সময় কলকাতা ডেস্ক:- গত ২৫ জুন সাউথ ক্যালকাটা ল কলেজে এক ছাত্রীকে গণধর্ষণের অভিযোগ ওঠে কলেজেরই প্রাক্তনী মনোজিৎ মিশ্র এবং দুই বর্তমান পড়ুয়া জইব আহমেদ ও প্রমিত মুখোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে। এ ঘটনাতে ফের একবার তোলপাড় হয় গোটা শহর। প্রশ্ন উঠে যায় নারী নিরাপত্তা নিয়ে। ২৬ জুন গণধর্ষণের মামলা রুজু হয় কসবা থানায়। মূল অভিযুক্ত মনোজিৎ মিশ্র কলেজেরই প্রাক্তন ছাত্র ও অস্থায়ী কর্মী বলে জানা যায়। মূল অভিযুক্তকে সাহায্য করার অভিযোগ উঠেছিল বাকি দু’জনের বিরুদ্ধে।
এমনকী, ওই দৃশ্য ভিডিও করে ব্ল্যাকমেলের অভিযোগও ওঠে তাদের বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠে গিয়েছিল। তিনজনকেই গ্রেফতার করে পুলিশ। পরে গ্রেফতার করা হয় কলেজের নিরাপত্তারক্ষী পিনাকী বন্দ্যোপাধ্যায়কেও।
জানা যায়, ধৃত মনোজিৎ শাসক দলের প্রভাবশালী ছাত্রনেতা বলেই পরিচিত ছিল কলেজে। অন্যদিকে, জইব ও প্রমিত ছিল তাঁর শাগরেদ। নির্যাতিতার অভিযোগ ছিল, মনোজিতের কথাতেই কলেজের মেন গেট বন্ধ করে দিয়েছিলেন তিনি। এই ঘটনার গোড়া থেকেই তৎপরতার সঙ্গে তদন্ত শুরু করেছিল পুলিশ। তদন্ত শুরুর ৫৮ দিনের মাথায় ৬৫০-এর বেশি পাতার নথির চার্জশিট জমা পড়ল আলিপুর আদালতে।
তাতে মূল অভিযোগ হিসেবে নাম রয়েছে মনোজিৎ মিশ্র-সহ চারজনের। মূল অভিযুক্ত হিসাবে সেখানেই উঠেছে মনোজিৎ মিশ্রর নাম। তাঁর বিরুদ্ধে ৯টি ধারা, বাকি দু’জনের বিরুদ্ধে ৬টি ধারা, বাকি আরও একজনের বিরুদ্ধে ৭টি ধারা দিয়ে আদালতে চার্জশিট জমা দিল পুলিশ।
গণধর্ষণ ছাড়াও জোর করে আটকে রাখা, বিপজ্জনকভাবে গুরুতর আঘাত করা, প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি, অপহরণ এবং একই উদ্দেশ্যে একাধিক ব্যক্তি অপরাধ সংগঠিত করার মতো অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে একাধিক ধারা প্রয়োগ করেছে পুলিশ। চার্জশিটে ৮০ জনেরও বেশি সাক্ষীর বয়ান রেকর্ডের তথ্য রয়েছে।
কিছুদিন আগেই গুরুত্বপূর্ণ ফরেনসিক নমুনা, ডিজিটাল তথ্য এবং কয়েকজন সাক্ষীর বয়ান সংগ্রহ করা হয়েছে বলে আদালতকে জানিয়েছে তদন্তকারী দল। দেওয়া হয়েছে ডিএনএ ও ফরেনসিক রিপোর্ট।
উল্লেখযোগ্যভাবে, ডিএনএ রিপোর্টে অভিযুক্তদের সঙ্গেই মিল পাওয়া গেছে, যা মামলার তদন্তকে আরও জোরদার করেছে। দেখা গেল তারপরই চার্জশিট জমা পড়ল। জানা গিয়েছে, প্রমাণ নষ্ট করার চেষ্টা হয়েছিল।
তবে পুলিশ সেই প্রমাণও উদ্ধার করেছে। কোর্টে পুলিশ জানিয়েছে, সমস্ত তথ্য ও সাক্ষ্য প্রমাণ মিলিয়ে তারা নিশ্চিত যে চারজনকেই আইনের মুখোমুখি দাঁড়াতে হবে। আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, এত দ্রুত চার্জশিট দাখিল করা পুলিশের সক্রিয়তার প্রমাণ। সাধারণত এই ধরনের মামলায় চার্জশিট দিতে সময় লেগে যায় কয়েক মাস। কিন্তু কসবা গণধর্ষণ মামলায় মাত্র ৫৮ দিনে নথি জমা পড়ায় বিচার প্রক্রিয়া দ্রুত হতে পারে বলে আশা প্রকাশ করেছেন আইনজীবীরা।


More Stories
আরজিকর কাণ্ডের আইনি ফাঁসে রচনা
নেতা নয় নায়ক, যমের অরুচি, ঋতব্রতকে ভয়ঙ্কর আক্রমণ শতরূপের
চাকরি পাওয়া নিয়ে দীপাঞ্জনকে পাল্টা জবাব দিলেন মীনাক্ষী