সময় কলকাতা ডেস্ক, ২২ জুলাই : একদিনের জন্য সাসপেন্ড ও কলকাতায় চ্যাংদোলা -দিল্লিতে সাসপেন্ড এবং সম্পূর্ণ অধিবেশনের জন্য সাসপেন্ড। তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়ক ও সাংসদ কুণাল ঘোষ ও কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে নেওয়া হল পরিষদীয় এবং সংসদীয়় ব্যবস্থা।
কুণাল ঘোষ এবং কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। বিড়লা তারামণ্ডলের সামনে মঙ্গলবার ২১ জুলাই তৃণমূল কংগ্রেসের শহিদ দিবস পালন কর্মসূচিতে দুজনেই মমতা শিবির ছেড়ে যাওয়া বিধায়ক ও সাংসদদের বিরুদ্ধে ছিলেন আক্রমণাত্মক। বিজেপিকেও তোপ দেগেছিলেন দুজনেই । ঠিক একদিন পরেই, বুধবার, ২২ জুলাই কলকাতায় বিধানসভা এবং দিল্লিতে লোকসভাতেও তাঁরা তাঁদের আক্রমাত্মক মনোভাব বজায় রেখেছিলেন। ফলে সৃষ্টি হয় নজিরবিহীন বিশৃঙ্খলা। কালীঘাটপন্থী ও মমতাপন্থী বলে পরিচিত তৃণমূল কংগ্রেসের দুই বিধায়ক এবং সাংসদের বিরুদ্ধে নেওয়া হল ব্যবস্থা। দুজনেই সংঘাত ও বিবাদে জড়িয়ে ছিলেন তৃণমূল এবং একদা তৃণমূল বিধায়ক ও সাংসদদের সঙ্গে।কুণাল ঘোষকে চ্যাংদোলা করে বিধানসভা থেকে বের করে দেওয়া হয় এবং একদিনের জন্য সাসপেন্ড করা হয়। তবে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে বড় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তাঁকে সম্পূর্ণ অধিবেশনের জন্যই সাসপেন্ড করে দেওয়া হয়েছে। কী ছিল রাজ্যের পরিষদীয় এবং কেন্দ্রের সংসদীয় সভার চিত্র?
কলকাতায় (বিধানসভায়) কুণাল ঘোষ
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় তীব্র হট্টগোল ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির কারণে বেলেঘাটার তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষকে শুধুমাত্র আজকের দিনের (২২ জুলাই, ২০২৬) জন্য বিধানসভা থেকে সাসপেন্ড বা নিলম্বিত করা হয়েছে এবং স্পিকারের নির্দেশে মার্শালরা তাঁকে টেনে-হিঁচড়ে ও চ্যাংদোলা করে অধিবেশনকক্ষ থেকে বের করে দিয়েছেন। ঘটনার সূত্রপাত হয় যখন বিধানসভায় স্বরাষ্ট্র ও পার্বত্য বিষয়ক বাজেটের আলোচনা চলাকালীন ঋতব্রত শিবিরের বিধায়ক তথা বিরোধী দলের মুখ্যসচেতক আখরুজ্জামান বক্তব্য রাখতে উঠলে কুণাল ঘোষ তাঁকে বাধা দেন। কুণাল ঘোষের অভিযোগ ছিল, বক্তা তালিকা থেকে তাঁর নাম কেন বাদ দেওয়া হয়েছে। কুণাল ঘোষ নিজের আসন ছেড়ে আখরুজ্জামানের আসনের সামনে গিয়ে চরম উত্তেজনা সৃষ্টি করেন এবং তাঁকে বাধা দিয়ে ‘বিজেপির দালাল’ বলে তোপ দাগেন বলে অভিযোগ ওঠে। অতঃপর তার বিরুদ্ধে সাসপেনশনের প্রস্তাব আনেন বিজেপির তাপস রায়।
দিল্লিতে (লোকসভায় ) কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়
লোকসভার বাদল অধিবেশন থেকে পুরো সময়ের জন্য সাসপেন্ড করা হলো শ্রীরামপুরের তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে। মহিলা সাংসদদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার ও অসংসদীয় ভাষা প্রয়োগের অভিযোগের ভিত্তিতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়।লোকসভার অন্দরে এনসিপিআই (NCPI) দলের মহিলা সাংসদদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডা এবং অসংসদীয় শব্দ ব্যবহারের অভিযোগ ওঠে কল্যাণের বিরুদ্ধে। কাকলি ঘোষ দস্তিদারের মতো সাংসদরা লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার কাছে সরাসরি অভিযোগ জানান। সরকারের পক্ষে সংসদীয় মন্ত্রী অর্জুন রাম মেঘওয়াল কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে সাসপেন্ড করার প্রস্তাব পেশ করেন, যা ধ্বনিভোটে পাস হয়।।
আরও পড়ুন “বাপের নাম ঠিক থাকলে ডায়মন্ড হারবারে লড়বে ” : অভিষেককে চ্যালেঞ্জ মুখ্যমন্ত্রীর
কলকাতায় চ্যাংদোলা -দিল্লিতে সাসপেন্ড #কুণালঘোষ # কল্যাণবন্দ্যোপাধ্যায়


More Stories
পুলিশের জালে স্বপন সাহা, মালবাজারে দোলাচল
মমতা প্রমাণ করলেন কর্মীরাই আসল তৃণমূল
২১ জুলাই স্মরণ : টেক্কা দিল কোন শিবির ? মমতা নাকি ঋতব্রত?