Home » ‘পুশ ব্যাক’ নিয়ে ভারত-বাংলাদেশ বিবাদ বাড়ছে, ফের উত্তপ্ত ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত

‘পুশ ব্যাক’ নিয়ে ভারত-বাংলাদেশ বিবাদ বাড়ছে, ফের উত্তপ্ত ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত

সময় কলকাতা ডেস্ক:- পহেলগাঁও হামলার জবাবে ‘অপারেশন সিঁদুর‌ দেখেছে পাকিস্তান। একদম নির্দিষ্ট লক্ষ্যে হানা দিয়ে গুঁড়িয়ে দিয়েছে পাকিস্তানের জঙ্গি ঘাঁটিগুলি। একের পর এক জঙ্গি নিহত হয়েছে। যার সংখ্যা বহু। তারপর ভারতের উপর পাল্টা আক্রমণ করতে গিয়ে দিশেহারা হয়ে গিয়েছে পাক সেনারা। কারণ একদিকে যেমন পাকিস্তানের আক্রমণ প্রতিহত করে দিয়েছে ভারত অপরদিকে করাচি, ইসলামাবাদ, রাওলপিন্ডিতে পাল্টা জবাব দিতেই চাপে পড়ে যায় পাকিস্তান। তবে পাকিস্তানের জঙ্গি ঘাঁটি ধ্বংস করা হলেও, আপাতত ভয়ে কাঁপতে শুরু করে বাংলাদেশও। একদিকে পাকিস্তানে ভারতের প্রত্যাঘাত, অপরদিকে, বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের সে দেশে ফেরত পাঠানো নিয়ে ভারত সরকারের তৎপরতা।

অনুপ্রবেশের বিপদ নিয়ে বিরোধী দলগুলির সমালোচনার মুখে সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর সঙ্গে যৌথভাবে একাধিক নিরাপত্তা এজেন্সি এই কাজ শুরু করেছে। বিগত দিনগুলির মতো এবারও বাংলাদেশ সরকার আপত্তি তুলেছে। সে দেশের সীমান্ত রক্ষী বাহিনী বিজিবি দাবি করেছে, বৃহস্পতিবার গভীর রাতে ত্রিপুরা সীমান্তে বাংলাদেশের ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বিজয়নগর উপজেলার সীমান্ত দিয়ে বিএসএফের পুশ ব্যাক বা জোর করে সীমানা পাড় করিয়ে দেওয়ার চেষ্টা তারা ভেস্তে দিয়েছে।

সূত্রের খবর, গত ৪ মে থেকে বৃহস্পতিবার, ১৫ মে পর্যন্ত তিনশোর বেশি বাংলাদেশিকে তাদের দেশে ঠেলে পাঠাতে সক্ষম হয়েছে ভারতের সীমান্ত রক্ষী এবং উপকূল রক্ষী বাহিনী। বাংলাদেশের মেহেরপুর, সিলেট, মৌলভীবাজার, সাতক্ষীরা এবং খাগড়াছড়ি জেলা দিয়ে এই অনুপ্রবেশকারীদের ফেরত পাঠানো হয়।

বাংলাদেশের সাতক্ষীরা জেলা ভারতের বসিরহাটে ইছামতী নদীর অপর প্রান্তে অবস্থিত। সুন্দরবন লাগোয়া ওই জেলায় ভারতীয় উপকূল বাহিনী ৭৮ জনকে সম্প্রতি সাতক্ষীরা দিয়ে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেয়। গুজরাটের উপকূলে তাদের গ্রেফতার করেছিল উপকূল বাহিনী। সুন্দরবন লাগোয়া ওই জেলায় ৭৮ জনকে পুশ ব্যাক করার পর বাংলাদেশ সরকার কূটনৈতিক চ্যানেলে ভারতের কাছে প্রতিবাদ জানিয়েছে।

তাদের বক্তব্য, বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীকে অন্ধকারে রেখে জনমানবহীন এলাকা দিয়ে পুশ ব্যাক করা হয়েছে। বাংলাদেশ এই ধরনের পুশ ইনের তীব্র বিরোধিতা করে। তবে তারা যে বেআইনিভাবে ভারতে প্রবেশ করেছিল তা মেনে নিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। বাংলাদেশ সীমান্ত রক্ষী বাহিনী বর্ডার গার্ডস বাংলাদেশের বক্তব্য, বিএসএফ যাদের ফিরিয়েছে তাদের অনেকের ভারতের ভোটার কার্ড, আধার কার্ড আছে। তারা ভারতের নাগরিকত্ব পেয়েছিল। এমন মানুষদের ফেরানো যায় না। তারা বহু বছর আগে কাজের সন্ধানে দেশ ছেড়েছিল। মনে করা হচ্ছে, অনুপ্রবেশের অভিযোগ বানচাল করতেই বাংলাদেশ পুশ ইন আটকাতে তৎপর।

About Post Author