Home » আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল জুড়ে জাল প্রেসক্রিপশন দাপাদাপি!

আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল জুড়ে জাল প্রেসক্রিপশন দাপাদাপি!

সময় কলকাতা ডেস্ক:- কখনও রোগিণীর প্রেসক্রিপশনে মস্তিষ্কের সিটি স্ক্যান করানোর কথা লিখছেন প্রসূতি ও স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ! যেটা হওয়ার সম্ভাবনা প্রায় নেই। আবার, কখনও প্যাথলজি বা বায়োকেমিস্ট্রির বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দিচ্ছেন এমআরআই-এর পরামর্শ! তাঁরা কিন্তু সরাসরি রোগী দেখেন না কখনও।

কিন্তু কিছু দিন ধরে এমনই অদ্ভুত সব প্রেসক্রিপশন পাওয়া যাচ্ছে আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। সেখানে পিপিপি মডেলে চলা ডায়াগনস্টিক সেন্টারে সিটি স্ক্যান, এমআরআই ইত্যাদির মতো দামি টেস্টের পরামর্শ দিয়ে যাঁদের ‘প্রেসক্রিপশন’ জমা পড়ছে, সেই চিকিৎসকদের ওটা লেখার কথাই নয়।

আরজি করের উপাধ্যক্ষ তথা মেডিক্যাল সুপার সপ্তর্ষি চট্টোপাধ্যায় স্বীকার করেছেন, বিষয়টি তাঁরা নজরেও এসেছে। আপাতত হাসপাতালেরই একটি কমিটি তা খতিয়ে দেখছে। এমনটা যে হচ্ছে, সে কথা বিস্তারিত ভাবে জানানো হয়েছে স্বাস্থ্য ভবনেও।

অধিকাংশ ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে, সেন্টারে জমা পড়া প্রেসক্রিপশনে শিক্ষক-চিকিৎসকের নাম, মোবাইল নম্বর ও পদমর্যাদা ঠিক থাকলেও তাঁর রেজিস্ট্রেশন নম্বরটি ভুয়ো। ফলে অনেকেরই সন্দেহ, ভুয়ো প্রেসক্রিপশনের আড়ালে দুষ্ট চক্র নিয়মবহির্ভূত ভাবে টাকা কামাচ্ছে।

চিকিৎসকের নামের সঙ্গে থাকছে ভুয়ো রেজিস্ট্রেশন নম্বর। এমনিতে ডায়াগনস্টিক সেন্টারে বিলিংয়ের সময়ে ডাক্তারের মোবাইল নম্বর এন্ট্রি করতে হয়। তখন সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের কাছে এসএমএস পৌঁছয়। ফোনে সেই এসএমএস পেয়ে কার্যত আকাশ থেকে পড়ছেন ‘প্রেসক্রিপশনে’ নাম থাকা চিকিৎসকরা!

বিষয়টি খতিয়ে দেখছেন উদ্বিগ্ন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। সন্দেহ, হাসপাতালে ফের কোনও দুর্নীতি মাথাচাড়া দিচ্ছে না তো! আরজি কর যে দুর্নীতির একটা চক্রে পরিণত হয়েছে, সে অভিযোগ আগেই ওঠে।

গত বছর অগস্টে তরুণী চিকিৎসকের খুন–ধর্ষণের পরে সেই মৌচাকে ঢিল পড়েছিল। তদন্তে উঠে আসে একের পর এক দুর্নীতির কথা। সে সবের ‘পান্ডা’ হিসেবে গ্রেপ্তার করা হয় তৎকালীন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষকে।

কিন্তু বছর না ঘুরতেই যে আবার অনিয়মের সন্ধান মিলবে, সেটা ভাবতে পারেননি কর্তৃপক্ষ। স্বাস্থ্য দপ্তরের নির্দেশিকা অনুযায়ী, যে কোনও চিকিৎসক সিটি স্ক্যান, এমআরআই ইত্যাদির মতো দামি রেডিয়োলজি পরীক্ষার পরামর্শ দিতে পারেন না।

তা দিতে গেলে কমপক্ষে অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর পদমর্যাদার শিক্ষক-চিকিৎসক হতে হয়। সেই নিয়ম মেনেই সব চলছিল। কিন্তু সম্প্রতি দেখা যায়, পদমর্যাদা ঠিকঠাক থাকলেও যে সব শাখার চিকিৎসকের যে সব প্রেসক্রিপশন করার কথা নয়, তাঁদেরই প্রেসক্রিপশন জমা পড়ছে ওই ডায়াগনস্টিক সেন্টারে।

About Post Author