ হলে জম্মু–কাশ্মীরে আর বিদ্যুৎ এবং জলের সমস্যা থাকবে না। এখন এই পেন্ডিং কাজগুলোই সেরে নিতে পারে ভারত। সিন্ধু–জলচুক্তি স্থগিত থাকায়, এই তিন নদীবক্ষে কোনও নির্মাণ কাজের জন্যই আর পাকিস্তানকে নোটিস দিয়ে জানাতে বাধ্য নয় ভারত। রাতারাতি জলাধার নির্মাণ সম্ভব নয়, সেটা মানছেন বিশেষজ্ঞরা, কিন্তু আপাতত সালাল এবং বাগলিহরের মতো বাঁধের সেডিমেন্ট বা পলি পরিষ্কার করে জলধারণ ক্ষমতা বাড়াতে পারবে ভারত। পলি পরিষ্কারের জন্য রিজার্ভারের পুরো জল ফাঁকা করা দরকার।

About Post Author