Home » ঝান্ডা ধরানোর মরশুমে আবার দলে ফিরলেন “বিজেপি-ত্যাগী “

ঝান্ডা ধরানোর মরশুমে আবার দলে ফিরলেন “বিজেপি-ত্যাগী “

Oplus_131072

সানি রায়,সময় কলকাতা, ২৫ মার্চ : ভোট এসে পড়েছে দুয়ারে। বিভিন্ন দলে যোগদানের মরশুম বা বিভিন্ন মানুষকে যোগদান করানোর হিড়িক পড়ে গিয়েছে। ফলশ্রুতি, পারিবারিক বিষয়ের সমাধানে বা  যাওয়াই এখন নেতা -আধা নেতাদের বাড়ি যাওয়াই মুশকিল। অন্য দলের কর্মসূচিতে গেলে আরও মুশকিল  কেউ গোবেচারা নির্বিবাদী মানুষ হয়ে অথবা কোনো বিশেষ দলের সদস্য হওয়া সত্ত্বেও বিরুদ্ধে নেতাদের দরবারে গেলেই তাঁর হাতে ঝান্ডা ধরিয়ে দেওয়া হচ্ছে বলেই অভিযোগ। অভিযোগ, ঝান্ডা ধরিয়ে দিয়ে তাঁর ইচ্ছা অনিচ্ছা না মেনে বলা হচ্ছে তিনি নতুন দলের সদস্য হলেন। এরকমই ঘটনা ঘটছে উত্তর বঙ্গের সুকুমার মোদকের মতো মানুষের সঙ্গে। তাঁর অভিযোগ,তৃণমূলের বিরুদ্ধে।একদিন আগে পারিবারিক সমস্যা নিয়ে  গিয়েছিলেন তৃণমূলের এক কর্মসূচি ভিত্তিক সভায় । সেখানে তাঁকে তৃণমূলের ঝাণ্ডা ধরিয়ে দেওয়া হয়। প্রচার হয়ে যায় যে বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে যোগদান করেছেন সুকুমার । বুধবার বাধ্য হয়ে নতুন করে দলে ফিরতে হয়েছে বিজেপির প্রচারের অংশ হিসেবে। অর্থাৎ, তিনি পতাকা করার অংকে একদিনের জন্য তৃণমূলে ছিলেন।তিনি গাণিতিক নিয়মে এখন তৃণমূল থেকে বিজেপিতে ফিরলেন। উল্লেখযোগ্য বিষয় যে, ধুপগুড়ি ব্লকের গধেদেয়ারখুঁটি গ্রাম পঞ্চায়েতের ১৫/১০৪ নং বুথে সিপিআইএম ও তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে মোট ৪০ জন ধুপগুড়ি বিধানসভার বিজেপি দলে যোগদান করেছেন। এঁদের মধ্যে ছিলেন সবে “বিজেপি-ত্যাগী”সুকুমার মোদক । তাঁর দাবি, তিনি বরাবর বিজেপি করলেও তৃণমূল কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্ব একদিন আগে তাকে একরকম জোর করে নিজেদের ঝান্ডা ধরিয়ে তাকে তৃণমূলের অংশ বলে প্রচার করে। তাঁর আপত্তি সেসময় শোনা হয়নি, বাধ্য হয়ে যে ৪০ জন বুধবার বিজেপিতে যোগদান করে তাদের সঙ্গে তিনিও আবার নতুন করে বিজেপিতে ফিরলেন। যদিও সুকুমার বাবু বলেছেন, তিনি বিজেপিতে ছিলেন এবং থাকবেন। তিনি এও বলছেন, একবার জোর করে তাঁকে তৃণমূলের পতাকা ধরিয়ে দিলে তিনি তো আর তৃণমূলী হয়ে যান নি। যদিও তৃণমূলের জেলা নেতৃত্ব জানিয়েছে, বিদায়ী বিধায়ক ও বিধায়ক পদপ্রার্থী নির্মল চন্দ্র রায়ের সঙ্গে বলপূর্বক কাউকে ঝান্ডা ধরানোর অভিযোগ মোটেই খাটে না এবং বিষয়টি হাস্যকর। তবে ঘটনা যাই হোক না কেন, অভিযোগের নিরিখে সুকুমার মোদকের ঝান্ডা কাণ্ড বঙ্গে ভোট সার্কাসের মরশুমে এক আশ্চর্য সংযোজন হলেও হয়তো অভিনব নয় । বাড়ির সমস্যা নিয়ে বিরুদ্ধ দলের নেতাদের শরণাপন্ন হলে মুশকিল এই মরশুমে, অভিযোগ তেমনটাই !

About Post Author