সময় কলকাতা ডেস্ক :- আজ থেকে ঠিক এক মাস আগে এপ্রিলের ২২ তারিখ দক্ষিণ কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ের বৈসরণ তৃণভূমিতে ঘটে যাওয়া নৃশংস হত্যালীলা কাঁপিয়ে দিয়েছে গোটা দেশকে। গত মাসের এই দিনে জঙ্গি হামলায় প্রাণ হারিয়েছিলেন ২৬ জন নিরীহ পর্যটক। গোটা দেশ কেঁদেছে এই ঘটনায়। কিন্তু ভারত চুপ থাকেনি।
সামরিক প্রতিক্রিয়া হিসেবে অপারেশন সিঁদুর অভিযান চালায় ভারত। পাকিস্তান এবং পাক অধিকৃত কাশ্মীরে জঙ্গি ঘাঁটির উপর নির্ভুল হামলা চালানো হয়। এই অভিযানের লক্ষ্য ছিল পহেলগাঁও হামলার জন্য দায়ী জঙ্গি নেটওয়ার্কগুলিকে ধ্বংস করা এবং অসামরিক হতাহতের ঘটনা এড়ানো। এটি ভারতের সন্ত্রাসবিরোধী কৌশলের একটি উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ। ভারতের প্রত্যাঘাতের পর পাকিস্তান ৮, ৯ এবং ১০ মে ভারতীয় সামরিক ঘাঁটিতে আক্রমণের চেষ্টা করে। ভারতীয় সেনা সেই হামলা প্রতিরোধ করে। অবশেষে দুই দেশ সংঘর্ষবিরতিতে রাজি হয়।
ধীরে ধীরে স্বাভাবিক ছন্দে ফিরছে ভূস্বর্গ। যদিও উপত্যকার বেশিরভাগ পর্যটন কেন্দ্র আজ পর্যটক শূন্য। বহুদিন বন্ধ থাকার পর ধীরে ধীরে খুলছে দোকান বাজার স্কুল কলেজ অফিস। তবুও আতঙ্ক কাটিয়ে এখনো পুরোপুরি ছন্দে ফিরতে পারেনি পেহেলগাও সহ গোটা কাশ্মীর।
স্থলভাগে সমস্ত যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়ার উদ্দেশ্যে ভারত ১ মে আটারি-ওয়াঘা সীমান্ত বন্ধ করে দেয়। যা দুই দেশের মধ্যে প্রধান স্থলপথে বাণিজ্য ও ভ্রমণ পথ ছিল। এই পদক্ষেপের লক্ষ্য ছিল দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ব্যাহত করা এবং পহেলগাঁও হামলায় পাকিস্তানের জড়িত থাকার অভিযোগের বিরুদ্ধে ভারতের দৃঢ় অবস্থানের ইঙ্গিত।
২৩ এপ্রিল ভারত নয়াদিল্লিতে অবস্থিত পাকিস্তান হাইকমিশনে নিযুক্ত পাকিস্তানি সামরিক উপদেষ্টাদের বহিষ্কার করা হয়। ইসলামাবাদ থেকে সমস্ত সামরিক কর্মীদের দেশে ফিরে আসতে বলা হয়। এছাড়াও, ইসলামাবাদে অবস্থিত ভারতীয় হাইকমিশন কর্মী সংখ্যা ৫৫ থেকে কমিয়ে ৩০ জনে নামিয়ে এনেছে। কূটনৈতিক যোগাযোগ কমাতে এবং পাকিস্তানের কর্মকাণ্ডের প্রতি অসন্তোষ প্রকাশ করতেই এই পদক্ষেপ।
২৭ এপ্রিল থেকে ভারত কর্তৃক পাকিস্তানি নাগরিকদের জন্য জারি করা সমস্ত বৈধ ভিসা বাতিল করা হয়েছে। ভারত পাকিস্তানি নাগরিকদের জন্য পূর্বে জারি করা সমস্ত ভিসা বাতিল করেছে এবং সার্ক ভিসা প্রকল্পের অধীনে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। সন্ত্রাসবাদের প্রতি ভারতের অনমনীয় মনোভাব প্রকাশের উদ্দেশ্যে এই পদক্ষেপ।
পহেলগাঁও হামলার নেপথ্যে পাকিস্তানের যোগসূত্র খুঁজে পাওয়ার পরেই সিন্ধু জলচুক্তি স্থগিত করেছে ভারত। ১৯৬০ সালে স্বাক্ষরিত এই চুক্তিতে গুরুতর সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে পাকিস্তান। সিন্ধু নদের জলের উপরে পাকিস্তানের ৮০ শতাংশ কৃষিকাজ নির্ভরশীল।


More Stories
অভিষেকের জন্য জেলে গিয়েছিলাম : অনুব্রত
আর পারলেন না, মমতার হয়ে মদনের লড়াই শেষ
কালীঘাটের তৃণমূলকে স্বস্তি দিল শহীদ দিবস পালনের অনুমতি