সময় কলকাতা ডেস্ক:- পশ্চিমবঙ্গে কবে থেকে এসআইআর শুরু হবে, কিছুদিন আগেই ইঙ্গিতপূর্ণ উত্তর দিয়েছিলেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। বিহারে ভোটার তালিকা সংশোধনে ‘স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন’ নিয়ে বিতর্ক সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত গড়িয়েছে। সেই মামলা এখনও বিচারাধীন। হিসেব মতো আর আট মাস বাসে বাংলায় বিধানসভা নির্বাচন।
বাংলায় এসআইআর কবে হবে, তা এখনও জানায়নি নির্বাচন কমিশন। সুপ্রিম কোর্টে এসআইআর নিয়ে মামলার মধ্যেই এর প্রস্তুতি নিয়ে পশ্চিমবঙ্গ–সহ বাকি রাজ্যগুলিকে ফের চিঠি দিল জাতীয় নির্বাচন কমিশন। শুক্রবারই রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়ালের কাছে সেই চিঠি পৌঁছেছে।
এর আগে গত ৫ আগস্ট ইআরও, এইআরও-সহ বিভিন্ন শূন্যপদ পূরণের কাজ দ্রুত শেষ করা-সহ প্রস্তুতিপর্ব সেরে রাখার জন্য সিইও-দের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। শুক্রবারের চিঠিতে সেই কথা মনে করিয়ে দিয়ে কমিশনের নির্দেশ, নির্বাচন সংক্রান্ত শূন্যপদগুলি পূরণ করার ও বাকি প্রস্তুতি কী পর্যায়ে আছে, তা ২৯ আগস্টের মধ্যে বিস্তারিত রিপোর্ট দিয়ে জানাতে বলা হয়েছে। এদিকে ২৯ আগস্ট বিকেলে ভোটগ্রহণ কেন্দ্রগুলির বিন্যাস নিয়ে সর্বদল বৈঠক ডেকেছেন রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়াল।
সূত্রের খবর, বুথ প্রতি সর্বোচ্চ ১২০০ জন ভোটার পিছু একটি করে বুথ তৈরির নতুন নির্দেশিকা জারি হয়েছে। সেই হিসাবে রাজ্যের ৮০ হাজার ৬৮০টি বুথ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯৪ হাজারের কিছু বেশি।
ইতিমধ্যেই বৃদ্ধি পাওয়া এই ১৪ হাজার বুথের তালিকা রাজ্যের সব স্বীকৃত রাজনৈতিক দলকে পাঠানো হয়েছে। এবিষয়ে বুধবার সর্বদল বৈঠক ডাকা হলেও পরে তা বাতিল করা হয়। সেই স্থগিত রাখা বৈঠকটিই ২৯ তারিখে করা হচ্ছে।
এসবের মাঝেই এসআইআর শুরু করার প্রস্তুতি কোন পর্যায়ে, তা জানতে ফের দেশের প্রতি রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক বা সিইও-দের চিঠি দিল নির্বাচন কমিশন। চিঠিতে কমিশন স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, আগামী ২৯ অগস্টের মধ্যেই ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার ও অ্যাসিস্ট্যান্ট ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার-এর পদ শূন্য থাকলে তা পূরণ করে কমপ্লায়েন্স রিপোর্ট পাঠাতে হবে।
এর আগে গত ৫ জুলাই কমিশন রাজ্যগুলিকে এসআইআর-এর প্রস্তুতি নিতে চিঠি দিয়েছিল। আসলে জল্পনা তৈরি হয়েছে, বিহারের পর বাংলায় ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজ শুরু করার কথা ভেবেছে নির্বাচন কমিশন। তবে এখনও শুরু হয়নি। তার আগেই মূলত দুটি ছবি ধরা পড়ছে। একদিকে এসআইআর নিয়ে উদ্বিগ্ন তৃণমূল।
তৃণমূলের প্রশ্ন, আসলে পিছনের দরজা দিয়ে এনআরসি চালুর প্রচেষ্টা ! বাংলায় এসআইআর চালু হওয়ার আগেই তা নিয়ে সরব হয়েছেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে তৃণমূল সাংসদ তথা দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, জোর করে একটা নামও বাদ দিলে আন্দোলনের মাধ্যমে বুঝিয়ে দেব বাংলা কী করতে পারে।
উল্টোদিকে, বিজেপি রাজনৈতিক ভাবে এখনই লাফালাফি শুরু করে দিয়েছে, বেশ আনন্দেই রয়েছে। কারও কারও অতি উৎসাহী ভাব এমনই যে ভোটার তালিকায় সংশোধন হলেই বিজেপি ভোটে জিতে যাবে। সেই তালিকায় জ্বলজ্বল করছে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর নাম। তিনিই সবচেয়ে বেশি উচ্ছ্বসিত।
তাত্পর্যপূর্ণ বিষয় হল, ভোটার তালিকায় নিবিড় সংশোধন একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। তা নিয়ে কেন শাসক-বিরোধী তর্জা ? আসলে বর্তমানে বুথ স্তরে সংগঠন দুর্বল বিজেপির। আসলে গত বিধানসভা ও লোকসভা ভোটের নিরিখে বাংলায় বিজেপির ৩৮ শতাংশ ভোটার রয়েছে। অথচ অন্তত ৫০ শতাংশের বেশি তথা ৪০ হাজারেরও বেশি বুথে বিজেপির সংগঠন নেই বললেই চলে।
শুভেন্দু অধিকারী-শমীক ভট্টাচার্যরা মনে করেন, ভোটার লিস্টে মৃত বা ভুয়ো ভোটারদের যে নাম রয়েছে সেই ভোট দিনের শেষে তৃণমূলই ফেলে দেয়। কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করেও তা রোখা যায় না। সুতরাং ভোটার লিস্ট থেকে যদি মৃত ভোটার, ভুয়ো ভোটার, বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী বা স্থায়ী পরিযায়ী শ্রমিকদের নাম যদি বাদ যায়, তবে ভোটে এই ভুয়ো ভোট ফেলার খেলা বন্ধ হয়ে যাবে।
তবে রাজনৈতিক তর্জার মাঝেই কমিশন ধীরে ধীরে প্রস্তুতি নিচ্ছে জোরকদমে। এই প্রস্তুতি নিয়ে বাংলা–সহ রাজ্যগুলিকে নির্বাচন কমিশন চিঠি দিয়েছে।
তবে সূত্রের খবর, এ রাজ্যে এই মুহূর্তে ইআরও বা এইআরও নয় ‘এসআইআর’-এর পথে প্রধান প্রতিবন্ধকতা তৈরি করতে চলেছে বুথ লেভেল অফিসার অর্থ্যাত্ বিএলও-ই। এই মুহূর্তে রাজ্যে ৮০ হাজার ৬৮১ টি বুথ রয়েছে। এখনও পর্যন্ত প্রতিটি বুথের বিএলও নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ হয়নি। এরই মধ্যে কমিশনের নয়া নির্দেশে প্রতি বুথে সর্বাধিক ১২০০ ভোটার রাখতে বুথ পুনর্গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
তাতে আরও প্রায় ১৪ হাজার বুথ যুক্ত হবে। বিএলও–রাই এসআইআর কার্যকরে মুখ্য ভূমিকা নেবেন। বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটারদের কাছে এসআইআর-এর ফর্ম পৌঁছে দেওয়ার কথা তাঁদেরই। ফলে পর্যাপ্ত বিএলও না–থাকলে সেখানে এসআইআর প্রক্রিয়া কী ভাবে শুরু হবে, তা নিয়ে সংশয় থেকে যাচ্ছে।


More Stories
আরজিকর কাণ্ডের আইনি ফাঁসে রচনা
নেতা নয় নায়ক, যমের অরুচি, ঋতব্রতকে ভয়ঙ্কর আক্রমণ শতরূপের
চাকরি পাওয়া নিয়ে দীপাঞ্জনকে পাল্টা জবাব দিলেন মীনাক্ষী