Home » মালদ্বীপের স্বাধীনতা দিবসে অতিথি মোদি; চিন নিয়ে মইজ্জুর মোহভঙ্গ; ঘুম উড়বে চিনের? ইউনুসকেও বার্তা?

মালদ্বীপের স্বাধীনতা দিবসে অতিথি মোদি; চিন নিয়ে মইজ্জুর মোহভঙ্গ; ঘুম উড়বে চিনের? ইউনুসকেও বার্তা?

সময় কলকাতা ডেস্ক:- লাক্ষাদ্বীপ সফরের সময় নরেন্দ্র মোদিকে অপমান করেছিলেন মলদ্বীপের মন্ত্রীরা। সেই মলদ্বীপেই এবার যেতে পারেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। জানা গিয়েছে, ২৬ জুলাই মলদ্বীপের স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে মোদি সেখানে যেতে পারেন। অত্যন্ত জরুরি কাজ ছাড়া প্রধানমন্ত্রীর এই কর্মসূচি বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা কম। বিগত বছরগুলিতে ভারতের কূটনৈতিক প্রভাব বিস্তারের এক নজির হয়ে থাকতে পারে এই সফর।

এদিকে মুইজ্জু সেই দেশের প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর এটাই হবে মোদির প্রথম মলদ্বীপ সফর। ২৬ জুলাই ভারত মহাসাগরের এই দ্বীপরাষ্ট্রটির ৬০ তম স্বাধীনতা দিবস। ১৯৬৫ সালে ওইদিনে দেশটি ব্রিটিশের কবলমুক্ত হয়েছিল। মালদ্বীপের রাষ্ট্রপতি মহম্মদ মইজ্জু স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে প্রধান অতিথি হিসাবে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন।

গত মাসে মালদ্বীপের বিদেশমন্ত্রী দিল্লি এসে সরকারি আমন্ত্রণপত্র প্রধানমন্ত্রীর হাতে তুলে দেন। গত বছর মইজ্জু ভারত সফরে এসে নরেন্দ্র মোদিকে মৌখিক আমন্ত্রণও জানিয়ে গিয়েছিলেন। মুইজ্জু শপথগ্রহণের সময় আমন্ত্রণ পেয়ে যাননি মোদি। পরিস্থিতি অবশ্য তখন ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন।

ভারত বিরোধিকার সুর চড়িয়ে ক্ষমতায় আসা মইজ্জু দায়িত্ব নেওয়ার পর পরই তাঁর দেশ থেকে ভারতীয় সেনাদের ফেরত পাঠিয়ে দেন। নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন মালদ্বীপের বন্দর ব্যবহারে। এছাড়া ভারতীয় পণ্যের উপরও কঠোর শর্ত আরোপ করেন। আশ্চর্যের হল মইজ্জু নিজের দেশেই এ নিয়ে বিপাকে পড়েন। চিনের প্ররোচণায় তিনি এই সব পদক্ষেপ করছেন বলে বিরোধীরা সরব হয়।

পাল্টা ভারতও মালদ্বীপে পর্যটক পাঠানো বন্ধ করে দেওয়ায় বিপাকে পড়ে সে দেশের পর্যটন ব্যবসা। পরিস্থিতি আঁচ করে পথ বদলের ইঙ্গিত দেন। দিল্লিতে এসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে কথা দিয়ে যান মালদ্বীপের সঙ্গে ভারতের দীর্ঘ ইতিহাসকে বিবেচনায় রেখে চলবে তাঁর সরকার।

এমনকী, মোদির সমালোচনা করা দুই মন্ত্রীকেও মন্ত্রিসভা থেকে বাদ দেন মইজ্জু। মলদ্বীপে ভারতের ভূমিকা নিয়ে বছরের পর বছর ধরে বিরোধিতা করে এসেছিলেন মলদ্বীপের বর্তমান প্রেসিডেন্ট মহম্মদ মুইজ্জু। তাঁর অভিযোগ ছিল, ভারত তাদের সার্বভৌমত্বে হস্তক্ষেপ করছে।

এই ইস্যুকে হাতিয়ার করেই ভোটে লড়েছিলেন তিনি। তবে রাষ্ট্রপতি হওয়ার পর গত ৩ মে প্রথমবার মুইজ্জু মেনে নিয়েছিলেন, ভারতের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক চুক্তি নিয়ে ‘কোনও গুরুতর উদ্বেগ নেই’। মালদ্বীপের এক সময়কার এই ভারত বিরোধী প্রেসিডেন্টের পথ বদলের আরও একটি কারণ চিনের ঋণ। বছরের পর বছর চিনের কাছ থেকে নেওয়া ঋণ শোধ করকে গিয়ে নাভিশ্বাস উঠেছে দেশটির।

অন্যদিকে, ভারত সফরে এসে মইজ্জু বিপুল অঙ্কের অনুদানের প্রতিশ্রুতি আদায় করে নিয়ে গিয়েছেন। আসলে, মালদ্বীপ এবং মইজ্জুর অবস্থান বদল বাংলাদেশ ও সে দেশের প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনুসের জন্য গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা। দায়িত্ব নেওয়ার পর পরই ইউনুস চিন ও পাকিস্তানের সঙ্গে হাত মিলিয়ে ভারত বিরোধিতায় মেনে পড়েছেন। চিনের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ ঋণ নিতে অগ্রসর হয়েছেন তিনি। তাঁর চিন প্রীতি এতটাই যে গত ২৬ মার্চ দেশের স্বাধীনতা দিবসের রাষ্ট্রীয় কার্যক্রম কাটছাঁট করে ইউনুস সে দেশে একটি বাণিজ্য সম্মেলনে যোগ দিতে চলে যান।

অন্যদিকে, পাকিস্তানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার সূত্র ধরে বাংলাদেশের মাটিতে নতুন করে ভারত বিরোধী শক্তি মাথাচাড়া দিচ্ছে। বাংলাদেশেও অস্থিরতা তৈরি করছে তারা। যেভাবে ভারতের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি করে বাংলাদেশ চিনের দিকে ঝুঁকছে তাতে দ্রুত দেশটির অবস্থা শ্রীলঙ্কার মতো হতে পারে। চিনের দেওয়া ঋণের টাকা সুদে-আসলে মেটাতে গিয়েই মুখ থুবড়ে পড়ছিল শ্রীলঙ্কার অর্থনীতি।

আর এক দ্বীপরাষ্ট্র শ্রীলঙ্কার থেকে শিক্ষা নিয়েই মালদ্বীপ ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক মজবুত করতে আগ্রহী হয়ে উঠেছে। তাই এই পরিস্থিতিতে, মোদির মালদ্বীপে সফরে কি ঘুম উড়বে চিনের? বিশেষ বার্তা দেওয়া হবে ইউনুসকেও? চর্চা তুঙ্গে।

About Post Author