Home » কেন চন্দ্রিমার পদত্যাগ, “আনুগত্য প্রশ্নের মুখে” নাকি অন্য কোনও সমীকরণ?

কেন চন্দ্রিমার পদত্যাগ, “আনুগত্য প্রশ্নের মুখে” নাকি অন্য কোনও সমীকরণ?

পুরন্দর চক্রবর্তী, সময় কলকাতা, ৪ জুলাই :  তৃণমূলের অন্যতম শীর্ষ নেত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য কার্যত তৃণমূলের সঙ্গে সব সম্পর্ক ত্যাগ করে ফেললেন।তৃণমূল কংগ্রেসের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সভাপতির পদসহ দলের সমস্ত সাংগঠনিক দায়িত্ব থেকে পদত্যাগ করেছেন চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। ২০২৬ সালের ৪ জুলাই (শনিবার) দলীয় নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে চিঠি পাঠিয়ে তিনি এই সিদ্ধান্ত জানান। ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনে দলের বিপর্যয়ের পর জুন মাসেই তাঁকে এই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল, যার মাত্র এক মাসের মাথায় তিনি সরে দাঁড়ালেন। কেন চন্দ্রিমার পদত্যাগ?

রাজনৈতিক ভাবে বলা হচ্ছে,চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য একদিন আগেও তৃণমূলের কার্যালয়ে বসতেন, তৃণমূলের দুই শিবিরের যুদ্ধে কার্যালয়ের চাবি ঋতব্রত শিবিরের হাতে যাওয়ায় আকস্মিক মমতা -চন্দ্রিমা সম্পর্কের টানাপোড়েন আর তা ঘিরে পদত্যাগ।

চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে চিঠি লিখে রাজ্য সভাপতি এবং অন্যান্য সব সাংগঠনিক পদ থেকে অব্যাহতি চেয়েছেন।আর পদের পাশাপাশি দলের বিভিন্ন ব্যাংক অ্যাকাউন্টের ‘অথরাইজড সিগনেটরি’ (স্বাক্ষরকারী) ক্ষমতা এবং নির্বাচন কমিশনে মমতার অনুমোদিত প্রতিনিধির দায়িত্ব থেকেও তিনি নিজেকে সরিয়ে নিয়েছেন।বিশ্বাসযোগ্যতার প্রশ্ন: পদত্যাগের পর তিনি মন্তব্য করেছেন, “বিশ্বাসযোগ্যতা যখন প্রশ্নের মুখে পড়ে, তখন ফেরার প্রশ্ন নেই”।

দলীয় সূত্রে খবর, মে মাসের নির্বাচনী বিপর্যয়ের দুমাস পরে পর দলের মেট্রোপলিটন বিল্ডিংয়ের কার্যালয় হাতবদল এবং ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরের সক্রিয়তা নিয়ে তাঁর ভূমিকা সংক্রান্ত প্রশ্ন তুলেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, যা এই পদত্যাগকে ত্বরান্বিত করেছে।

চন্দ্রিমা ঠিক কী বলেছেন? তৃণমূল আমলের মন্ত্রী ও পরাজিত তৃণমূল বিধায়ক চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য বলেছেন, “আমি আনুগত্য দেখানোর চেষ্টা করেছিলাম। কোথাও খামতি ছিল না। আমি এ ব্যাপারে নিজের কাছে পরিষ্কার। কিন্তু দেখলাম, সেটাই প্রশ্নচিহ্নের মুখে পড়ল। তৃণমূল ভবনে গতকাল যা ঘটেছে, সেটা নিয়ে যখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কথা বললাম, উনি আমাকে বললেন, ‘ভবনটা ওদের হাতে তুলে দিলে?’ আমি তো কিছুই তুলে দিই নি। প্রতিদিন যতক্ষণ থাকি, ততক্ষণই ছিলাম। আমার কাছে কেউ আসেনি। আমার সঙ্গে ওদের দেখাও হয়নি।”

গত এক দিনের তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব ও চাবির লড়াই চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের তৃণমূল থেকে পদত্যাগের বিষয়টি ত্বরান্বিত করেছে মাত্র। ‘নব্য তৃণমূল’-এ যোগদানের জল্পনা নিয়েছে নতুন গতি। বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘরে চন্দ্রিমার বৈঠক এবং তাঁর ছেলে সৌরভ ইতিমধ্যে নব্য তৃণমূল শিবিরে যোগ দেওয়ায় রাজনৈতিক মহলে তাঁর দলবদলের জল্পনা তীব্র হয়েছে।

চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য বলেছেন, “ওরা ঢুকেছে আমি দেখিনি।” ঋতব্রত শিবিরের যোগদানের বিষয়েও তিনি নীরব দেখেছেন তবে পুত্র সৌরভের রাজনৈতিক অবস্থান ও তাঁর যোগসূত্র নিয়ে চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য খোলসা করেছেন।উল্লেখ্য,গত ২২ জুন ঋতব্রত শিবিরের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন চন্দ্রিমা-পুত্র সৌরভ বসু। এই বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে চন্দ্রিমা বলেন, “আমার ছেলের বয়স ৪৭। এটা ওর নিজের সিদ্ধান্ত। এখন বললে আর কেউ বিশ্বাস করবে না যে ওই মিটিং-এ ছেলে যাওয়ার পর বাড়িতে রাজনৈতিক বিষয়ে ছেলের সঙ্গে আমি কোনও কথাই বলিনি। এমনকী ওর অফিসে যাওয়াও বন্ধ করে দিয়েছিলাম। পার্টি অফিস থেকে সোজা বাড়ি চলে যেতাম।” সব মিলিয়ে, চন্দ্রিমা পদত্যাগ পর্ব বঙ্গের রাজনীতিতে তৃণমূলের ভঙ্গুর দশার এক আশ্চর্য উদাহরণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।।

ধাক্কা তৃণমূলে, জ্যোতিপ্ৰিয় মল্লিক দলীয় সব পদ থেকে ইস্তফা দিলেন

কেন চন্দ্রিমার পদত্যাগ ? #তৃণমূলকংগ্রেস #চন্দ্রিমাভট্টাচার্য

About Post Author