Home » কয়েকঘণ্টার ব্যবধান !দুপুরে জেলাভিত্তিক কমিটি গঠন, রাতে মমতার স্থগিতাদেশ !কেন স্থগিতাদেশ জারি করা হল, চর্চা তুঙ্গে

কয়েকঘণ্টার ব্যবধান !দুপুরে জেলাভিত্তিক কমিটি গঠন, রাতে মমতার স্থগিতাদেশ !কেন স্থগিতাদেশ জারি করা হল, চর্চা তুঙ্গে

সময় কলকাতা ডেস্ক:- কয়েকঘণ্টার ব্যবধান। ভূতুড়ে ভোটার ধরতে বৃহস্পতিবার দুপুরে জেলায় জেলায় কোর কমিটি গঠন। আর কয়েকঘণ্টার মধ্যেই তৃণমূলের সেই কোর কমিটিতে স্থগিতাদেশ। প্রশ্ন উঠছে, জেলায় জেলায় কোর কমিটি গঠন করেও কেন স্থগিতাদেশ জারি করা হল? চর্চা রাজনৈতিক মহলে। রাজ্যে ভূতুড়ে ভোটার ধরতে সুব্রত বক্সিকে মাথায় রেখে ৩৬ জনের কমিটি গড়ে দিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই কাজ কতদূর এগোল, তা খতিয়ে দেখতে বৃহস্পতিবার তৃণমূল ভবনে সেই কোর কমিটি নিয়ে প্রথমবারে বৈঠক হয়। সেখানেই প্রায় সিদ্ধান্ত হয়ে গিয়েছিল যে জেলাভিত্তিক কাজ পরিচালনার জন্যও কোর কমিটির সদস্যদের এক বা একাধিক জেলার দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। কিন্তু কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বৈঠকের সিদ্ধান্তে স্থগিতাদেশ।

জানা গিয়েছে,

ভোটার তালিকা সংস্কারের জন্য জেলায় জেলায় যে কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হয় দুপুরের বৈঠকে, রাতেই সেই প্রক্রিয়া স্থগিতা করে দেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কয়েকঘণ্টার ব্যবধান। ভূতুড়ে ভোটার ধরতে দুপুরে জেলায় জেলায় কোর কমিটি গঠন। আর কয়েকঘণ্টার মধ্যেই তৃণমূলের সেই কোর কমিটিতে স্থগিতাদেশ। প্রশ্ন উঠছে, জেলায় জেলায় কোর কমিটি গঠন করেও কেন স্থগিতাদেশ জারি করা হল? তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, বৃহস্পতিবার তৃণমূল ভবনে কোর কমিটির সেই প্রথম বৈঠকে অনুপস্থিত ছিলেন দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। অভিষেকের পাশাপাশি বৈঠকে দেখা যায়নি দলের রাজ্যসভার দলনেতা ডেরেক ও ব্রায়েন, দলের মিডিয়া সেলের আইটি ইনচার্জ দেবাংশু ভট্টাচার্যদের।

তবে ঠিক কী কারণে অভিষেক, ডেরেক, দেবাংশুরা এদিনের কোর কমিটির বৈঠকে অনুপস্থিত ছিলেন, তা স্পষ্ট নয়। ফলে বিষয়টি নিয়ে দলের অন্দরেই কৌতূহল তৈরি হয়। তার খানিক পরেই জানা যায়, আগামী ১৫ মার্চ ভোটার কার্ড ইস্যুতে ভার্চুয়াল বৈঠক ডেকেছেন অভিষেক। সেই বৈঠকে কোর কমিটির সদস্যদের পাশাপাশি দলের জেলা সভাপতি, বিধায়ক এবং নেতৃত্বকেও উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছে। বিকেলে সেই চর্চা নিয়ে বঙ্গ রাজনীতিতে চর্চা তুঙ্গে ছিল। তবে তার ঠিক কয়েকঘন্টা পরেই জানা যায়, জেলা কমিটিতে স্থগিতাদেশ দিয়েছেন তৃণমূল সুপ্রিমো।

প্রশ্ন উঠছে

জেলায় জেলায় কোর কমিটি গঠন করেও কেন স্থগিতাদেশ জারি করা হল? তবে কি তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের গুরুতর আপত্তিতেই কি জেলা জেলায় কোর কমিটিতে স্থগিতাদেশ জারি করা হল? প্রশ্ন উঠছে, অভিষেকের হাতেই কি ফিরছে দলের সংগঠনের রাশ? আবার কি দলে দীর্ঘ হচ্ছে আইপ্যাকের ছায়া? তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই সিদ্ধান্তের পর এই আলোচনাই জোরদার হচ্ছে তৃণমূলের অন্দরে। মাস তিনেক আগে দলের বিধায়কদের নিয়ে একটি বৈঠকে আইপ্যাক নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন মমতা।

কিন্তু, গত ২৭ ফেব্রুয়ারি নেতাজি ইন্ডোরে তিনি আইপ্যাকের প্রশংসা করেন। তৃণমূলের সভায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তৃতার একটা ঘরানা রয়েছে। তিনি যেমন বলেন, আমার এমপিরা, আমার এমএলএ-রা, আমার জেলার সভাপতিরা, আমার যুবরা, আমার ছাত্ররা..। তেমনই বৃহস্পতিবারের সভায় তিনি বলেছিলেন, ‘আমার আই প্যাক’। একে তো বৃহস্পতিবারের সভাস্থলে আই-প্যাকের কয়েকজন প্রতিনিধি ছিলেন। সেই সভা থেকেই আইপ্যাক নিয়ে উল্টোপাল্টা মন্তব্য না করার বার্তা দিয়েছিলেন মমতা।

আইপ্যাকের ছায়া আবার কি দীর্ঘ হচ্ছে

মমতার সেদিনের বার্তার পর প্রশ্ন উঠছে, আইপ্যাকের ছায়া আবার কি দীর্ঘ হচ্ছে রাজ্যের শাসকদলে? আগামী ১৫ মার্চ দলের সর্বস্তরের নেতৃত্বের সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠক করবেন দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক। প্রশ্ন উঠছে, ওই বৈঠক থেকেই কি জেলায় জেলায় নতুন কোর কমিটি তৈরি হবে? সেইজন্যই কি কয়েকঘণ্টার ব্যবধানে স্থগিত করে দেওয়া হল কোর কমিটি? অনেকে প্রশ্ন তুলছেন, শাসকদলের সুপ্রিমোর এই নজিরবিহীন সিদ্ধান্তে কি মুখ পুড়ল না দলের ওল্ড ব্রিগেডের?তবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দলের সুপ্রিমো। তাঁর স্থগিতাদেশের অর্থ হল, এখনই কোনও কমিটি গঠন হচ্ছে না জেলা স্তরে। ফলে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে জেলায় জেলায় কোর কমিটি গঠন করেও কেন স্থগিতাদেশ জারি করা হল? তবে কি তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের গুরুতর আপত্তিতেই কি জেলা জেলায় কোর কমিটিতে স্থগিতাদেশ জারি করা হল? প্রশ্ন উঠছে, অভিষেকের হাতেই কি ফিরছে দলের সংগঠনের রাশ? আবার কি দলে দীর্ঘ হচ্ছে আইপ্যাকের ছায়া?

About Post Author