সময় কলকাতা ডেস্ক:- আগামী বছর বাংলায় বিধানসভা নির্বাচন। ক’দিন আগে বঙ্গে এসে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বলে গিয়েছেন, আগামী বছর বঙ্গে ক্ষমতায় আসবে বিজেপি-ই। আবার তামিলনাড়ুতে গিয়েও একই কথা বলে এসেছেন তিনি।
কিন্তু রাজ্যে টানা তিনবার ক্ষমতায় থাকা তৃণমূলকে হারাতে গেলে যে সংগঠনের দরকার, তা কি আদৌ আছে গেরুয়া শিবিরের? তা নিয়ে সংশয়ে বিজেপি-র কেন্দ্রীয় নেতৃত্বই।
রাজ্যে সাম্প্রতিক কয়েকটি নির্বাচনে দেখা গিয়েছে, উত্তরবঙ্গে যেখানে বিজেপি-র শক্তি বেশি, সেখানেও থাবা বসিয়েছে তৃণমূল। তা মেনে নিয়ে পদ্মের শীর্ষ নেতৃত্বের বক্তব্য, ‘উত্তরবঙ্গে আমাদের পায়ের তলার জমি কিছুটা হারিয়ে গিয়েছে, এটা খারাপ হয়েছে। তবে বাংলা নিয়ে আমাদের বিশেষ পরিকল্পনা আছে। আমরা নিয়মিত ভাবে বাংলায় যাতায়াত বাড়াব।’ তবে এই বিশদ পরিকল্পনার কথা এ দিন ভাঙেননি পদ্মের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব।
সাম্প্রতিক অতীতে বঙ্গ-বিজেপির শীর্ষ নেতাদের মধ্যে বারবার মতানৈক্যের ছবি সামনে এসেছে। এমনকী একটি শিবির অন্য শিবিরের নামে নালিশও ঠুকে এসেছে। আবার বঙ্গ-বিজেপির এক প্রবীণ নেতার ব্যাখ্যা, ‘বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী, রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার, প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষের মতো তিন প্রধান মুখকেও একসঙ্গে দেখা যায় কদাচিৎ। ফলে নিচু স্তরেও তার প্রভাব পড়তে বাধ্য। সম্ভবত সেই বিষয়টা কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব ভালোই বুঝতে পারছেন। তবে এই সমস্যাটা যত দ্রুত দূর করা যায়, ততই ভালো।
বিজেপি-র শীর্ষ নেতৃত্ব মানছেন, বাংলায় দলীয় সংগঠনে বেশ কিছু সমস্যা আছে। ওখানকার নেতারা তরুণ, কিন্তু আরও অভিজ্ঞতা প্রয়োজন। রাজনীতিতে অভিজ্ঞতা একটা বড় ফ্যাক্টর।
তবে তাঁরা আশাবাদী, বাংলায় তৃণমূল সরকারের দুর্নীতি, অপশাসন, আইন-শৃঙ্খলার অবনতি, তুষ্টিকরণ, উন্নয়নমুখী রাজনীতির অভাবের বিরুদ্ধে তাঁদের পূর্ণ উদ্যমে লড়াই হবে। ধর্মীয় মেরুকরণের পথে হাঁটলেও দলকে বঙ্গে সাধারণ মানুষের ইস্যু নিয়ে আরও বেশি করে রাস্তায় নামতে হবে। বাংলায় বিজেপির কয়েকজন নেতা আছে যাঁদের কাছে ধর্মীয় মেরুকরণের ইস্যুই বড় বলে মনে হয়। এঁদের ভারসাম্য আনতে হবে। বুঝতে হবে, দুর্নীতি, অনুন্নয়ন, অপশাসনের ইস্যু অনেক বড়।


More Stories
অভিষেকের জন্য জেলে গিয়েছিলাম : অনুব্রত
আর পারলেন না, মমতার হয়ে মদনের লড়াই শেষ
কালীঘাটের তৃণমূলকে স্বস্তি দিল শহীদ দিবস পালনের অনুমতি