Home » দিঘার রথযাত্রা নিয়ে তুঙ্গে উন্মাদনা, কখন ঘুরবে রথের চাকা? বাকি পূজার্চনা কখন কী? দিঘায় দাঁড়িয়ে জানিয়ে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী

দিঘার রথযাত্রা নিয়ে তুঙ্গে উন্মাদনা, কখন ঘুরবে রথের চাকা? বাকি পূজার্চনা কখন কী? দিঘায় দাঁড়িয়ে জানিয়ে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী

সময় কলকাতা ডেস্ক:- শুক্রবার রথযাত্রা। সোনার ঝাঁটা দিয়ে রাস্তা পরিষ্কার করে রশি টেনে রথযাত্রার সূচনা করবেন মুখ্যমন্ত্রী। তার আগে বুধবারই দিঘা পৌঁছে যান তিনি। জগন্নাথদেবের মন্দির প্রতিষ্ঠার পরে দিঘায় প্রথম বার অনুষ্ঠিত হতে চলেছে রথযাত্রা উৎসব। সেই কারণে এ বার প্রথম থেকেই বাড়তি গুরুত্ব ও সতর্কতার উপর জোর দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। যে কারণে বৃহস্পতিবারই নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে একপ্রস্থ প্রস্তুতি বৈঠক সেরে ফেলেন তিনি। বৈঠকের পর মমতা জানান, শুক্রবার দুপুর আড়াইটের পর রথের চাকা গড়াবে। শুধু তাই নয়, কখন কী তার একটা স্পষ্ট দিনলিপিও দিয়ে রাখেন।

হাজার হাজার ভক্ত সমাগম হবে বলেই মনে করছে প্রশাসন। বৃহস্পতিবার দিঘার রথযাত্রার নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে জগন্নাথ মন্দির ট্রাস্ট কমিটির সঙ্গে প্রস্তুতি বৈঠক সারেন মুখমন্ত্রী। মন্দিরের ৭ নম্বর গেট দিয়ে বেরিয়ে ৩ নম্বর গেট পর্যন্ত পায়ে হেঁটে যান তিনি।

সেখানেই একাধিক মন্ত্রী ও হিডকোর ভাইস চেয়ারম্যানের সঙ্গে ফিতে ধরে রাস্তার সঙ্গে রথের মাপ খতিয়ে দেখেন মুখ্যমন্ত্রী।

সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মমতা বলেন, রথযাত্রার দিন ভক্তরা ঢুকতে পারবেন জগন্নাথ মন্দিরে। পাথরের বিগ্রহ মন্দিরেই থাকবে। রথে থাকবে নিমকাঠের বিগ্রহ। শুক্রবার সকাল সাড়ে ৯টা থেকে দিঘার জগন্নাথ মন্দিরে শুরু হবে পুজোপাঠ। দুপুর দুটো থেকে আড়াইটের মধ্যে হবে আরতি। তার আগে মন্দিরে চলে আসার কথা মুখ্যমন্ত্রীর। দুপুর আড়াইটে নাগাদ রথের রশিতে পড়বে টান। বিকেল চারটের মধ্যে মাসির বাড়ি পৌঁছবে রথ।

রথযাত্রায় ভিড়ের মাঝে যাতে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে তাই ব্যারিকেডের বন্দোবস্ত করা হচ্ছে। ব্যারিকেডের অপর প্রান্তে দাঁড়িয়ে রথযাত্রা দেখতে পাবেন পুণ্যার্থীরা। ব্যারিকেডের সঙ্গে ছোঁয়ানো থাকবে রথের রশি। তাই যেকোনও সময় তা স্পর্শ করতে পারবেন ভক্তরা। পৌনে কিলোমিটার রাস্তা ধরে মাসির বাড়ি যাওয়ার সময় মাঝে মাঝে থামবে রথ। ভক্তরা চাইলে দর্শন করতে পারবেন।

স্নানযাত্রার পর ১৫ দিন ‘অনসরে’ ছিলেন প্রভু জগন্নাথ। সাধারণ মানুষের জন্য দরজা বন্ধ ছিল জগন্নাথ মন্দিরের। সেই অনসর পর্ব কাটিয়ে বৃহস্পতিবার ভোর সাড়ে ছ’টায় প্রভু জগন্নাথ দেবের গর্ভগৃহের দরজা খোলা হয়। নবসাজে দেখা দেন প্রভু জগন্নাথ দেব। নেত্র উৎসবের কারণে ভোরে মঙ্গলারতি হয়। জগন্নাথ দেবকে ৫৬ ভোগ অর্পণ করা হয়। ৫৬ ভোগে ছিল বিভিন্ন ধরনের ভাজা, খিচুড়ি, ডাল, সুক্তো, মোচা দিয়ে তরকারি, পটলের তরকারি, বৈতালের ঘন্ট-সহ একাধিক পদ।

সাথে দেওয়া হয় বাংলার বিভিন্ন ধরনের মিষ্টি এবং পায়েসও। বিকেলে রশি পুজো। সবটুকু সরেজমিনে তদারকি করছেন মুখ্যমন্ত্রী।

গত ৩০ এপ্রিল দিঘার জগন্নাথ মন্দির উদ্বোধন করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তারপর থেকেই সমুদ্র শহরে দর্শনার্থীর ঢল নেমেছে। প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, এখনও পর্যন্ত ৩০ লক্ষের বেশি ভক্ত মন্দির দর্শনে এসেছেন। রথযাত্রার দিন সেই ভিড় আরও বাড়বে বলেই মনে করা হচ্ছে।

About Post Author