পুরন্দর চক্রবর্তী, সময় কলকাতা : মালদা জেলায় এবার বিধানসভা নির্বাচন তৃণমূলের কাছে অ্যাসিড টেস্ট। বিগত লোকসভা নির্বাচনে, মালদা জেলায় একটি বিধানসভা কেন্দ্রেও লিড পায় নি তৃণমূল।জেলা জুড়ে, বিশেষত ইংলিশবাজারের শেষপ্রান্ত ও মানিকচক থেকে বিহার সীমান্ত পর্যন্ত মালদা জেলার বিধানসভাগুলিতে বিগত কয়েকবছর ধরেই কংগ্রেসের পাশাপাশি বিজেপির উত্থান চোখে পড়ার মত। এই অংশের অন্যতম বিধানসভা কেন্দ্র মালতিপুর যা চাঁচলের লাগোয়া। মালতিপুর বিধানসভা কেন্দ্রে এবার কাঁটার লড়াই বা কাঁটে কা টক্কর। ভোটযুদ্ধে এখানে মুখোমুখি বিগত নির্বাচনের জয়ী তৃণমূল প্রার্থী আব্দুর রহিম বকসি ও কংগ্রেসের মৌসুম নুর ।হেভিয়েট দুই প্রার্থীর লড়াইয়ে স্বাভাবিক প্রশ্ন, জিতবেন কে?
মালতিপুর বিধানসভা ভোট নিয়ে সরগরম। এনিয়ে প্রশ্নের অবকাশ নেই যে, রাজ্যের অন্যতম নজরকাড়া কেন্দ্র মালতিপুরে এবার রীতিমতো হাড্ডাহাড্ডি লড়াই যাকে বলে সেয়ানে সেয়ানে কোলাকুলি। মালদা জেলায় ১২ টি বিধানসভা কেন্দ্রের মধ্যে ২০২১ সালে বিধানসভা নির্বাচনে যে আটটি আসনে তৃণমূল জয়লাভ করেছিল তারমধ্যে অন্যতম ছিল মালতিপুর। এইকেন্দ্রে বিগত বিধানসভা নির্বাচনে আব্দুর রহিম বকসি ১ লক্ষ ২৬ হাজার ভোট পেয়েছিলেন যা দুই তৃতীয়াংশের বেশি। মালতিপুরের রাজনীতিতে রহিম বকসি নতুন কোনো নাম নয়। ২০১১ সালে আরএসপির হয়ে রহিম বকসি এই কেন্দ্রে জিতেছিলেন এবং ২০১৬ সালে তিনি আবার হেরে যান কংগ্রেস প্রার্থীর কাছে। অতঃপর দল বদলে তৃণমূল কংগ্রেসে চলে আসেন এবং ২০২১ সালে তিনি বিপুল ভোটে জিতলেও এবার আবার ২০১৬ সালের মতোই সংকটে রয়েছেন। তাঁর বিরুদ্ধে প্রতিষ্ঠান বিরোধী হাওয়া ঝড় হয়ে দেখা দিতে পারে এরকম আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে। সর্বোপরি, তার বিরুদ্ধে সম্মুখ সমরে কংগ্রেসের মৌসুম নুর । মৌসুম নুরের মত গনিখান পরিবারের হেভিওয়েট রাজনৈতিক প্রার্থী থাকায় রহিম বকসির আশঙ্কা বিরাট আকার নিয়েছে। আরএসপি থেকে এসে দ্রুত জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের কর্তৃত্ব হাতে পেয়েছিলেন যে রহিম বকসি তিনি তাঁর আসন নিরাপদ নয় বুঝে প্রচারে গতি বাড়িয়েছেন আব্দুর রহিম বক্সি। প্রচারে বাড়তি গতি রাখার পাশাপাশি ভোটারদের কাছে পেতে কোনরকম কার্পণ্য রাখছেন না এরকম কথা মালতি পুর বিধানসভা কেন্দ্রে আকাশে বাতাসে ভাসছে। যেকোনো মূল্যে যুদ্ধ জয় করতে চাইছেন রহিম বকসি। কিন্তু চাইলেই যা পাওয়া যাবেই তার কোনো গ্যারান্টি নেই। এখন মৌসুম নুর অনেক ভাবেই এগিয়ে। যাবতীয় পারিবারিক দ্বন্দ্ব কাটিয়ে ফেলে এখন তৃণমূল কংগ্রেস থেকে পুরনো দল কংগ্রেসে ফিরে জয়ের বিষয়ে প্রবল আত্মবিশ্বাসী। তিনি পূর্ণ সমর্থন পাচ্ছেন মালদা দক্ষিণ কেন্দ্রর সাংসদ ঈশা খান চৌধুরীর। ইশা খান তাঁর তুতো দাদা এবং দুজনেই মালদার বিখ্যাত কোতোয়ালি পরিবারের সদস্য এবং রক্তের দিক থেকে তাঁরা গনিখান চৌধুরীর উত্তরসূরি হলেও তাঁদের রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব ছিল সুবিদিত যা এই মুহূর্তে নেই। ঈশা খান কায়মনোবাক্যে চাইছেন নূর জিতুন। তৃণমূলের নূরের জেতার সম্ভাবনা প্রবল হওয়ার পেছনে রাজনৈতিক অঙ্কের আভাস মিলেছিল ২০২৪ সালের লোকসভা ভোটে। মালদা উত্তর কেন্দ্রে বিজেপি প্রার্থী খগেন মুর্মু জয়ী হলেও এই কেন্দ্রের কংগ্রেস প্রার্থী মোস্তাক আলম মালতিপুর বিধানসভা এলাকা থেকে সবচেয়ে বেশি ভোট পান।মালতিপুরে মোস্তাক আলম পেয়েছিলেন প্রায় ৭৮ হাজার ভোট যা প্রায় ৪৩ শতাংশ। তৃণমূল প্রার্থীর চেয়ে তাঁর প্রাপ্ত ভোট ছিল প্রায় ১৬ হাজার বেশি। সাংসদ খগেন মুর্মু এখানে পেয়েছিলেন মাত্র ৩৬, ০০০ ভোট। এবার বিধানসভা ভোটেও বিজেপির জয়ের বিশেষ সম্ভাবনা নেই মালতিপুরে।এখানে বিজেপি প্রার্থী আশিস দাসের কাছে এখন চ্যালেঞ্জ গতবারের ১৮ শতাংশ ভোট ধরে রাখা। এই ভোট যদি না বাড়ে তাহলে তৃণমূল কংগ্রেসের লাভ কারণ এখনও মালদা জেলা জুড়ে ধর্ম জাতি সম্প্রদায় নির্বিশেষে প্রবাদপ্রতিম রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব গনি খান চৌধুরীর প্রতি এবং তাঁর পরিবারের প্রতি সফট কর্ণার রয়েই গিয়েছে। এটাও মৌসুম নুরের স্বপক্ষে কাজ করতে পারে। হিন্দু ভোট কংগ্রেসের দিকে যাওয়ার সম্ভাবনা, মুসলিম ভোটব্যাঙ্কে তৃণমূলের জন্য বাড়তি অক্সিজেন না থাকায় রহিম বকসির সংকট বেড়েছে। তাছাড়াও মালদার এই অংশে প্রচারে এসে স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তৃণমূলের পালে বিশেষ হাওয়া টানতে পেরেছেন বলে মনে করছে না রাজনৈতিক মহল। এই বিধানসভার অন্তর্গত চাঁচল থেকে রতুয়ার টুকরো অঞ্চল ও মালতিপুর জুড়ে নিশ্চিতভাবেই কংগ্রেসকর্মীরা মনে করছেন চাঁচল বা রতুয়া বিধানসভায় এবার যাই হোক মালতিপুরে তাঁরাই জিতবেন। তৃণমূল কংগ্রেসের জয় নিয়ে তৃণমূলের আঞ্চলিক নেতৃত্ব রীতিমতো চিন্তিত। ভোটের ঠিক আগে হাওয়া যেদিকে মৌসুম নূর এগিয়ে আছেন বলেই মনে রয়েছেন সংশ্লিষ্ট এলাকা সম্পর্কে ওয়াকিবহাল রাজনৈতিক মহল। সংকটে, প্রবল সংকটে রয়েছেন আব্দুর রহিম বকসি।


More Stories
মানিকচকে পদ্ম ফুটছে?
বৈষ্ণবনগরে গেরুয়া ঝড় উঠবে?
মোথাবাড়ি : কংগ্রেসের সম্ভাব্য জয়ের নেপথ্য কাহিনী