সময় কলকাতা ডেস্ক:- বাংলা বললেই বাংলাদেশি দেগে দেওয়া। বাংলায় কথা বললেই ডিটেনশন ক্যাম্পে! তৃণমূলের অভিযোগ, বারবার কেন্দ্র এবং সংশ্লিষ্ট রাজ্যগুলির মুখ্যমন্ত্রীদের চিঠি দেওয়ার পরও কোনও ব্যবস্থা নেয়নি বিজেপি। উলটে যারা এই অপরাধ করছে, তাদের মদত দিচ্ছে বিজেপি-শাসিত সরকার। অসমে এক কোচবিহারের মহিলা বিয়ে করে গিয়ে এনআরসি থেকে বাদ পড়েছেন। বাধ্য হয়ে ফিরে আসতে হয়েছে তাঁকে। সম্প্রতি অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা আদমশুমারি প্রসঙ্গে মন্তব্য করেন, যাঁরা নিজেদের মাতৃভাষা বাংলা বলছেন, তাঁরা নাকি ‘বাংলাদেশি’।
তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে তোলপাড় হয় রাজ্যে। এদেশের বাঙালিরা সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রতিবাদ জানান। দেশজুড়ে বিতর্কও শুরু হয়। তৃণমূলের মতে, এটা সরাসরি বাংলা ভাষা ও বাঙালির অপমান। তারই প্রতিবাদে এবার পথে নামল তৃণমূল। বুধবার ধর্মতলার সমাবেশ থেকে ক্ষোভ উগরে দিয়ে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, বাঙালিদের দিয়ে কাজ করাবে, আর বাংলায় কথা বললেই গ্রেফতার করবে? বাংলা কি ভারতের বাইরে?
এরপরই মমতা বলেন, তিনি এখন ঠিক করেছেন এবার বাংলাতেই বেশি করে কথা বলবেন। ক্ষমতা থাকলে ডিটেনশন ক্যাম্পে নিয়ে গিয়ে রাখা হোক।
ভিনরাজ্যে বাঙালিদের হেনস্থার প্রতিবাদে বুধবারই বৃষ্টির মধ্যেই রাজপথে নামে তৃণমূল কংগ্রেস। মিছিলের নেতৃত্বে ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী নিজে, সঙ্গে ছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, ফিরহাদ হাকিম, অরূপ বিশ্বাস, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, শশী পাঁজা, দোলা সেন-সহ একাধিক শীর্ষ নেতা। মঞ্চ থেকে নাম না করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে নিশানা করে মমতা বলেন, বাঙালিদের ওপর এত রাগ কেন? কী ক্ষতি করেছে বাঙালি? হুঁশিয়ারির সুরে মমতা সাফ জানান, বিনা যুদ্ধে এক ইঞ্চি জমিও ছাড়া হবে না।
নাক গলানোর মাস্টার বলে সম্বোধন করে প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে বাংলার মুখ্যমন্ত্রীর শ্লেষ, কে কী খাবে, সেটাও তাঁরা ঠিক করবেন ? মুখে গণতন্ত্রের কথা বলেন, আর মানুষের গণতন্ত্র কেড়ে নিতে চান।
মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, লুকিয়ে নোটিফিকেশন জারি করেছে কেন্দ্র। তাতে স্পষ্ট বলা হয়েছে, বাংলায় কথা বললে গ্রেফতার, আত্মীয়র বাড়িতে গেলে ডিটেনশন ক্যাম্প! ২২ লক্ষ মানুষের ওপর অত্যাচার চলছে। এই জিনিস বরদাস্ত করা হবে না। এই প্রসঙ্গে বিজেপির ‘বাংলা-বিরোধী’ মানসিকতার বিরুদ্ধে দেশজুড়ে প্রতিবাদ আন্দোলনের ইঙ্গিতও দিয়েছেন তৃণমূল নেত্রী।
বিজেপিশাসিত দিল্লি, মহারাষ্ট্র-সহ একাধিক বিজেপিশাসিত রাজ্যে বাংলাদেশি সন্দেহে বাংলার একাধিক পরিযায়ী শ্রমিককে গ্রেফতার করে অত্যাচার করার অভিযোগ উঠেছে।
বাংলাদেশে পুশব্যাক করার অভিযোগও উঠেছে। সেসব ঘটনার প্রতিবাদে তৃণমূল নেত্রী পথে নামেন। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সেই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ আগেই করেছিলেন। এবার সেই ইস্যুতে পথে নামল রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস। ছিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও।


More Stories
বিক্ষোভ দেখাতে গিয়ে গ্রেফতার অসিত মজুমদার
অভিষেক নিগ্রহ পর্ব : আদতে হয়েছিল কী? বিভিন্ন রাজনৈতিক মহল, নেতা-নেত্রীরা কী বলছেন!
সোনারপুরে অভিষেককে মারধর, মেরে জামা ছিঁড়ে দেওয়া হল অভিষেকের