Home » সন্ত্রাসবাদীদের পৃষ্ঠপোষক পাকিস্তান, অবশেষে একথা মেনে নিলেন পাক প্রতিরক্ষা মন্ত্রী

সন্ত্রাসবাদীদের পৃষ্ঠপোষক পাকিস্তান, অবশেষে একথা মেনে নিলেন পাক প্রতিরক্ষা মন্ত্রী

সময় কলকাতা ডেস্ক:- পহেলগাম সন্ত্রাসী হামলায় ২৬ জন পর্যটক নিহত হওয়ার পর ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সম্পর্কের অবনতি ঘটতে শুরু করেছে দ্রুতগতিতে। এরইমধ্যে, শুক্রবার পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ সন্ত্রাসবাদের পৃষ্ঠপোষকতায় যে পাকিস্তান জড়িত, তা স্বীকার করেছেন। যার মধ্যে সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলিকে অর্থায়ন এবং মদদ দেওয়াও অন্তর্ভুক্ত। একটি বেসরকারি টিভি চ্যানেলের সাক্ষাৎকারে পাক প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাওয়াজা আসিফ এ কথা জানান। তিনি আরও বলেন, “আমরা প্রায় ৩ দশক ধরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ব্রিটেন সহ পশ্চিমের দেশগুলির জন্য এই নোংরা কাজ করে আসছি যা পাকিস্তানের ভুল ছিল, যার ফল এখনও ভুগতে হচ্ছে।”

আন্তর্জাতিক স্তরে ভারত বরাবরই পাকিস্তানের এই সন্ত্রাস যোগ এবং সন্ত্রাসবাদীদের মদত নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। সর্বদাই পাকিস্তান ভারতের এই দাবিকে অস্বীকার করেছে। মুম্বাই হামলা, পার্লামেন্ট অ্যাটাক, দেশের একাধিক জায়গায় সন্ত্রাসবাদী হামলায় পাকিস্তানের যোগ নিয়ে বরাবরই আন্তর্জাতিক মহলে সরব ছিল ভারত। বিশ্বের সামনে বহু প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছিল ভারতের পক্ষ থেকে তা সত্ত্বেও সন্ত্রাসবাদী যোগ নিয়ে পাকিস্তান বরাবরই অস্বীকার করে গিয়েছে। কিন্তু পহেলগাঁও সন্ত্রাসী হামলার পরে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী খাওয়াজা আসিফের এই স্বীকারোক্তি প্রকারান্তে পাকিস্তানের সন্ত্রাস যোগ প্রমাণ করছে। অনেকেই এটা মনে করছেন আন্তর্জাতিক মহলে ক্রমশ চাপের কারণেই পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রীর এই স্বীকারোক্তি।

উল্লেখ্য, বিশ্বের ২০ টি দেশের রাষ্ট্রদূতদের সঙ্গে পহেলগাঁও হামলা নিয়ে বৈঠক করেছেন বিদেশমন্ত্রী। বেঞ্জামিন নিতানিয়াহু, ইম্যানুয়েল ম্যাক্রোঁ, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে ভারতের পাশে থাকার বার্তা দিয়েছেন। ফলে সন্ত্রাসবাদ প্রসঙ্গে ক্রমশ বিশ্বের মঞ্চে কোন ঠাসা হচ্ছে পাকিস্তান।

ভারতের তরফ থেকে সিন্ধু চুক্তি বাতিলসহ একাধিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে। পাশাপাশি সিমলা চুক্তি বাতিল সহ বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে পাকিস্তান। কূটনৈতিক যুদ্ধ শুরু হয়ে গিয়েছে দুই দেশের মধ্যে। এরই মাঝে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী সরাসরি হুমকি দিয়েছেন কোনও পাকিস্তানির যদি ক্ষতি করা হয় সেক্ষেত্রে কোনও ভারতীয় সুরক্ষিত থাকবে না।

অন্যদিকে পাক বিদেশমন্ত্রী বিবৃতিতে জানিয়েছেন পহেলগাঁওয়ে যারা হামলা চালিয়েছে তারা জঙ্গি নয়, স্বাধীনতা সংগ্রামী হতে পারে। অর্থাৎ প্রকারান্তে পুরো হামলার দায় স্বীকার করেছে পাকিস্তান। পাকিস্তানের তরফ থেকে যে বিবৃতি জারি হয়েছে সেটা থেকে একটা বিষয় পরিষ্কার, যে এই সন্ত্রাসবাদীদের প্রতি পাকিস্তানের সহমর্মিতা ষোল আনা রয়েছে। কারণ পাকিস্তানের জাতীয় নিরাপত্তা কমিটির তরফে এক উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে বসেছিলেন পাক প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। বৈঠকের শেষেই উপপ্রধানমন্ত্রী ও বিদেশমন্ত্রী ইসাক দার সন্ত্রাসবাদীদের স্বাধীনতা সংগ্রামী আখ্যা দিয়েছেন। অর্থাৎ এটা ধরে নেওয়া যেতেই পারে পুরো মন্তব্যই পাকিস্তান সরকারের মন্তব্য।

যতই হম্বি তম্বি করুক, আদতে পাকিস্তান ভয়ে সিঁটিয়ে রয়েছে, কারণ ইতিমধ্যেই বাংলাদেশের মুখ্য উপদেষ্টার সঙ্গে পাকিস্তান বিদেশ মন্ত্রীর বৈঠক বাতিল করেছে পাকিস্তান। ১৯৮৯ সাল থেকে লাগাতার যে জঙ্গি আক্রমণ ভারতের বুকে সংঘটিত হয়েছে তার মূলে রয়েছে পাকিস্তান। এদিন পাকিস্তান বিদেশ মন্ত্রী ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রীর বক্তব্যর পর এটা অনেকটাই পরিষ্কার। এখন দেখার ভারত এর কি জবাব দেয়।

 

 

About Post Author