Home » প্রধানমন্ত্রী-মুখ্যমন্ত্রীদের অপসারণ বিলের প্রতিবাদ, সংসদীয় কমিটিতে থাকছে না তৃণমূল

প্রধানমন্ত্রী-মুখ্যমন্ত্রীদের অপসারণ বিলের প্রতিবাদ, সংসদীয় কমিটিতে থাকছে না তৃণমূল

সময় কলকাতা ডেস্ক:- ‘দাগ’ লাগলে গদি যাবে প্রধানমন্ত্রী-মুখ্যমন্ত্রীর! অপরাধের অভিযোগে মুখ্যমন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রীকে অপসারণের বিতর্কিত সেই বিল গত বুধবার লোকসভায় পেশ করেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।

সেই বিল পেশ হতেই তুমুল বিক্ষোভ শুরু করে বিরোধীরা। কপি ছিঁড়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দিকে ছু়ড়ে প্রতিবাদ জানানো হয়। সরব হয় বাংলার তৃণমূল সাংসদরাও।

এমনকী, লোকসভার পর সেই সংবিধান সংশোধনী বিল নিয়ে বৃহস্পতিবার রাজ্যসভাতেও তীব্র প্রতিবাদ জানায় তৃণমূল কংগ্রেস। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে লক্ষ্য করে তড়িপার, দূর হটো পোস্টার হাতে ওয়েলে নেমে অমিত শাহ গো-ব্যাক স্লোগানও দিতে থাকেন তৃণমূল সাংসদরা।

এবার তৃণমূল সিদ্ধান্ত নিয়েছে, সংবিধান সংশোধনী বিল-সহ আর যে দু’টি বিল আনা হয়েছে, তা নিয়ে সংসদীয় যৌথ কমিটিতে আপাতত কোনও প্রতিনিধি রাখবে না।

সূত্র বলছে, সংবিধান সংশোধনী বিল নিয়ে কংগ্রেসের সুর নরম থাকায় অসন্তুষ্ট তৃণমূল শিবির। বুধবার লোকসভায় দলের উপদলনেতা শতাব্দী রায়, মিতালী বাগদের হেনস্তা করা হয়েছিল বলে তৃণমূল অভিযোগ করেছিল। বৃহস্পতিবার তাঁরা লোকসভার অধ্যক্ষ ওম বিড়লার কাছে চিঠি দিয়ে অভিযোগ দায়ের করেছেন। তৃণমূলের তরফে দলের আরেক সাংসদ আবু তাহের খানকেও শারীরিক হেনস্তা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। দুপুরে অমিত শাহ রাজ্যসভায় সংবিধান সংশোধনী বিল-সহ বাকি দু’টি বিলকে যৌথ সংসদীয় কমিটিতে পাঠানোর প্রস্তাব পেশ করতে উদ্যত হতেই স্লোগান দিতে দিতে ওয়েলে নেমে পড়েন তৃণমূল সাংসদরা।

ট্রেজারি বেঞ্চের সামনে গিয়ে বিলের কপি ছিঁড়ে উড়িয়েও দেন তাঁরা। যতক্ষণ রাজ্যসভা চলেছে, প্রায় চল্লিশ মিনিট ধরে লাগাতার শাহর বিরুদ্ধে স্লোগান দিয়েছেন তৃণমূল সাংসদরা।

গত বুধবার বিল পেশ হওয়ার আগেই সংবিধান সংশোধনী বিল নিয়ে গর্জে উঠেছিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সাফ বলেছিলেন, এটি ভারতের গণতান্ত্রিক ইতিহাসে এক নজিরবিহীন আঘাত। এটি জরুরি অবস্থার চেয়েও ভয়ঙ্কর।

শুধু তাই নয়, দেশের গণতন্ত্র ও ফেডারেল কাঠামোকে স্থায়ীভাবে ধ্বংস করার পথে একটি পদক্ষেপ। বড় করে ছবির মাধ্যমে বার্তা দেন, এটি গণতন্ত্রের কালো দিন ছাড়া কিছুই নয়। বিল পেশ হওয়ার পরই তৃণমূল সাংসদ তথা দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন, এসআইআর থেকে নজর ঘোরানোর চেষ্টা চলছে।

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে কাপুরুষ বলে খোঁচা দিয়ে শর্তসাপেক্ষে জনপ্রতিনিধি গ্রেফতারি বিল সমর্থনের কথা শোনা গিয়েছিল অভিষেকের গলায়।

অভিষেকের বক্তব্য ছিল, এই বিলের আসল উদ্দেশ্য দুর্নীতির মামলায় ফাঁসিয়ে বিরোধী দলের মুখ্যমন্ত্রীদের গদিচ্যুত করা। অনেকেই মনে করছেন দিল্লির প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়ালের মতো আর কোনও মুখ্যমন্ত্রী যাতে জেলে গিয়েও মুখ্যমন্ত্রিত্ব করতে না পারেন সে জন্যই নতুন আইন তৈরি করা কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের উদ্দেশ্য।

দিল্লির মদকাণ্ডে গত বছর পাঁচ মাস তিহাড় জেলে বন্দি ছিলেন অরবিন্দ কেজরিওয়াল। তিনি তখন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী। জেল থেকেই মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করতে থাকেন কেজরিওয়াল। কোনও আইনেই তাঁকে মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে সরানোর সুযোগ ছিল না। অন্যদিকে, দায়িত্ব ছাড়ার দাবি ওঠা সত্ত্বেও পদত্যাগ করেনননি আম আদমি পার্টির সুপ্রিমো।

মুখ্যমন্ত্রীর গদি ত্যাগ করেন সুপ্রিম কোর্ট জামিন মঞ্জুর করার পর। ভারতে এর আগে কোনও নেতা মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে জেলে থাকেননি। সেরকম ঘটনার পুনরাবৃত্তি যাতে না ঘটে, সেকারণেই নতুন আইন তৈরি করা কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের উদ্দেশ্য। জনপ্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, অনিয়মের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে কেন্দ্রে লোকপাল, রাজ্যে লোকায়ুক্ত আছে। প্রধানমন্ত্রী লোকপালের আওয়াত পড়েন না। পশ্চিমবঙ্গ-সহ অধিকাংশ রাজ্যে মুখ্যমন্ত্রীরাও লোকায়ুক্তের আওতার বাইরে।

তাহলে তাঁদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, অনিয়মের অভিযোগের তদন্ত করবে কারা? বিরোধীদের আশঙ্কা, নতুন সংবিধান সংশোধনী বিলে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানকে পাশ কাটিয়ে ইডি, সিবিআইয়ের মতো প্রতিষ্ঠানকে ক্ষমতা দেওয়া হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে বাংলার শাসকদলের সিদ্ধান্ত, সংসদীয় যৌথ কমিটিতে তৃণমূল আপাতত কোনও প্রতিনিধি রাখবে না।

About Post Author