সময় কলকাতা ডেস্ক:- বাড়ি-বাড়ি গোরুর দুধ বিক্রি করে জীবন শুরু করেছিল কামারহাটির জয়ন্ত। পরে কামারহাটি এলাকায় তৃণমূল কংগ্রেসের প্রভাবশালী নেতা হন দুধওয়ালা জয়ন্ত ওরফে জায়ান্ট সিং। এবার সেই জয়ন্তের বেআইনি চারতলা প্রাসাদ ভেঙে ফেলার নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট। কী করে এতদিন ধরে একটা বেআইনি নির্মাণ এলাকায় হলো আর পুরসভার অফিসাররা তা হতে দিলেন, তা নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন বিচারপতি গৌরাঙ্গ কান্ত। বিচারপতি কামারহাটি পুরসভার ভূমিকায় চরম ক্ষুব্ধ।
তৃণমূল নেতা দুধওয়ালা জয়ন্তর আইনজীবী বলেন, ওই বাড়ি নিয়ে জেলা আদালতে মামলা চলছে। ১৯৭৬ সালের অনুমোদন রয়েছে। যা শুনে বিচারপতির কড়া মন্তব্য, পুরসভার এখনকার অনুমতি নেই। কিন্তু বাড়িটি এখন তৈরি হয়েছে। এই সত্যি সামনে আসার পরে আর কোনও নথি দেখতে চায় না আদালত। আগে বেআইনি বাড়ি ভাঙা হবে, সে ব্যাপারে পুরসভাকে রিপোর্ট দিতে হবে আদালতে।
পুরসভার আইনজীবী বলেন, ওই বাড়ি সংস্কার করা হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে। বেআইনি বাড়ির ছবি দেখে আরও ক্ষিপ্ত বিচারপতি কান্তের বক্তব্য, আপনাদের মনে হচ্ছে এটা এখন সংস্কার হচ্ছে? আমাদের কী ভাবেন? আপনারাই পিছন থেকে মদত দিয়েছেন। না হলে এই ভাবে এত বড় বাড়ি হতে পারে না। এটা তো একদিনে হয়নি।
নথি দেখে বিচারপতি কান্তের কটাক্ষ, আপনারা শুধু কথা চালাচালি করে মূল বিষয়টি ঘুলিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছেন। ১৯৭৬ সালের অনুমতি নিয়ে এখন বাড়ি তৈরি হয়েছে বলতে চাইছেন? আপনারা কী মনে করেন, আমরা চোখ বুজে থাকি? কিছু বুঝি না? ওই বাড়ি দেখে আপনাদের অফিসারদের কি মনে হয়েছে যে ওই বাড়ি ১৯৭৬ সালের?
কামারহাটি পুরসভার আইনজীবীর বক্তব্য, ‘ওই বেআইনি বাড়ি নিয়ে আমরা নোটিস দিয়েছি। নথি চাওয়া হয়েছে। বাড়ির লোক ১৯৭৬ সালের নির্মাণের একটি অনুমতি দেখিয়েছেন। ওই পুকুরের মালিকের নাম নথিতে ভিন্ন হওয়ায় আমরা কাগজে বিজ্ঞাপনও দিয়েছি। কিন্তু কেউ এখনও যোগাযোগ করেননি।’
কোর্টের নির্দেশ, ওই বেআইনি নির্মাণ ভেঙে ফেলে সেখানে খেলার মাঠ তৈরি করতে হবে। আট সপ্তাহ পরে রিপোর্ট দিতে হবে। আদালতের স্পষ্ট বক্তব্য, পুরসভার সঙ্গে রফা করেই এই সব বেআইনি নির্মাণ হয়। এই সব বেআইনি নির্মাণ সভ্য সমাজের ঘাড়ে বড় দায়।


More Stories
বিক্ষোভ দেখাতে গিয়ে গ্রেফতার অসিত মজুমদার
অভিষেক নিগ্রহ পর্ব : আদতে হয়েছিল কী? বিভিন্ন রাজনৈতিক মহল, নেতা-নেত্রীরা কী বলছেন!
সোনারপুরে অভিষেককে মারধর, মেরে জামা ছিঁড়ে দেওয়া হল অভিষেকের