Home » দেগঙ্গায় জিতবেন কে? বিদেশ নাকি মিন্টু সাহাজি?

দেগঙ্গায় জিতবেন কে? বিদেশ নাকি মিন্টু সাহাজি?

পুরন্দর চক্রবর্তী, সময় কলকাতা ২৭ মার্চ :

সূত্রধরের কথা

“দূর মশাই, এখনও ভোটের একমাসের বেশি বাকি – এখনই ভোটের টেম্পো বুঝবেন কী করে “- স্থান ইতিহাস প্রসিদ্ধ খনামিহিরের স্মৃতিবিজড়িত দেগঙ্গার এক চায়ের দোকান, বক্তা স্থানীয় এক প্রবীণ। বঙ্গে অধিকাংশ চায়ের দোকানে আড্ডায় যা হয়, তেমনটাই হল। অনেকেই মাথা নাড়লেন যেন বক্তা ঠিকই বলছেন। সত্যি-ই তো। খুব বেশি দিন বাকি না থাকলেও, সেই কবে ২৯ এপ্রিল ভোটদানপর্ব – হাওয়া বোঝা মুশকিল। এখন প্রশ্ন হল, ভোটের টেম্পো কাকে বলে? অভিধানিক ভাবে না হলেও রাজনীতিতে “ভোটের টেম্পো” বলতে সাধারণত নির্বাচনের আমেজ, গতি বা উত্তাপকে বোঝায়। এটি কোনো নির্দিষ্ট এলাকা বা পুরো দেশে ভোটের প্রচার-প্রচারণা কতটা জমে উঠেছে বা জনগণের মধ্যে ভোট নিয়ে কতটা আগ্রহ তৈরি হয়েছে, তার একটি ইঙ্গিত। এখানে দেগঙ্গা বিধানসভার কথাই হচ্ছে যেখানে ভোটরঙ্গ বাস্তবেই জমজমাট। কী হচ্ছে দেগঙ্গায়। কেন দেগঙ্গা নিয়ে আলাদা রকম আগ্রহ। একটি প্রতিবেদন।

প্রেক্ষাপট

আসন্ন নির্বাচনের তৃণমূলের প্রার্থী তালিকা প্রকাশের কয়েকদিনের মধ্যেই দেগঙ্গায় এমন করে ভোটের পারদ বাড়বে তা কেউ ভাবেন নি। নেপথ্যে কারণ একটাই। দেগঙ্গায় তৃণমূল প্রার্থী এবার আর পুরনো মুখ নয়। তৃণমূলের দেগঙ্গায় গত দুবারের বিজয়ী প্রার্থী ও বিধায়ক রহিমা মণ্ডল নয়, তৃণমূল থেকে প্রার্থী করা হয়েছে আনিসুর রহমানকে যাকে এলাকার লোক বিদেশ বলেই চেনেন। তিনি যে এবার দেগঙ্গা থেকে তৃণমূলের টিকিট পাচ্ছেন তার গুঞ্জন বেশ কিছুদিন ধরেই ছিল। কার্যত কাকলি ঘোষ দস্তিদারের বারাসাত লোকসভা আসনে জয়কে মসৃণ করতে দেগঙ্গা বিধানসভার ক্ষেত্রে ভূমিকা ছিল অপরিসীম। কাকলি ঘোষ দস্তিদার জিতেছিলেন ১ লাখ ১৪ হাজার ভোটে আর তারমধ্যে ৬৯ হাজার ভোটের লিড এনে দিয়েছিল দেগঙ্গা। তখন থেকেই দেগঙ্গা কেন্দ্রে ভোটের অন্যতম নায়ক হিসেবে চিহ্নিত হয়ে যান আনিসুর রহমান বিদেশ। একজন নেতার যা যা গুণ থাকা উচিত সবই বিদেশের মধ্যে দেখতে পায় তৃণমূল শীর্ষ নেতৃত্ব। দেগঙ্গা স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বের মধ্যে অন্যদের চেয়ে বয়সে অনেক তরুণ ও নবীন হলেও আনিসুর রহমান বিদেশের মধ্যে নেতৃত্ব সুলভ গুণাবলী ও অন্য বেশ কয়েকটি প্লাস পয়েন্ট থাকায় তিনি দ্রুত ক্ষমতার অলিন্দে পৌঁছে যেতে থাকেন । সাম্প্রতিক অতীতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে তাঁর রোড শো বুঝিয়ে দেয় বিদেশ কতটা সুনজরে, যা বিদেশকে আলাদা করে জনপ্রিয় করে তোলে কর্মীদের কাছে । পাশাপাশি বিদায়ী বিধায়ক  রহিমা হালে পায়ের তলায় মাটি হারাচ্ছিলেন। অন্যদিকে,  দীর্ঘদিন ধরে দেগঙ্গার রাজনীতিতে পোড় খাওয়া এক মানুষের কাছে এবারের ভোট অন্য বার্তা নিয়ে আসতে শুরু করে। তিনি মসিদুল হক সাহাজি যাকে মিন্টু সাহাজি বলেই বারাসাত ও দেগঙ্গার মানুষ  এককথায় চেনে।তৃণমূল কংগ্রেসের জন্ম লগ্ন থেকেই তিনি তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে ছিলেন। কাকলি ঘোষ দস্তিদারের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ বলেও তিনি পরিচিত থেকেছেন।

তৃণমূলের প্রার্থী তালিকা প্রকাশ পেতেই অনেক কেন্দ্রের মতো দেগঙ্গাতেও প্রার্থী পথ নিয়ে জল ঘোলা হতে আরম্ভ করে। তবে দেগঙ্গাতে প্রার্থী পথ নিয়ে গৃহ বিবাদ চরমে পৌঁছে যায়।তৃণমূলের প্রার্থী তালিকা ঘোষণা হতেই টিকিট না পেয়ে প্রার্থীপদ প্রত্যাশী অনেকেই হুঙ্কার দিয়েছিলেন দল ছাড়বেন। এঁদের অনেকেই পরে দলীয় নেতৃত্ব বা প্রার্থীদের সঙ্গে আলোচনা ও সমঝোতা করে দলেই থেকে গিয়েছেন। তবে মন থেকে মানতে না পারলেও দেগঙ্গার তৃণমূলের দীর্ঘদিনের সৈনিক মফিদুল হক সাহাজি বিক্ষুব্ধ হয়েই নীরবে দলত্যাগী হন । অথচ তৃণমূলের বহু গুরুত্বপূর্ণ পথ তিনি সামলেছেন ও নতুন দলে যোগদানের আগে পর্যন্ত তিনি তৃণমূলের দলীয় এবং জেলা পরিষদের গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন ছিলেন । তাঁর ক্ষোভ যে, তৃণমূলের কঠিন সময় ২০০৬ সালে তিনি তৃণমূলের টিকিটে ফরওয়ার্ড ব্লকের প্রার্থীর কাছে হারলেও বাম জমানায় মজিদ মাস্টারের দাপটের সময় তৃণমূল কংগ্রেসের অস্তিত্ব রক্ষা করতে জোর লড়াই করেছিলেন। তাঁর বিষাদ যে,তৃণমূলের সুসময়ে তাকে টিকিট দেওয়ার কথা দল ভাবেনি। ১৯৯৩ থেকে চলে আসা মিন্টু সাহাজির রাজনৈতিক জীবনের বহু বসন্ত পরে তৃণমূলে যোগ দেওয়া আনিসুর রহমান বিদেশকে প্রার্থী করায় মিন্টুর ক্ষোভ অন্য মাত্রা পেয়ে যায়। বল তাকে যোগ্য মর্যাদা দেয়নি এমনটাই বোধ হতে থাকে তাঁর । ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি যোগ দেন আইএসএফে। আই এস এফ এ যোগ দেওয়ার শর্তই ছিল দেগঙ্গার প্রার্থী পদ পাওয়া। পেয়েও যান তিনি। অর্থাৎ ভোটের ময়দানে সম্মুখ সমরে অবতীর্ণ বিদেশ ও মিন্টু সাহজি।

নীরবে আইএসএফে  যোগ দিলেও, আইএসএফের পতাকা হাতে তুলে নেওয়ার পরে তাঁর ঘরে ফেরা নীরবে হয় নি। হাজার হাজার মানুষ মিন্টু সাহাজিকে স্বাগত জানিয়ে দেগঙ্গার কয়েক কিলোমিটার আগেই বরণ করে ঘরে নিয়ে ফিরেছে । মিন্টু সাহাজি বলছেন, তাঁর ব্যক্তিগত সততা ও মানুষের ভালোবাসা তাঁকে জয়ের বিষয়ে নিশ্চিত ভরসা দিচ্ছে। তাঁর লড়াই তৃণমূলের স্থানীয় দুর্নীতির বিরুদ্ধে,এমনটাই বলছেন তিনি। কিন্তু ভোটের ময়দানে শেষ কথা বলবে জয় পরাজয়। সিকান্দার হতে হবে।

দেগঙ্গায় জিতবে কে? বিদেশ নাকি মিন্টু সাহাজি?

এখন অঙ্ক কি বলছে? নবীন প্রবীণের লড়াইয়ে জিতবে কে? বিজেপি প্রার্থী তরুণ কান্তি ঘোষ বারাসাত সাংগঠনিক জেলায় পরিচিত মুখ। তথাপি, বলাবাহুল্য বঙ্গের সংখ্যালঘু অধ্যুষিত দেগঙ্গায় বিজেপির তরুণ কান্তি ঘোষের জয়ের সম্ভাবনা ক্ষীণ বললেও বেশি বলা হয়। তবে বিজেপি এই কেন্দ্রে ২০২১ সালের ৩৮ হাজারের বেশি ভোট পেয়েছিল। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনেও দেগঙ্গায় বিজেপির প্রাপ্ত ভোটের সংখ্যা অবশ্যই নগণ্য নয়। ২০২৬ সালে কাঁটার লড়াই, সেয়ানে সেয়ানে লড়াই।  ফলে বিজেপি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সমীকরণ। বিজেপি গড়ে দিতে একশো কুড়ি নম্বর বিধানসভা কেন্দ্র দেগঙ্গার ভাগ্য।

টক্কর

কেন লড়াই সেয়ানে সেয়ানে?  দুপক্ষের প্রস্তাবিত ইস্যু দিয়ে কিছুই বোঝা যাবে না আবার অনেক কিছুই বোঝা যাবে। দুই প্রধান প্রতিপক্ষ আনিসুর রহমান বিদেশ ও মফিজুল হক সাহাজি মিন্টুর উন্নয়ন ভিত্তিক ইস্যুগুলি প্রায় এক। শিক্ষা ও স্বাস্থ্যের সঙ্গে এখানে অন্যতম প্রধান ইস্যু জল। শুধুমাত্র পানীয় জলই নয়, সাধারণ ভাবে আর্সেনিকযুক্ত জলস্তর নিয়ে দেগঙ্গবাসীর উৎকণ্ঠার শেষ নেই। এই অভিশাপ থেকে মুক্ত করার অঙ্গীকার দুই যুযুধান প্রার্থীর। আনিসুর রহমান বিদেশ শিক্ষার সঙ্গে প্রযুক্তির মেলবন্ধনে শিক্ষার নতুন মডেল গড়ে তুলতে চান, মিন্টু সাহাজির অন্যতম প্রধান লক্ষ্য কৃষিভিত্তিক উন্নয়ন। দুজন প্রার্থী ভোটারদের দেওয়া বার্তায় কী বলছেন? মিন্টু সাহাজি জানিয়েছেন, দুর্নীতি মুক্ত দেগঙ্গা গড়ার লক্ষ্য তাঁর। বিদেশ ভোটারদের বলছেন,একমাস পাশে থাকতে, বাকি ষাট মাসের যাবতীয় উন্নয়নে সুখ-দুঃখের সাথী হয়ে ভোটারদের পাশে তিনি থাকবেন।

এই ছিল ইস্যু ও ভোটের বার্তা। লড়াই কেন সেয়ানে সেয়ানে বুঝতে হলে এলাকার সমীকরণ বোঝার পাশাপাশি চোখ রাখা যেতে পারে সংখ্যাতত্ত্বর দিকে। ২০২১ সালের ভোটের দিকে তাকালেই বোঝা যাবে আইএসএফের শক্ত ঘাঁটি হয়ে প্রকাশ পেয়েছে দেগঙ্গা। দিগঙ্গায় আইএসএফের আত্মপ্রকাশ রীতিমতো সাড়া ফেলার মতো। ফুরফুরা শরীফের পীরজাদা দের প্রবল-প্রভাব রয়েছে এখানে। জন্মলগ্নেই প্রথম বিধানসভা নির্বাচনে প্রায় ৬৮ হাজার ভোট পেয়ে দেগঙ্গার আইএসএফের প্রার্থী করিম আলী চমকে দেন। যাকে এলাকায় কার্যত কেউ চিনত না সেই করিম আলী সবাইকে পিছনে ফেলে দেগঙ্গায় তৃণমূলের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে উঠেছিল। ভোট সঙ্গী বামেদের সঙ্গে এই কেন্দ্রে সর্বাঙ্গীণ জোট না করেও প্রচুর ভোট পান করিম। রহিমা মন্ডলের সঙ্গে করিম আলির ব্যবধান ছিল মাত্র ৩২ হাজার ভোটের । ৩২ হাজার সংখ্যাটা এই জন্যই কম ধরা হয় কারণ আচমকা মাঠে নেমে প্রায় গোল করে ফেলেছিলেন করিম। তিলে তিলে গড়ে ওঠা তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী রহিমা পেয়েছিলেন ১ লাখের সামান্য বেশি ভোট। এবার করিম নয়, প্রার্থী দেগঙ্গার ভূমিপুত্র মিন্টু সাহাজি। ফলে টক্কর তো হবেই। উল্লেখযোগ্য ভাবে তাঁর হয়ে ভোটের ময়দানে ও প্রচারে সামনের সারিতে যাদের দেখা যাচ্ছে তাঁরা মূলত দুদিন আগেও ছিলেন মিন্টু সাহাজির মতোই তৃণমূলের সদস্য ও কর্মী। অঙ্ক বলছে ,  যদি আই এস এফ এর ভোটব্যাংক অক্ষত থাকে এবং দেগঙ্গার ৩০০টি বুথ থেকে মিন্টু সাহাজি কিছু কিছু করে তৃণমূল ভোট টানতে পারেন তাহলেই তৃণমূল তথা আনিসুরের দুর্ভোগ দেখা দিতে পারে।

মিন্টু সাহাজির ভোট মেশিনরীর লোকেদের টার্গেট প্রতিটি বুথ থেকে কিছু তৃণমূল ভোট টেনে নেওয়া। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, নুননগরে আইএসএফের ঘাঁটিতে আইএসএফের আদি ভোট যদি অক্ষত থাকে তাহলে আইএসএফের নব্য ভোটের সমীকরণ মিন্টু সাহাজির খাস তালুক সোহাই শ্বেতপুরের বুথগুলিতে তৃণমূলের ভোটকে সম্পূর্ণ আইএসএফের খামবন্দি করে ফেলা। উল্লেখ্য, দেগঙ্গার অন্তর্গত ১১ টি অঞ্চলের মধ্যে বারাসাতের কোটরা ও কদম্বগাছি ছাড়া দেগঙ্গা ব্লকের নটি অঞ্চল রয়েছে যেখানে পঞ্চায়েতের সমীকরণে খুব বেশি শক্তির হেরফের নেই। দুজনের পার্টি অফিস দুদিকে যেখানে দুজনের শক্তি বেশি। বেড়াচাপা, চাকলা, বিশ্বনাথপুর,কার্তিকপুরে সনাতনী ভোট ব্যাঙ্ক থাকলেও সার্বিক ভাবে আমুলিয়া কলসুরসহ নটি এলাকায় কিছুটা হলেও এগিয়ে আছে তৃণমূল। তথাপি মিন্টু সাহাজির সঙ্গে শিবির বদলানো তাঁর বিশ্বস্ত তৃণমূলের একদা ভোট মেশিনারিদের একাংশ বলছে, তাঁরা মিন্টু সাহাজি কে ভোটে জেতাতে বদ্ধপরিকর যেভাবে ২০২১ সালে তারা রহিমা মন্ডলকে ভোটে জিতিয়ে ক্ষমতায় এনেছে। ইঙ্গিত সুস্পষ্ট । কিন্তু এখানে বড় প্রশ্ন, শাসকদলের আশীর্বাদ এবার কিন্তু মিন্টু সাহাজির সঙ্গে নেই। আরও সমীকরণ রয়েছে । এস আই আর এমনই একটি সমীকরণ যার আদি অন্ত জুড়ে ধোঁয়াশার অন্ত নেই। কোন বিধানসভা কেন্দ্রে এবারের ভোটারদের নতুন তালিকার নিরিখে এসআইআর কতটা ক্ষতি করবে বলা খুব দুস্কর। বিশেষ করে বঙ্গে সংখ্যালঘু অধ্যুষিত বিধানসভা কেন্দ্রগুলিতে এই চিত্র বড্ড আবছা। প্রসঙ্গত,এস আই আর পরবর্তী ভোটে দেগঙ্গায় ডিলিটেড ভোটারের সংখ্যা এক হাজারের চেয়েও কম অথচ বিচারাধীন ভোটারের সংখ্যা তার তিরিশ গুণ বেশি। আন্ডার এডজুডিকেশন যারা রয়েছেন তাঁদের ভোট কাটা গেলে তৃণমূল আইএসএফ উভয়ের ক্ষতি হলেও মিন্টু সাহাজি মনে করছেন ক্ষতি বেশি হবে তৃণমূলের। এসআইআরের লাভ লোকসানের চিত্র পরিষ্কার না হলেও বলা যায় মিন্টু সাহাজির সঙ্গে যে জনজোয়ার প্রথম থেকেই পরিলক্ষিত হচ্ছে তার প্রতিফলন ভোট বাক্সে ঘটলে তৃণমূলের সমূহ বিপদ যার অশনি সংকেত দেখা যাচ্ছে। কিন্তু পরিসংখ্যান তত্ত্বকথার কচকচানির বাইরেও আছে ভোটের এক আশ্চর্য বাস্তবতা যেখানে ডার্ক হর্স অনেক সময় কুপোকাত হয়ে যান। আইএসএফ এবং ঘরভাঙ্গা তৃণমূল মিলে যতই বর্তমান তৃণমূলকে দেগঙ্গায় বেগ দিক এখানে বিদেশ যে মিন্টু সাহাজিকে ধরাশায়ী করতে পারেন সেরকম  সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। বিদেশ কে কাছ থেকে দেখেছেন যারা তারা বলেন বিদেশ হার মানার পাত্র নয়।

বিদেশের পক্ষে প্লাস পয়েন্টও অনেক। কৌশলী, সুবক্তা, ভালো সংগঠক, বয়সে তরুণ হলেও রাজনৈতিক প্রাজ্ঞতা রয়েছে। সবচেয়ে বড় কথা শাসকদলের আশীর্বাদ রয়েছে মাথায়। মিন্টু সাহাজি যদি তৃণমূল থেকে লোক ভাঙানোর পথে এগোন- বিদেশও চুপ করে বসে তা হতে দেবেন না। তিনিও যে গোপন অঙ্ক কষে শত্রুকে দুর্বল করে আইএসএফের ভিতে নাড়া দেবেন এ নিয়ে সন্দেহ নেই। বিদেশ আইএসএফের কেউ না হলেও  কার সঙ্গে ধর্মীয় ভাবে তাঁর বিশেষ এক ভোটব্যাঙ্ক রয়েছে। ফলে আইএসএফের ভোট বাক্স সম্পূর্ণ অক্ষত থাকবে একথা নিশ্চিতভাবে ভেবে নেওয়ার  কোনো কারণ নেই। কেন্দ্রীয় এজেন্সি বিদেশকে পাকড়াও করেছিল, কারাবাস যাকে বিদেশ বলেন,- জোর করে ফাঁসানো বা ফ্রেম করা হয়েছিল- সেই কলঙ্ক তৃণমূল প্রার্থীর অস্তিত্ব নিয়ে গভীর দাগ নাও কাটতে পারে কারণ মিশন, বিএডকলেজ সহ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে তার সার্বিকভাবে সামাজিক প্রভাব এবং মুসলিম সমাজে তার গ্রহণযোগ্যতা কম কিছু নয়। দেগঙ্গার ভূমিপুত্র না হলেও দেগঙ্গার মাটির গভীরে তিনি শিকড় বিস্তার করেছেন এবং সমাজকর্মী হিসেবেও  উদ্যোগী বিদেশ । বাণিজ্য তাঁর রক্তে। ফলে অঙ্কের হিসেবে ও রাজনৈতিক হিসেবে লড়াই সেয়ানে সেয়ানে। তৃণমূলের বেশ কতগুলি জনমুখী প্রকল্প যেমন লক্ষীর ভান্ডার ও যুবসাথী এবারের ভোটে তৃণমূলকে অক্সিজেন দিলে পায়ের তলায় মাটি আরও শক্ত হবে বিদেশের। সবচেয়ে বড় কথা ভোট করানো। কে কতটা দক্ষ হাতে ভোট মেশিনরী পরিচালনা করবেন তাও দেগঙ্গা বিধানসভা কেন্দ্রের ভাগ্য অনেকটাই নিশ্চিত করবে। এবার রইল বাকি তৃতীয় শক্তি হিসেবে বিজেপির ভূমিকা বা চতুর্থ শক্তির উদ্ভবের আশঙ্কা। বিজেপির ভোট যদি কমে সেক্ষেত্রে উভয় পক্ষই আশা করছেন তাদের দিকে ঢলে পড়বে সনাতনী সম্প্রদায় ভুক্ত ভোট। এই ভোট দেগঙ্গায় সংখ্যালঘু হলেও তা ডিসাইডিং ফ্যাক্টর হয়ে উঠতেই পারে। এমনকি বিজেপি বিরোধী হাওয়া প্রবল হয়ে দেখা দিলে তাও বিপদে দেখা দিতে পারে আইএসএফের কাছে। কারণ এফআইআর বিরোধী আন্দোলনে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অবস্থানে প্রভাবিত হয়ে যদি একটি বিশেষ সম্প্রদায়ের ভোট তৃণমূলের দিকে ঢলে পড়ে তাহলে ভোগান্তি বাড়বে আইএসএফের তথা মিন্টু সাহাজির ।তবে এখানে যদি বামেরা প্রার্থী না দিলে  কিঞ্চিৎ সুবিধা হতে পারত মিন্টু সাহাজির এমনটাই রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের ধারণা। তবে বামেরা দেগঙ্গায় এতটাই ক্ষয়রোগে ভুগছে জোট নাহলেও যে বিরাট ক্ষতি বৃদ্ধি হবে তাও মনে করছেন না তারা। কারণ ২০২১ সালে ৩০০০ ভোটও পান নি দেগঙ্গার ফরওয়ার্ড ব্লক প্রার্থী। সুতরাং এই মুহূর্তে সুতোর ব্যবধান। তবে বারাসাত লোকসভা কেন্দ্রের মধ্যে যে বিধানসভা কেন্দ্রটিকে চোখ বুঝে উইন সিট হিসাবে ধরে নিয়েছিল তৃণমূল কংগ্রেস সেই আসন একদমই নিরাপদ নয় তাদের কাছে । বিপদবার্তা বয়ে এনেছেন মিন্টু সাহাজি। আনিসুর রহমান বিদেশ কিভাবে এই প্রতিবন্ধকতা গুলি টপকে বাজিমাত করেন সেটাই এখন দেখার। বঙ্গের ২৯৪ টি আসনের মধ্যে এটি অন্যতম প্রধান হট সিট। এই আসনে ভোটের একমাস আগে দুই প্রধান প্রতিপক্ষর মধ্যে কেউ ঠিক এগিয়ে নেই, কেউ পিছিয়ে নেই। কার্যত মহারণ। অনেক যদি, কিন্তু এবং সিঁড়ি ভাঙা অঙ্কের সমীকরণ ভেঙে সিকান্দার কে হন সেটাই দেখার।।

About Post Author