Home » বাংলাভাষী পরিযায়ী শ্রমিকদের মামলা, ‘ডিটেনশন বন্ধ হবে না’, জানাল সুপ্রিম কোর্ট, ১০ রাজ্যকে হলফনামা দিতে বলল শীর্ষ আদালত

বাংলাভাষী পরিযায়ী শ্রমিকদের মামলা, ‘ডিটেনশন বন্ধ হবে না’, জানাল সুপ্রিম কোর্ট, ১০ রাজ্যকে হলফনামা দিতে বলল শীর্ষ আদালত

সময় কলকাতা ডেস্ক:- বাংলাদেশি সন্দেহে বাংলাভাষী শ্রমিকদের হেনস্থা করা হচ্ছে, এই অভিযোগ জানিয়ে জনস্বার্থ মামলা হয় সুপ্রিম কোর্টে। বৃহস্পতিবার বিচারপতি সূর্য কান্ত ও বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর বেঞ্চে ছিল সেই মামলার শুনানি।

সব অভিযোগ শোনার পরও ডিটেনশন ক্যাম্পের ক্ষেত্রে অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ দিতে রাজি হয়নি শীর্ষ আদালত। পশ্চিমবঙ্গের বাংলাভাষী পরিযায়ী শ্রমিকদের বিভিন্ন রাজ্যে হেনস্থার শিকার হতে হচ্ছে বলে একগুচ্ছ অভিযোগ এসেছে গত কয়েক মাসে। দিল্লি, হরিয়ানা, ওড়িশা, রাজস্থান সহ একাধিক রাজ্যে বাঙালি শ্রমিকদের সন্দেহের বশে ডিটেনশন ক্যাম্পে পাঠানোর অভিযোগও উঠেছে। বৃহস্পতিবার শীর্ষ আদালতে সেই অভিযোগের কথা তুলে ধরেন আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণ।

ওয়েস্ট বেঙ্গল মাইগ্রান্ট ওয়েলফেয়ার বোর্ডের তরফে সুপ্রিম কোর্টে মামলা করেছেন রাজ্যসভার তৃণমূল সাংসদ সামিরুল ইসলাম। সেই বোর্ডের তরফে সওয়াল করেন আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণ।

প্রশান্ত ভূষণ দাবি করেন, শুধুমাত্র বাংলা ভাষায় কথা বললেই হেনস্থা করা হচ্ছে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকে রজারি করা সার্কুলারের ভিত্তিতেই এমনটা হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি। অভিযোগ শোনার পর বিচারপতি সূর্য কান্ত ও বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর বেঞ্চ বলে, এমন ব্যবস্থা থাকা উচিত, যাতে বৈধ নাগরিকদের কোনও সমস্যায় পড়তে না হয়। তবে ডিটেনশন ক্যাম্পে রাখার বিষয়টাতে কোনও স্থগিতাদেশ দেয়নি শীর্ষ আদালত।

ডিভিশন বেঞ্চের বক্তব্য, যদি সত্যিই কেউ অবৈধভাবে অনুপ্রবেশ করে, তাহলে কী হবে?

তাদের যদি আটক না করা হয়, তাহলে তারা ভিড়ে মিশে যাবে। আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণকে সুপ্রিম কোর্ট বলে যে এই বিষয়ে ওড়িশা, রাজস্থান, মহারাষ্ট্র, বিহার, উত্তর প্রদেশ, ছত্তিশগড়, হরিয়ানা, দিল্লি ও পশ্চিমবঙ্গের কাছে উত্তর চাওয়া হয়েছে। সেই উত্তরের জন্য অপেক্ষা করতে বলেছে শীর্ষ আদালত।

সেই সাথে সুপ্রিম কোর্ট বুঝিয়ে দিয়েছে যে, যে কোনও রাজ্যের অধিকার আছে, পরিযায়ী শ্রমিকদের বাসস্থানের বিষয়ে খোঁজ নেওয়ার। তাই শীর্ষ আদালতের বক্তব্য, কোনও অন্তর্বর্তী নির্দেশ দেওয়া হলে, তার প্রভাব পড়তে পারে।

বিশেষত, যারা সত্যিই সীমান্ত পার করে ভারতে এসেছে, যাদের আইন অনুযায়ী ভারত থেকে ফেরত পাঠানো দরকার, তাদের পাঠানোর ক্ষেত্রেও সমস্যা হয়ে যাবে। এই মামলায় ১০ রাজ্যের কাছে হলফনামা চেয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। অভিযোগের ভিত্তিতে কী সবার বক্তব্য জানতে চায় আদালত। আগামী সপ্তাহে শুনানি রয়েছে মামলার। বিগত বেশ কিছুদিন ধরেই গুরুগ্রাম, নয়ডা সহ একাধিক জায়গায় ঘুরেছেন তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ সামিরুল ইসলাম।

তিনি দাবি করেছেন, বিভিন্ন জায়গায় আতঙ্কে রয়েছেন শ্রমিকরা। এর আগে কলকাতা হাইকোর্টে এই সংক্রান্ত মামলা হয়। দিল্লিতে একটি পরিবারকে আটকে রাখার অভিযোগ উঠলে সেই মামলায় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের কাছে একাধিক প্রশ্নের উত্তর চেয়েছিল হাইকোর্ট।

About Post Author