Home » সিত্রাং মোকাবিলায় তৎপর প্রশাসন

সিত্রাং মোকাবিলায় তৎপর প্রশাসন

সময় কলকাতা ডেস্কঃ বঙ্গোপসাগরে চোখ রাঙাচ্ছে ঘূর্ণিঝড় সিত্রাং। আর এই ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে রবিবার সকাল থেকেই মেঘলা আকাশ। ক্রমশ উপকূলীয় জেলাগুলির আবহাওয়ার পরিবর্তন হতে শুরু করেছে। সর্তকতামূলকভাবে ইতিমধ্যেই বহু মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। সোমবার সকাল থেকেই জেলায় জেলায় শুরু হবে বৃষ্টি। সঙ্গে বইবে ঝোড়ো হাওয়া। ঘূর্ণিঝড়ের সব থেকে বেশি প্রভাব পড়তে চলেছে সুন্দরবন এলাকায়। সোমবার সুন্দরবন এলাকা দিয়ে প্রবেশ করবে ঘূর্ণিঝড় সিত্রাং। এরপর মঙ্গলবার সকালে বাংলাদেশের তিনকোনা ও সন্দীপ এর মাঝামাঝি স্থলভাগে প্রবেশ করবে। ঘণ্টায় গতিবেগ থাকবে ১০০ কিলোমিটার। সোম ও মঙ্গলবার জলোচ্ছ্বাসের জেরে নদী বাঁধ নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সমুদ্রের জল ঢুকে পড়তে পারে নিচু এলাকাগুলিতে।

কলকাতা সহ উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা এবং পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, হাওড়া, হুগলি জেলাতেও এই ঘূর্ণি ঝড়ের প্রভাব লক্ষ্য করা যাবে বলে আশংকা করা হচ্ছে। ঘূর্ণি ঝড়ের মোকাবিলায় প্রস্তুত কলকাতা পুরসভার। ইতিমধ্যেই বিপর্যয় মোকাবিলা দফতরের ছুটি বাতিল করেছে নবান্ন। খোলা হয়েছে কন্ট্রোল রুম। কন্ট্রোল রুমের নম্বর ৬২৯২২৩২৮৭০/৭১। সেখান থেকেই নজরদারি চালাচ্ছেন কলকাতা পুরসভার আধিকারিকরা। কলকাতা পুরসভার ১৪৪টি ওয়ার্ডে যে এলাকাগুলিতে বেশি জল জমে,সেই এলাকাগুলিতে সিসিটিভি নজরদারির প্রস্তুতি চলছে।

অন্যদিকে ভারী বৃষ্টিপাতের জেরে শহরের নিচু এলাকাগুলিতে যাতে জল জমে না,তার জন্য ৫৭ টি পাম্প চালানোর পাশাপাশি অতিরিক্ত সাতটি পাম্প হাউস খোলা রাখা হবে বলেই জানা গিয়েছে। ২২ অক্টোবর থেকে ২৪ অক্টোবর, সোমবার পর্যন্ত দিঘায় পর্যটকদের সমুদ্রে নামার ক্ষেত্রেও সতর্কতা জারি করেছে প্রশাসন।

আলিপুর আবহাওয়া দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে,আন্দামান সাগরের ওপর যে নিম্নচাপটি তৈরি হয়েছে সেটি গভীর নিম্নচাপ রূপেই আন্দামান সাগরের ওপর অবস্থান করছে। এটি প্রথম অবস্থায় উত্তর-পশ্চিম দিকে ২২ তারিখ নাগাদ গভীর নিম্নচাপে রূপান্তরিত হবে। ২৩ তারিখ নাগাদ এটি অতি গভীর নিম্নচাপে পরিণত হবে। ২৪ তারিখ এটি উত্তর দিকে অগ্রসর হয়ে ঘূর্ণিঝড় রূপান্তরিত হবে। এরপর ২৫ তারিখ বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গ উপকূলের কাছাকাছি আসবে। যার কারণে ২৪ এবং ২৫ তারিখ উপকূলের জেলাগুলিতে মেঘলা আকাশ ও হালকা বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। ২৫ তারিখ উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা এবং নদিয়ায় বৃষ্টি হতে পারে। কলকাতা হাওড়া হুগলি এবং পূর্ব মেদিনীপুরেও রয়েছে মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা। উত্তর ও দক্ষিণ চব্বিশ পরগনায় ৮০ থেকে ১০০ কিলোমিটার গতিবেগে ঝোড়ো হওয়া বইবে। পূর্ব মেদিনীপুরে ঝোড়ো হওয়ার গতিবেগ থাকবে ৬০ থেকে ৮০ কিলোমিটার। কলকাতা, হাওড়া, হুগলি এবং পশ্চিম মেদিনীপুরে ৪০ থেকে ৬০ কিলোমিটার গতিবেগে ঝোড়ো হাওয়া বইবে। এদিন উত্তর বঙ্গোপসাগরে ঝড়ের গতিবেগ থাকবে ঘণ্টায় ৯০ থেকে ১১০ কিলোমিটার।

About Post Author