সময় কলকাতা ডেস্ক:- পহেলগাঁও হামলার পর প্রায় ২ সপ্তাহ কেটে গিয়েছে। অথচ এখনও মুক্ত বাতাসে শ্বাস নিচ্ছে ২৬ জনকে নির্মমভাবে হত্যা করা জঙ্গিরা। এ পর্যন্ত কাশ্মীরে বেশ কয়েকটি অভিযান ও ধরপাকড় চালিয়েও হামলার মূল অভিযুক্তদের গ্রেফতার বা নিকেশ করা যায়নি। গত রবিবার সরকারিভাবে এই হামলার তদন্তভার নিয়েছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। তদন্তভার নেওয়ার পরই প্রাথমিক রিপোর্ট তৈরি করছে এনআইএ। সেই রিপোর্ট অনুযায়ী, পহেলগাঁও হামলার নেপথ্যে সরাসরি যুক্ত পাক সেনা ও আইএসআই!
প্রাথমিক রিপোর্টে বিস্ফোরক দাবি কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনআইএ-র। সূত্রের দাবি, এনআইএ এই হামলা নিয়ে যে প্রাথমিক রিপোর্ট পেশ করেছে, তাতে স্পষ্ট উল্লেখ করা হয়েছে এই হামলার নেপথ্যে রয়েছে লস্কর, পাক সেনা এবং পাক গুপ্তচর সংস্থা আইএসআইয়ের সম্মিলিত ষড়যন্ত্র। হামলার মূল হোতা দুই সন্ত্রাসী হাশিম মুসা ওরফে সুলেমান এবং আলি ভাই ওরফে তালহা ভাই। দুজনেই পাকিস্তানি নাগরিক এমনকী, হাশিম মুসা পাক প্যারা ফোর্সের প্রাক্তন কম্যান্ডো বলেও জানা গিয়েছে।
আটকদের জিজ্ঞাসাবাদ করে জানা গিয়েছে, দুই আক্রমণকারীই পাকিস্তান-ভিত্তিক হ্যান্ডলারদের সঙ্গে ধারাবাহিক যোগাযোগ বজায় রেখেছিল। হামলার সময়, অস্ত্র সরবরাহ সব বিষয়ে সুনির্দিষ্ট নির্দেশ আসে বর্ডারের ওপার থেকেই। হামলার কয়েক সপ্তাহ আগে সন্ত্রাসীরা ভারতীয় ভূখণ্ডে প্রবেশ করেছিল বলেও জানা গিয়েছে ইতিমধ্যেই। ওভার গ্রাউন্ড ওয়ার্কার্স-এর একটি নেটওয়ার্ক তাদের সহায়তা করেছিল বলেও জানা গিয়েছে। ইতিমধ্যেই ১০ জনের বেশি জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাঁরাই জঙ্গিদের আশ্রয় দেওয়া, যাতায়াতের ব্যবস্থা করা এমনকী, প্রয়োজনীয় লজিস্টিক পৌঁছে দিয়ে যাবতীয় সাহায্য করে।
ইতিমধ্যেই এনআইএ ফরেনসিক এবং ইলেকট্রনিক বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করেছে বলে খবর। অপরাধস্থল থেকে উদ্ধার করা ৪০ টিরও বেশি কার্তুজ ব্যালিস্টিক এবং রাসায়নিক বিশ্লেষণের জন্য পাঠানো হয়েছে। তদন্তকারীরা আক্রমণস্থলের থ্রিডি ম্যাপিংও করেছেন। বৈসরন উপত্যকার মোবাইল টাওয়ার থেকে ডাম্প ডেটা বের করেছেন। হামলার আগে কয়েক দিন এই অঞ্চলে স্যাটেলাইট ফোনের কার্যকলাপ বৃদ্ধি পেয়েছিল। বৈসরন এবং তার আশেপাশে কমপক্ষে তিনটি স্যাটেলাইট ফোন চালু ছিল। যার মধ্যে দুটি থেকে আসা সঙ্কেতগুলি সনাক্ত এবং বিশ্লেষণ করা হয়েছে।
মোট ২ হাজার ৮০০ জনেরও বেশি ব্যক্তিকে এনআইএ এবং নিরাপত্তা সংস্থাগুলি জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। ২ মে পর্যন্ত, ১৫০ জনেরও বেশি ব্যক্তিকে আরও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে রাখা হয়েছে। এর মধ্যে সন্দেহভাজন ওজিডব্লিউ এবং জামাত-ই-ইসলামির মতো নিষিদ্ধ গোষ্ঠী এবং হুরিয়ত কনফারেন্সের বিভিন্ন উপদলের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরাও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
এনআইএ সূত্রের দাবি, হামলাকারী জঙ্গিরা এখনও দক্ষিণ কাশ্মীরের জঙ্গলঘেরা এলাকায় লুকিয়ে। শুধু হামলাকারীরা নয়, আরও বহু জঙ্গি ওই এলাকায় লুকিয়ে। তবে মূল হামলাকারীদের সঙ্গে দূরত্ব বজায় রেখেছে তারা। মূলত হামলাকারীদের কভার ফায়ার দেওয়ার জন্য এলাকায় অন্য জঙ্গিরা লুকিয়ে। আর মূল হামলাকারীরা দুর্গম জঙ্গলে লুকিয়ে থাকার জন্য নিজেদের মতো রসদও সঙ্গে রেখেছে। বেঁচে থাকার জন্য অন্য জঙ্গিদের সঙ্গে যোগাযোগও করতে হচ্ছে না তাদের। আপাতত তারা আত্মনির্ভর। কুপওয়ারা, পুলওয়ামা, সোপোর, অনন্তনাগ এবং বারামুল্লা সহ একাধিক জেলায় অভিযান চালানো হয়েছে। সীমান্তবর্তী এলাকায় সন্ত্রাসী পরিকাঠামো বৃদ্ধি করতে সাহায্য করার সন্দেহে, বেশ কয়েকজন ব্যক্তির বাড়িতে তল্লাশি চালানো হয়েছে।


More Stories
অভিষেকের জন্য জেলে গিয়েছিলাম : অনুব্রত
আর পারলেন না, মমতার হয়ে মদনের লড়াই শেষ
কালীঘাটের তৃণমূলকে স্বস্তি দিল শহীদ দিবস পালনের অনুমতি