Home » তুলে দেওয়া হল ‘ব্যাক বেঞ্চার’ প্রথা! গধেয়ারখুঁটি এসপি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অভিনব উদ্যোগ

তুলে দেওয়া হল ‘ব্যাক বেঞ্চার’ প্রথা! গধেয়ারখুঁটি এসপি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অভিনব উদ্যোগ

সময় কলকাতা ডেস্ক:- শুরুটা হয়েছিল দক্ষিণ ভারতে। একটি মালয়ালাম সিনেমা থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে ‘ব্যাক বেঞ্চ’ সিস্টেম তুলে দিয়েছিল কেরালার বেশ কয়েকটি স্কুল। এরপর ‘নো মোর ব্যাক বেঞ্চার’ সিস্টেম চালু হয়েছিল মালদহের একটি স্কুলেও। এবার এই একই পথে হাঁটল উত্তরবঙ্গের প্রত্যন্ত জঙ্গলে ঘেরা গধেয়ারখুঁটি গ্রাম পঞ্চায়েতের গধেয়ারখুঁটি এসপি প্রাথমিক বিদ্যালয়।

যার ফলে, এবার থেকে কোনও পড়ুয়া বসবে না পিছনের বেঞ্চে। সকলেই বসবে ফার্স্ট বেঞ্চে, সকলেই সমানভাবে পাবে শিক্ষক-শিক্ষিকার মনোযোগ।

চারিদিক সবুজে ঘেরা গ্রামের এই স্কুলটি ১৯৬০ সালে বাঁশ ও খড়ের একটিমাত্র আস্তানায় গ্রামাঞ্চলের শিক্ষার আলো ফুটে উঠতে গড়ে ওঠে। অত্যাধুনিক প্রযুক্তিবিদ্যা ও সময়ের নিরিখে পাল্লা দিয়ে বর্তমানে প্রাক-প্রাথমিক থেকে চতুর্থ শ্রেণি পর্যন্ত মোট পড়ুয়া সংখ্যা এই স্কুলে ১৫৫ জন। যার জন্য রয়েছে প্রধান শিক্ষক সহ মোট পাঁচজন শিক্ষক। জলপাইগুড়ি জেলার ধুপগুড়ি মহকুমার অন্তর্গত ৩ নং সার্কেলে এই স্কুলটি বর্তমানে শিক্ষা ব্যবস্থায় এক অনবদ্য নজির।

একদিকে জলপাইগুড়ি জেলায় যখন প্রাথমিক থেকে জুনিয়র স্কুল গুলো প্রায় বন্ধের মুখে, সেই সময়ে এই প্রাথমিক স্কুলটি আশার আলো যোগাচ্ছে।

জানা গিয়েছে, অন্য স্কুলের মতো এই প্রাইমারি স্কুলেও পড়ুয়ারা সবাই বসতে চাইত সামনের বেঞ্চে। এই নিয়ে সহপাঠীদের মধ্যে মাঝে মধ্যে খুনসুটিও লেগে থাকে। এর উল্টো ছবিও রয়েছে। শিক্ষকদের পড়া ধরার হাত থেকে বাঁচতে ব্যাক বেঞ্চে মাথা নিচু করেও বসে থাকে অনেকে।

এরপরই ওই সিনেমার ক্লিপ দেখেই স্কুলের শিক্ষকদের সাথে আলোচনা ‘ব্যাক বেঞ্চ’ প্রথা তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধান শিক্ষক আমিনুর ইসলাম।

পড়ুয়াদের পঠন পাঠনের সুবিধার জন্য এবং তাঁদের প্রতি বাড়তি নজর দেওয়ার জন্য এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে জানিয়েছেন সহকারী শিক্ষক আবু তাহের আলি।

এদিকে অভিভাবকরাও শিক্ষকদের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। তাঁরা জানিয়েছেন এই উদ্যোগের ফলে পড়ুয়াদের দিকে এবার সহজেই নজর রাখতে পারবেন শিক্ষকরা। ফলে পড়ুয়ারাও আর ফাঁকি দিতে পারবে না। এমনকি তাঁরা কোনও ভুল করলে তা শুধরে দিতে পারবেন শিক্ষকরা।

এছাড়াও অত্যন্ত গ্রাম্য এলাকার এই স্কুলটি সব দিক থেকেই সুসজ্জিত। নির্ধারিত সময়ে প্রার্থনাতেও অভিনবত্ব দেখা যায়। নিয়মিত রুটিন করে একেবারে প্রথম সারিতে শিক্ষকদের সঙ্গে পড়ুয়াদের দাঁড় করিয়ে প্রার্থনা থেকে শপথ বাক্য এমনকি স্বাস্থ্য সচেতনামূলক বাক্য ও গান শেখানো হয়।

About Post Author