পুরন্দর চক্রবর্তী, সময় কলকাতা : মালদার যে বিধানসভাকেন্দ্রগুলিতে ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে পট পরিবর্তনের সম্ভাবনা রয়েছে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য মানিকচক। কেন এই পট পরিবর্তনের সম্ভাবনা?
কী হবে মানিকচক বিধানসভা কেন্দ্রে ভোটের ফল জানতে তাকাতে হবে মানিকচকের ভৌগোলিক অবস্থানের দিকে। মানিকচকের অদূরে বিহারের নদী সীমান্ত ও রাজমহলের সীমানা। ভৌগোলিকভাবে এই অঞ্চলের দিকে তাকালে দেখা যাবে এখানের রাজনৈতিক সমীকরণ ধীরে ধীরে বদলেছে। চাঁচল বিধানসভা আসন দেখলেই বোঝা যাবে মালদার রতুয়া- হরিশ্চন্দ্রপুরের প্রান্তিক অঞ্চল থেকে মালদা শহরের দিকে যত এগোনো যাবে ততটাই বিজেপি নিজেদের প্রাধান্য বিস্তার করেছে। মালদা শহরে একচেটিয়া আধিপত্য বিস্তার করেছে বিজেপি এবং ইংলিশ বাজার বিধানসভা কেন্দ্রে তার প্রভাব অত্যন্ত বেশি এবং এই বিধানসভা কেন্দ্রের অত্যন্ত নিকটবর্তী আসন মানিকচক বিধানসভা কেন্দ্রে বিজেপি নিজেদের প্রভাব বৃদ্ধি করেছে। ২০২৪ সালের লোকসভা ভোটের দিকে যদি তাকানো যায় দেখা যাবে বিজেপির শ্রীরূপা মিত্র চৌধুরী মালদা দক্ষিণ কেন্দ্রের এই আসনে প্রায় ৪২ শতাংশ ভোট পেয়ে সর্বাগ্রে ছিলেন এমনকি মালদা দক্ষিণ কেন্দ্রের জয়ী সাংসদ ঈশা খান চৌধুরীর চেয়ে ৭৩৫৫ ভোট বেশি পান। হালে পানি পাননি তৃণমূলের সাংসদ পদের প্রার্থী রায়হান। তিনি পেয়েছিলেন মাত্র ১৬% ভোট যা প্রমাণ করে দেয় মানিকচক বিধানসভা কেন্দ্রে তৃণমূলের হাল ভালো নয়। এবার এখানে তৃণমূলের প্রাক্তন মন্ত্রী ও হেভি ওয়েট নেত্রী সাবিত্রী মিত্র কে টিকিট দেয়নি দল। সাবিত্রী মিত্র মালদার রাজনীতিতে একটি বড় মুখ।তিনি প্রয়াত স্বপন মিত্রর স্ত্রী যে স্বপন মিত্র একদা মালদায় বাম আধিপত্যের মধ্যেও দাপুটে শৈলেন সরকারকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছিলেন। স্বপন মিত্রের অকাল মৃত্যুর পরে সাবিত্রী মিত্র রাজনীতিতে এসে প্রথমে কংগ্রেস ও পরে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগদান করেন। তিনি ডিলিমিটেশনের পরে অধুনালুপ্ত আড়াই ডাঙ্গা বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক ছিলেন। ২০১১ সালে তিনি মানিকচক কেন্দ্র থেকে তৃণমূলের হয়ে জয়ী হন। ২০১৬ সালে তিনি হেরে যান কংগ্রেসের মোত্তাকিন আলমের কাছে এবং ২০২১ সালে তৃণমূল কংগ্রেসের হয়ে আবার আসনটি পুনরুদ্ধার করেন সাবিত্রী। তৃণমূল এবার প্রার্থী করেছে কবিতা মণ্ডলকে। জেলা পরিষদের কর্মাধ্যক্ষ কবিতা মণ্ডল মালদার এই বলয়ে ক্ষয়ে যাওয়া তৃণমূলকে অক্সিজেন দিতে পারবেন বলে মনে করছে না রাজনৈতিক মহল। মানিকচক বিধানসভা কেন্দ্রের লড়াই এবার কংগ্রেস এবং বিজেপির মধ্যে। রয়েছেন বামেদের দেবজ্যোতি সিনহা। আমজনতা উন্নয়ন পার্টিও এখানে লড়ছে যদিও এই দলগুলির অবস্থা খুব আশাপ্রদ নয়। কংগ্রেসের বিক্রম মন্ডল এখানে লড়ছেন এবং এনিয়ে সন্দেহ নেই এই কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী গৌর চন্দ্র মন্ডলকে তিনি কিছুটা বেগ দিতে পারেন। তথাপি এই কেন্দ্রে ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে দ্বিতীয় স্থানে থাকা গৌর চন্দ্র মন্ডলের জয়লাভের আশা অত্যন্ত প্রবল, তিনি ২০২১ সালে সাবিত্রী মিত্রের কাছে ৩৪ হাজারের কাছাকাছি ভোটে হেরে গেলেও বিজেপি গত নির্বাচনে ৩৭ শতাংশ ভোট পেয়ে প্রমাণ রেখেছিল মানিকচকের বিজেপির উত্থান ঘটেছে। এই আরো সুস্পষ্ট হয়েছে ২০২৪ সালের লোকসভা ভোটে। রয়েছে এস আই আরে জনবিন্যাসের অদল বদল। হিন্দু ও মুসলিম ভোট যে বিধানসভা কেন্দ্রে প্রায় সমসংখ্যক সেখানে এসআই আর এর প্রভাব পড়বেই এ কথা ধরে নিয়ে বলা যায় মানিকচক বিধানসভা কেন্দ্রে জয়ের সম্ভাবনা আরো প্রকট হয়েছে বিজেপি প্রার্থীর। তাছাড়া এখানে তৃণমূলের হিন্দু ভোটের সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশর বিজেপির দিকে চলে যাওয়ার প্রবণতা রয়েছে। তার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে, প্রতিষ্ঠান বিরোধী হাওয়া এবং শাসক দলের বিরুদ্ধে ক্ষোভ। পরিবর্তন আনতে মানিকচকের মানুষ গৌরচন্দ্র মন্ডলকে নির্বাচিত করবেন এরকম সম্ভাবনা অত্যন্ত প্রবল। কংগ্রেস প্রার্থীর দিকে সংখ্যালঘু ভোট অনেকটাই যাবে, এখানেও কংগ্রেস লড়াইয়ে থাকবে এ নিয়ে সন্দেহর অবকাশ নেই তবে কংগ্রেসের বিক্রম মন্ডল বিজেপির সঙ্গে শেষ পর্যন্ত পেরে উঠবেন বলে মনে করছে না রাজনৈতিক মহল।।
*মানিকচক বিধানসভা কেন্দ্র -সম্ভাব্য জয়ী প্রার্থী গৌর চন্দ্র মন্ডল ( বিজেপি* )


More Stories
একদা বামগড় হবিবপুর এখন রামগড়
মালতিপুর : মৌসুমের কেন্দ্রে বিপাকে রহিম বকসি
বৈষ্ণবনগরে গেরুয়া ঝড় উঠবে?