সময় কলকাতা ডেস্ক:- ‘সর্ষের মধ্যেই ভূত’-এর সন্ধান মিলেছে ন্যাশনাল মেডিক্যাল কমিশন-এ। দেশের বিভিন্ন মেডিক্যাল কলেজ ও চিকিৎসা-শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নজরদারি চালানোর কথা এই কেন্দ্রীয় নিয়ামক সংস্থার। অথচ অনুমোদনের ক্ষেত্রে সেখানকারই কর্তাদের একাংশ ঘুষ নিয়েছেন বলে অভিযোগ জানিয়ে এফআইআর করেছে সিবিআই। যে ৩৪ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তাঁদের মধ্যে আছেন এনএমসি-র ছ’জন পরিদর্শক ও শীর্ষস্থানীয় আধিকারিক। এরপরেই কার্যত শোরগোল পড়েছে গোটা দেশে। এই পরিস্থিতিতে এনএমসি-কে ঢেলে সাজার দাবি তুললো চিকিৎসক সংগঠনগুলি।
এ নিয়ে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুকে চিঠি লিখেছে চিকিৎসক সংগঠন ‘অ্যাসোসিয়েশন অব হেলথ সার্ভিস ডক্টর্স’। তাদের দাবি, সিস্টেমকে দুর্নীতিমুক্ত করতে অবিলম্বে পদক্ষেপ করা হোক। সুপ্রিম কোর্টের কোনও অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির তত্ত্বাবধানে এ নিয়ে কেন্দ্রীয় স্তরে পৃথক তদন্ত হোক।
কেন্দ্রীয় এজেন্সির এফআইআরে নাম থাকা ৩৪ জনের প্রত্যেককে আপাতত সাসপেন্ড করার দাবিও তোলা হয়েছে। কমিশনের কার্যকলাপ নিয়ে সংসদীয় স্তরে পদক্ষেপের আর্জি জানানো হয়েছে রাষ্ট্রপতির কাছে।এনএমসি–র বদলে নতুন একটি স্বচ্ছ নিয়ামক সংস্থা তৈরির দাবিও রয়েছে চিঠিতে। প্রায় একই ধরনের দাবি তুলেছে আর এক চিকিৎসক সংগঠন ‘সার্ভিস ডক্টর্স ফোরাম’।
ডাক্তারির স্নাতকোত্তর শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানগুলির সংগঠন ‘অ্যাসোসিয়েশন অফ ন্যাশনাল বোর্ড অ্যাক্রেডিটেড ইনস্টিটিউশন’ (এএনবিএআই)–এর তরফে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে চিঠি দিয়ে দাবি করা হয়েছে, এনএমসি–র দুর্নীতিগ্রস্ত পরিচালন পর্ষদ ভেঙে দেওয়া হোক অবিলম্বে।
মেডিক্যাল কলেজ পরিদর্শনের বিষয়টিকে আরও প্রযুক্তিনির্ভর করার দাবিও জানানো হয়েছে ওই চিঠিতে, যাতে ব্যক্তি-নির্ভর পরিদর্শনের অনিয়ম কমানো যায়। পাশাপাশি চিকিৎসা–শিক্ষাকে আরও জনস্বাস্থ্য-নির্ভর করা হোক বলেও সংগঠনের দাবি। তবে সিবিআই এত বড় অভিযোগ তোলার পরে যে এনএমসি-র বর্তমান কমিটির নৈতিক ভাবে থাকা উচিত নয়, সে ব্যাপারে বিশেষ ভাবে জোর দিয়েছে তারা।
ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে মুর্শিদাবাদ মেডিক্যালের অ্যানাটমির তৎকালীন বিভাগীয় প্রধান, এনএমসি-র পরিদর্শক তপনকুমার জানাকে গ্রেপ্তার করা হয় মে মাসেই। জুনে একই অভিযোগের প্রেক্ষিতে দেশের ৬ রাজ্যের (ছত্তিসগড়, কর্নাটক, মধ্যপ্রদেশ, রাজস্থান, উত্তরপ্রদেশ ও দিল্লি) ৪০টি জায়গায় হানা দেয় সিবিআই।


More Stories
কলকাতায় পেট্রোলের দাম লিটারে ৪ পয়সা কমল, ডিজেল বাড়ল ৯৪ পয়সা
পুলওয়ামা হামলার মাস্টারমাইন্ড হামজা বুরহান খ*তম , কে এই হামজা?
ককরোচ জনতা পার্টির এক্স হ্যান্ডেল নিষিদ্ধ!