Home » পহেলগাঁও হামলা: ‘যা অ্যাকশন নেওয়ার নেওয়া হোক’, পূর্ণ সমর্থন বিরোধীদের

পহেলগাঁও হামলা: ‘যা অ্যাকশন নেওয়ার নেওয়া হোক’, পূর্ণ সমর্থন বিরোধীদের

সময় কলকাতা ডেস্ক:- পহেলগাঁও কাণ্ডের দু’দিনের মাথায় বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সর্বদল বৈঠকে মিলিত হয় সরকারি ও বিরোধী দলগুলি। সেই বৈঠকে বিদেশ মন্ত্রী এস জয়শঙ্কর ও গোয়েন্দা বিভাগের শীর্ষ আধিকারিকরা সমস্ত রাজনৈতিক দলের নেতাদের পহেলগাঁওয়ের ঘটনার বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেন। লোকসভায় বিরোধী দলের নেতা রাহুল গান্ধি বলেন, সব রাজনৈতিক দল একযোগে এই বর্বর হামলার নিন্দা করেছে এবং সরকারকে যেকোনও পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর দিকে তাকিয়ে রাহুল বলেন, যা অ্যাকশন নেওয়ার নেওয়া হোক। পূর্ণ সমর্থন করা হবে।

বৃহস্পতিবার সর্বদল বৈঠকের আগে কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠক বসেছিল। সেই বৈঠকেও সন্ত্রাসে মদত দেওয়ার জন্য পাকিস্তানকে তুলোধনা করা হয়। সেই সঙ্গে কঠোর পদক্ষেপের দাবি জানানো হয়। সর্বদল বৈঠকে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গে বলেন, তাঁরা চান যত তাড়াতাড়ি সম্ভব কাশ্মীরে শান্তি ফিরে আসুক। তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে কেন্দ্রের পাশে তাঁরা রয়েছেন। গোটা দেশকে ঐক্যবদ্ধভাবে এই সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়তে হবে। সকল রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীকে বার্তা দেওয়া হয়েছে।

সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু পরে জানান, বৈঠকে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা বিভাগ ও সরকারের শীর্ষ আধিকারিকরা সংসদের সদস্যদের বিস্তারিত জানিয়েছেন। কোথায় ত্রুটি হয়েছিল এবং কী পরিস্থিতিতে এই হামলা ঘটেছে তা জানানো হয়েছে। গোটা দেশ এই কঠিন সময়ে একজোট রয়েছে।

প্রসঙ্গত, গত মঙ্গলবার দুপুরে কাশ্মীরের বৈসরন উপত্যকায় লস্কর-ই-তৈবা এর একটি শাখা সংগঠনের জঙ্গিরা হঠাৎ গুলি চালায় নিরীহ পর্যটকদের উপর। ‘মিনি সুইৎজারল্যান্ড’ নামে খ্যাত সেই মনোরম অঞ্চলে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে মুহূর্তেই। নিহতদের মধ্যে একজন নেপালের নাগরিকও রয়েছেন, বাকি ২৫ জন ভারতের ১৪টি রাজ্যের বাসিন্দা। এক সর্বভারতীয় সংবাদ সংস্থা সূত্রে খবর, বৃহস্পতিবারের রুদ্ধদ্বার বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ স্বীকার করে নিয়েছেন, সেদিন নিরাপত্তায় গলদ ছিল। সূত্রের খবর, গোয়েন্দাদের অনুমতি না নিয়েই সম্ভবত পর্যটকদের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছিল বৈসরণ উপত্যকা। বৈঠকে বেশ কয়েকটি বিরোধী দল নিরাপত্তা ব্যবস্থার স্পষ্ট ব্যর্থতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে।

এর জবাবে সরকার জানিয়ে দেয়, পহেলগাঁওয়ের বৈসরন এলাকা খোলার আগে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ নিরাপত্তা সংস্থাগুলিকে অবহিত করেনি। সাধারণত জুন মাসে অমরনাথ যাত্রা পর্যন্ত ওই অঞ্চল নিয়ে কড়াকড়ি থাকে। পাশাপাশি প্রশ্ন ওঠে, কেন হামলার খবর পেয়েও দেরিতে সেখানে পৌঁছয় নিরাপত্তা বাহিনী? সেক্ষেত্রে জানানো হয়, ওই অঞ্চলে পৌঁছতে ৪৫ মিনিট উপরে উঠতে হয়। কেন্দ্রীয় সরকার ইতিমধ্যে পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে পাকিস্তানি নাগরিকদের ভিসা বাতিল, ইন্দাস জল চুক্তি স্থগিত, এবং আটারি সীমান্ত বন্ধের মতো নানা পদক্ষেপ নিয়েছে। এবার সর্বদলীয় বৈঠকে কেন্দ্র সরকারকে যেকোনও কড়া পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য পূর্ণ সমর্থন জানাল বিরোধীরা।

About Post Author