সময় কলকাতা ডেস্ক:- একটি ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, এক ব্যক্তি বারবার টাকা ফেরতের অনুরোধ করছেন তৃণমূল বিধায়ক জীবনকৃষ্ণ সাহার কাছে। অথচ বড়ঞার বিধায়ক জীবনকৃষ্ণ সাহা সম্পূর্ণ নির্বিকার! ভাইরাল এই ভিডিও। যদিও, তবে এই ভিডিওর সত্যতা যাচাই করেনি সময় কলকাতা। আদালতে পেশ করার আগে যখন জীবনকৃষ্ণ বারবার দাবি করেছেন, যে সম্পত্তি নিয়ে এত হইচই, সেটা তিনি দশ বছর ধরে ব্যবসা করে তিলে তিলে তৈরি করেছেন, সেখানেই এই ভিডিও-তে জীবনকৃষ্ণের ভূমিকা বারবার প্রশ্ন তুলছে।
ভাইরাল ভিডিওটিতে দেখা যাচ্ছে, ঘরের ভিতরে সোফায় বসে রয়েছেন জীবনকৃষ্ণ সাহা। অপর প্রান্তে থাকা এক ব্যক্তি ক্রমাগত টাকা ফেরত চান তাঁর কাছে।
যাঁর বিরুদ্ধে শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত হয়ে লক্ষ লক্ষ টাকা তোলার অভিযোগ উঠেছে, তিনিই এভাবে উত্তর দিচ্ছেন— এমনটাই দেখা যাচ্ছে ভিডিওটিতে। সিবিআই-র অভিযোগ, চাকরি দেওয়ার নামে একাধিক প্রার্থীর কাছ থেকে বিভিন্ন অঙ্কের টাকা নিয়েছিলেন বিধায়ক। আর এই ভিডিওকে হাতিয়ার করে বিজেপি ছেড়ে কথা বলছে না।
তাদের বক্তব্য, জীবনকৃষ্ণ সাহা আগে থেকেই দালালি ও চাকরি বিক্রির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। শুধু শিক্ষা ক্ষেত্রেই নয়, আরও নানা জায়গায় এরকম করেছেন। তৃণমূল কংগ্রেস তাঁকে রক্ষা করার চেষ্টা করছে, কিন্তু তিনি বা তাঁর সহযোগীরা কেউই শেষ পর্যন্ত বাঁচবেন না।
এদিকে, তৃণমূলের পক্ষ থেকে সাফ জানানো হয়েছে, দল এই বিষয়ে কোনও মন্তব্য করবে না। এসএসসি নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় গ্রেফতার হয়েছেন তৃণমূলের বড়ঞার বিধায়ক জীবনকৃষ্ণ সাহা। মুর্শিদাবাদের কান্দির আন্দি গ্রামে তাঁর বাড়ি ঘিরে গত ২৫ আগস্ট সকালে অভিযান চালায় এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। অভিযোগ, কেন্দ্রীয় তদন্তকারীদের দেখেই পিছনের দরজা দিয়ে পালাতে যান তিনি।
এমনকী ধরা পড়ার আগে নিজের মোবাইল ফোনও পুকুরে ফেলে দেন বলে দাবি ইডির। তবে এটাই প্রথম নয়। ২০২৩ সালের এপ্রিল মাসে সিবিআই যখন তাঁর বাড়িতে হানা দিয়েছিল, তখনও দু’টি মোবাইল ফোন পাশের পুকুরে ছুড়ে ফেলেছিলেন তিনি। সেবার ডুবুরি নামিয়ে উদ্ধার হলেও বিশেষ তথ্য মেলেনি। দীর্ঘ ১৩ মাস জেলে থাকার পর সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে জামিন পান তিনি। আদালত তদন্তে সহযোগিতার নির্দেশ দিয়েছিল।
কিন্তু ফের অসহযোগিতার অভিযোগ ওঠে সোমবারও। ৬ দিনের ইডি হেফাজত শেষে শনিবার আদালত পেশ করা হয়েছিল নিয়োগ দুর্নীতি কাণ্ডে অভিযুক্ত তৃণমূল বিধায়ক জীবনকৃষ্ণ সাহাকে। আদালত তাঁকে ১২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত জেল হেফাজতের নির্দেশ দেয়।


More Stories
পুলিশের জালে তৃণমূল নেত্রী, তোলা হল বারাসাত আদালতে
স্বাস্থ্য পরিষেবায় আধুনিকীকরণে জোর দেবেন নরেশ রায়
ককরোচ জনতা পার্টির এক্স হ্যান্ডেল নিষিদ্ধ!