সময় কলকাতা ডেস্ক,৩১ জুলাই: ক্রমশ উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে রাজ্যের ডেঙ্গু পরিস্থিতি। তারই মধ্যে ডেঙ্গু বিতর্কে উত্তেজনার পারদ চড়ল বিধানসভায়। সপ্তাহের প্রথম দিনই ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে উত্তাল হয়ে উঠল বিধানসভা চত্বর। ডেঙ্গু মডেলকে সামনে রেখেই বিধানসভায় শুরু হয় বিজেপির ওয়াক আউট। রাজ্যের ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা চেয়েছিল বিজেপি। সেই দাবি খারিজ হতেই বিধানসভার অধিবেশন কক্ষে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন বিজেপি বিধায়করা। বিক্ষোভের জেরে এদিন শোরগোল শুরু হয়ে যায় বিধানসভা চত্বরে। এদিনের এই বিক্ষোভের নেতৃত্বে রয়েছেন রাজ্য বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। এদিন বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী ডেঙ্গু সংক্রান্ত তথ্য-পরিসংখ্যান দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, রাজ্যে ডেঙ্গুর বলি এখনও পর্যন্ত ৮ জন, আক্রান্তের সংখ্যা চার হাজারের বেশি। এরপরই স্বাস্থ্য দফতর ও পুরসভাগুলির ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে সরব হন বিরোধীরা।
আরও পড়ুন পাকিস্তানে জঙ্গি হামলার ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৪৬

এদিন বিজেপি বিধায়করা ডেঙ্গু নিয়ে মুলতুবি প্রস্তাব আনেন। স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় তা খারিজ করে দেন। বিজেপি বিধায়কদের বক্তব্য, যেভাবে রাজ্যের ডেঙ্গু মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে, সেখানে অবশ্যই আলোচনার প্রয়োজন ছিল। কিন্তু স্পিকার এদিন তা খারিজ করে দেন। এক্ষেত্রেও স্পিকারের বিরুদ্ধে পক্ষপাতমূলক আচরণের অভিযোগ তুলেছেন তাঁরা। এদিন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী বলেন,’ডেঙ্গু নিয়ে মুখ্যসচিব বিডিও, বিএমওএইচ, সিএমওএইচ-দের কোনওরকম নির্দেশ দিচ্ছেন না। এখনও পর্যন্ত ১০ লক্ষের বেশি মানুষ আক্রান্ত। ওঁদের পয়সা আছে, বিদেশে চিকিৎসা করান। প্লেটলেট কমে গেলে ওঁরা বেসরকারি হাসপাতালে চলে যান। কিন্তু সাধারণ মানুষের এত টাকা নেই। তাই মরে যাচ্ছে। ষড়যন্ত্র করে মৃতের সংখ্যা লুকানো হচ্ছে। যে ডাক্তার ডেথ সার্টিফিকেটে ডেঙ্গু লিখবেন, তাঁর ট্রান্সফার হবে। ভয়ে তাই আর কেউ লেখেন না। ‘

প্রসঙ্গত, এবছরের মে মাসের গোড়ায় ২০২২ সালে বাংলায় ডেঙ্গি ও ম্যালেরিয়ায় কত মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন তার পরিসংখ্যান প্রকাশ করেছে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রক। তাতে দেখা যায়, মশাবাহিত ডেঙ্গি রোগে বাংলায় আক্রান্তের সংখ্যা দেশের মধ্যে শীর্ষে পৌঁছেছে। জানা যায়, গত বছর রাজ্যে ডেঙ্গিতে আক্রান্ত হয়েছিলেন ৬৭ হাজার ২৭১ জন। শুধু ডেঙ্গি নয়, স্বাস্থ্য মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী ম্যালেরিয়াতেও গত বছর আক্রান্ত হয়েছিলেন ৪০ হাজার ৫৬৩ জন। অর্থাৎ ডেঙ্গি, ম্যালেরিয়া মিলিয়ে এক বছরে বাংলায় আক্রান্ত হয়েছেন এক লক্ষেরও বেশি মানুষ। এই পরিস্থিতিতে সতর্ক রাজ্য। এবার আগেভাগেই প্রশাসনকে ডেঙ্গি ও ম্যালেরিয়া মোকাবিলায় নামার নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বহু জায়গায় পুরসভা, পঞ্চায়েতের উদ্যোগে মশা মারতে নর্দমা, খালে গাপ্পি মাছ ছাড়া হচ্ছে। এহেন পরিস্থিতিতে কী হয় সেটাই এখন দেখার।


More Stories
বিক্ষোভ দেখাতে গিয়ে গ্রেফতার অসিত মজুমদার
অভিষেকের উপর হামলার নেপথ্যে কারা?
অভিষেকের পরে কল্যাণ