সময় কলকাতা ডেস্ক:- সকাল ন’টায় শহর জুড়ে সাইরেন একটা নস্টালজিয়া। সত্তর দশকের শুরু থেকেই যা শুনে ঘড়ি মেলাতেন সব বাঙালি। ৯০-এর দশকে বন্ধ হয়ে যায় ন’টার সেই ভোঁ। সেই সাইরেন কি আজ ফের শুনতে পাওয়া যাবে? প্রশাসনিক মহলেই প্রশ্ন উঠেছে, মক ড্রিল হলেও ভোঁ কি শেষ পর্যন্ত শোনা যাবে? কারণ, কলকাতায় এই মুহূর্তে যে ৯৫টি সাইরেন রয়েছে, তার মধ্যে সচল মাত্র দু’টি। একটি লালবাজারে, অন্যটি ফিয়ার্স লেনে অসামরিক প্রতিরক্ষা দপ্তর বা সিভিল ডিফেন্সের ছাদে। তাও সেটা এখন কতটা সচল, তা নিয়েও সংশয় রয়েছে। বাকি সবই আদতে রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে স্তব্ধ হয়ে পড়ে রয়েছে। হাওড়ায় যে ৪৯টি সাইরেন রয়েছে, সরকারি সূত্রের দাবি, সেগুলি সবই অচল। অন্যান্য জেলার চিত্রও একই।
কোথায় কোথায় মক ড্রিল হবে, তা ঠিক করার দায়িত্ব রাজ্য সরকারের উপরে ছেড়ে দিয়েছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। এমনকী বিকেল চারটে থেকে এই মক ড্রিল হবে বলে কেন্দ্র জানালেও ঠিক কখন সেটা হবে, তাও ঠিক করবে রাজ্য। তবে রাজ্যে আজ, বুধবার না করে কিছু অংশে আগামী কয়েকদিনের মধ্যেও এই ড্রিল হতে পারে বলে সূত্রের খবর।
নবান্নর কর্তাদের কথায়, ‘এই মক ড্রিলের সঙ্গে সরাসরি সাধারণ মানুষের কোনও যোগ নেই। এর সঙ্গে জড়িয়ে অ্যাম্বুল্যান্স, অগ্নি নির্বাপণ ব্যবস্থা, উদ্ধার কাজ, হাসপাতালে কত খালি বেড রয়েছে, প্রভৃতি। সব কতটা সচল আছে, সেটাই ঝালিয়ে নিতে এই ব্যবস্থা।’
তবে এ বার ভোঁ শোনা যাক আর না যাক, মক ড্রিলই এখন টক অফ দ্য টাউন। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক রাজ্যগুলিকে নির্দেশ দেওয়ার পরেই উড়ে আসছে প্রশ্ন- ‘তা হলে কি ব্ল্যাক আউট হবে? আলো জ্বালানো যাবে না? সাইরেন বাজবে?’
প্রাক্তন পুলিশ কর্তা তপন মিত্র জানিয়েছেন, আগে থানার ছাদে থাকত সাইরেন যন্ত্র। রবীন্দ্র সরোবরের ভিতরে সিভিল ডিফেন্সের কন্ট্রোলরুম থেকে সুইচ অন করে ঠিক সকাল ন’টায় একসঙ্গে সর্বত্র সাইরেন বাজানো হতো। প্রতিদিন সাইরেন বাজার পরে থানায় জেনারেল ডায়েরি করতে হতো। কোনও কারণে ভোঁ না–বাজলে সিভিল ডিফেন্সের লোক এসে তা সারিয়ে দিয়ে যেতেন। প্রবীণ ওই অফিসার জানিয়েছেন, নব্বই দশকের শুরুতেও গড়িয়াহাট থানায় ওই সাইরেন বাজতে শোনা গিয়েছে। তারপরে ধীরে ধীরে বন্ধ হয়ে যায় ন’টার ভোঁ।
সরকারি হিসেবে প্রতিটি জেলায় ২০–২৫টি সাইরেন রয়েছে, যা থানার সঙ্গে যুক্ত। সরকারি কর্তাদের দাবি, কয়েকটি জেলা সদরে সচল সাইরেন মিললেও মিলতে পারে। সেগুলি বাজিয়ে পরীক্ষা করতে হবে। সাইরেন বাজানোর জন্য আলাদা লোকও রয়েছে। সরকারি কর্তাদের দাবি, অচল সাইরেনগুলি দ্রুত সারিয়ে তোলা সম্ভব না হলে, নতুন সাইরেন বসানো হবে।


More Stories
আরজিকর কাণ্ডের আইনি ফাঁসে রচনা
নেতা নয় নায়ক, যমের অরুচি, ঋতব্রতকে ভয়ঙ্কর আক্রমণ শতরূপের
চাকরি পাওয়া নিয়ে দীপাঞ্জনকে পাল্টা জবাব দিলেন মীনাক্ষী