Home » রাজ্য পুলিশের তৎপরতায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মুখ্যমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি রক্ষা, নিয়োগপত্র পেলেন মৃতের মা

রাজ্য পুলিশের তৎপরতায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মুখ্যমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি রক্ষা, নিয়োগপত্র পেলেন মৃতের মা

দীপ সেন ও পুরন্দর চক্রবর্তী, সময় কলকাতা, বারাসাত, ২৬ নভেম্বর : বারাসাত হাসপাতালের চোখ লোপাট কাণ্ডে ২৪ ঘন্টা কাটতে না কাটতেই মুখ্যমন্ত্রীর দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবে রূপ পেল।  রাজ্য পুলিশের ও বারাসাত জেলা পুলিশের তৎপরতায় দ্রুত নিয়োগ পত্র পৌঁছে গেল মৃত প্রীতমের মায়ের হাতে। সবকিছুই দ্রুত সম্পন্ন হল  রাজ্য পুলিশের তৎপরতায়।

উল্লেখ্য, দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয়েছিল বারাসাতের কাজীপাড়ার বাসিন্দা প্রীতম ঘোষের। তিরিশ- উর্দ্ধ যুবকের মৃত্যুর পর মৃতদেহ চোখ খোয়া গিয়েছিল বারাসাত হাসপাতালে মর্গ থেকে। মঙ্গলবার বাড়ির লোক দেহ নিতে গিয়ে দেখেন প্রীতমের একটি চোখ নেই । তাঁরা ফেটে পড়েন ক্ষোভে। কাকতালীয়ভাবে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বনগাঁর মতুয়াগড়ে সভা সেরে বারাসাতের উপর দিয়েই ফিরছিলেন। মুখ্যমন্ত্রীর গাড়ি আটকে পরিবার-পরিজন বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন ও প্রতিবাদ জানাতে থাকেন। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তদন্ত ও ক্ষতিপূরণের পাশাপাশি মৃতের মাকে চাকরির প্রতিশ্রুতি দেন। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ হাতে পেয়ে নড়ে চড়ে বসে রাজ্য পুলিশ। রাজ্য পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে এ বিষয়ে আলাদাভাবে কর্মতৎপরতা দেখাতে শুরু করে বারাসাত জেলা পুলিশ।  দ্রুত মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ কার্যকর করার পদক্ষেপ নেওয়া হয়।

মুখ্যমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতির চব্বিশ ঘন্টা পূর্ণ হওয়ার আগেই রাজ্য পুলিশের তৎপরতায় পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের দক্ষিণবঙ্গের অতিরিক্ত ডিরেক্টর জেনারেল (ADG), আইন শৃঙ্খলা সুপ্রতীম সরকার (আইপিএস )মৃত যুবকের মা কৃষ্ণা ঘোষের হাতে নিয়োগ পত্র তুলে দেন। নিয়োগপত্র তুলে দেওয়ার সময় উপস্থিত ছিলেন বারাসাত জেলা পুলিশের পুলিশ সুপার প্রতিষ্ঠা ঝাড়খড়িয়া ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অতীশ বিশ্বাস। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে,বারাসাত মেডিকেল কলেজে মৃত ব্যক্তির চোখ লোপাট কাণ্ডে মৃত ব্যক্তির মার হাতে নিয়োগপত্র তুলে দেওয়া হয়। মুখ্যমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি মাফিক, বুধবার বিকেলেই, উত্তর ২৪ পরগনা ভূমি সংস্কার দফতরে চাকরির নিয়োগপত্র পেয়েছেন মৃতের মা কৃষ্ণা ঘোষ।

উল্লেখ্য, প্রাথমিকভাবে  হাসপাতালের তরফে মৃত ব্যক্তির পরিবারকে কারণ হিসেবে চোখ ইঁদুরে খুবলে খেয়েছিল জানানো হয়। পরে সংবাদ মাধ্যমের সামনে চোখ লোপাট হওয়ার কারণ নিয়ে মুখে কুলুপ আঁটে হাসপাতাল।  মৃতের পরিবারের বক্তব্য ছিল, চোখ চুরি করেছে অঙ্গ পাচার চক্র, চলছে ব্যবসা। তবে মুখ্যমন্ত্রী বিষয়টি তদন্ত করার আশ্বাস দেওয়ার পাশাপাশি, মৃতের মাকে চাকরির প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।

আরও পড়ুনবারাসাতে মুখ্যমন্ত্রীর গাড়ি আটকে বিক্ষোভ,একটি চোখ এবং একটি চাকরির প্রতিশ্রুতি -নেপথ্যে কী?

২৪ ঘণ্টার মধ্যে মুখ্যমন্ত্রীর দেওয়া  প্রতিশ্রুতি রক্ষা করা হয়েছে। সৌজন্যে রাজ্য পুলিশ। স্বাস্থ্য ব্যবস্থার বিরুদ্ধে যতই প্রশ্ন উঠুক, পুলিশ এবার লেটার মার্কস পেতেই পারে প্রতিশ্রুতি পালনে তৎপরতায়। রাজ্য পুলিশের তৎপরতায় দ্রুত মুখ্যমন্ত্রীর  প্রতিশ্রুতি রুপায়ন।

About Post Author