পুরন্দর চক্রবর্তী,সময় কলকাতা, ১৫ মে : প্রাপ্য সম্মান না পেলে পথ কি পথ খুঁজে নেয়? এরকম যে হতে পারে, এরকমই যে হতে পারে তার ইঙ্গিত ছিলই। বারাসাত লোকসভা কেন্দ্রের সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার শুক্রবার তাঁর ফেসবুক পেজে একটি পোস্ট করেছেন যার মধ্যে অনেক না বলা কথাই খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে। কী লিখেছেন কাকলি ঘোষ দস্তিদার? খুব সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়া কাকলি ঘোষ দস্তিদারের যাকে টু লাইনার বলা যায়। তিনি লিখেছেন -“৭৬ থেকে পরিচয়, ৮৪ থেকে পথ চলা শুরু। ৪ দশকের আনুগত্যের জন্য আজ পুরষ্কৃত হলাম।” প্রসঙ্গত,একদিন আগেই কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে পুরনো পদে ফিরিয়েছেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদারকে সরিয়ে ফের লোকসভার মুখ্যসচেতক করেছেন কল্যাণকেই। হতে পারে সেজন্যই কাকলি ঘোষ দস্তিদারের ক্ষোভ। অনেকে বলছেন, দল ছাড়ার আগে রাঘব চাড্ডার বিরুদ্ধে আপ বেশ কিছু সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। তার ছায়া তৃণমূল – কাকলি ঘোষ দস্তিদার উপাখ্যানে ও দেখা যাচ্ছে। কিন্তু সত্যি কি তাই? কারণ হিসেবে বলা হচ্ছে মাত্র ৯ মাস আগে লোকসভার মুখ্য সচেতক ছিলেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। ৯ মাসের মধ্যে কাকলি ঘোষ দস্তিদার কে সরিয়ে দেওয়া যেরকম বারাসাতের সাংসদের কাছে অস্বস্তি জনক তেমন উল্টো দিক থেকে এটাও সত্যি নয় মাস আগে এই পদেই ছিলেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তাহলে কেন বিস্ফোরক হলেন কাকলি ঘোষ দস্তিদার? বিষয়টিকে সত্যিই এই একটি পদ থেকে অপসারণ সংক্রান্ত? নাকি বিষয়টি আরো অনেক গভীরে? প্রসঙ্গত বিগত কয়েক বছর ধরেই বারাসাতে গুঞ্জন ছিল কাকলি ঘোষ দস্তিদারের পুত্রকে বারাসাত বিধানসভা কেন্দ্রের প্রার্থী পদ দেওয়া হবে। বৈদ্যনাথ ঘোষ দস্তিদার বারাসাত বিধানসভার প্রার্থী পদপ্রাননি বারাসাত বিধানসভায় তৃণমূলের প্রার্থী হন সব্যসাচী দত্ত। গুঞ্জন শেষ রাউন্ড ফল প্রকাশের আগেই তাঁকে আর বারাসাতে দেখা যায়নি এবং শমীক ভট্টাচার্যের একটি বিবৃতি থেকে ইঙ্গিত মিলেছে আবার তিনি বিজেপিতে যোগদানের জন্য যোগাযোগ করছেন। দল ক্ষমতা থেকে সরতে না সরতেই সব্যসাচী দত্তের এরকম মেরু পরিবর্তনের অভীপ্সা জাগে তা অস্বাভাবিক নয় কারণ এর আগেও তিনি তৃণমূল থেকে বিজেপিতে গিয়েছিলেন। অর্থাৎ সব্যসাচী দত্ত যা করছেন তাতে অবাক হওয়ার কিছু নেই কিন্তু এই সব্যসাচী দত্তকে টিকিট দেওয়া হয়েছিল বারাসাত কেন্দ্রে কাকলি ঘোষ দস্তিদারের আর্জি নাকচ করে। চারবারের সাংসদ দৃঢ়বিশ্বাসী ছিলেন তাঁর পুত্র প্রার্থী পদের জন্য ছাড়পত্র পাবে।চার দশকের বেশি সময় ধরে দলকে সময় দেওয়া এবং বেশ কিছুদিন ধরেই নিজের চিকিৎসা পেশা থেকে বিরত থেকে তৃণমূলের হয়ে বাংলা এবং বাংলার বাইরে লড়াই করেছেন কাকলি ঘোষ দস্তিদার। হাতরস বা মহিলারা যেখানে নিগৃহীত হয়েছেন সেখানেই ছুটে গিয়েছেন তিনি। অথচ, কল্যান বন্দ্যোপাধ্যায়ের পুত্র শীর্ষণ্য বন্দ্যোপাধ্যায় উত্তরপাড়া বিধানসভা থেকে টিকিট পেয়ে যান। কল্যাণ বা কাকলি দুজনেই চারবারের সাংসদ। তাহলে তাদের পুত্রকে রাজনৈতিক ময়দানে আনার ক্ষেত্রে শীর্ষ নেতৃত্বের পৃথক ভাবনা কেন? এক যাত্রায় পৃথক ফল কেন?

উল্লেখ্য, কাকলি ঘোষ দস্তিদার কে এবার ২০২৬ সালের বারাসাত বিধানসভা কেন্দ্রে সেভাবে প্রচার করতেই দেখা যায়নি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বারাসাতে জনসভা করেন, তখনও সব্যসাচী দত্তের ধারে কাছে যাননি কাকলি ঘোষ দস্তিদার। নেপথ্যে, সাম্প্রতিক সময়ে কাকলি ঘোষ দস্তিদার কে যথাযোগ্য সম্মান দেওয়া হয়নি মনে করে উত্তর ২৪ পরগনা জেলার রাজনৈতিক মহল। বিধানসভা নির্বাচনে কাকলি ঘোষ দস্তিদারের অভিজ্ঞতা ও তাঁর ঘনিষ্ঠদের সক্রিয়তাকে কাজে লাগানো হয়নি। প্রশ্ন উঠতেই পারে কাকলিরে মনোকষ্ট বা ক্ষোভকে নিরসন করার চেষ্টা কেন করল না তৃণমূল শীর্ষ নেতৃত্ব? অন্যদিকে, বিজেপি শীর্ষ নেতৃত্ব মনে করে, বিধানসভা নির্বাচনের সময় কাকলি ঘোষ দস্তিদারের নীরবতা তাঁদের কাছে আশীর্বাদ হয়ে দেখা দিয়েছে। বাস্তবে তা ডিভিডেন্টও দিয়েছে। দু’বছর আগেও কাকলি ঘোষ দস্তিদার বারাসাত বিধানসভা কেন্দ্রে লিভ নিয়েছিলেন অথচ এবার সব্যসাচী দত্ত ৩৪ হাজার ভোটে হেরে যান বিজেপির শঙ্কর চ্যাটার্জির কাছে।কাকলি ঘোষ দস্তিদারের মত সিনিয়র পলিটিসিয়ানকে উপযুক্ত সম্মান দেওয়ার চেষ্টা বেশ কিছুদিন ধরেই তৃণমূল থেকে অদৃশ্য বলে মনে করে রাজনৈতিক মহল। এ নিয়ে অনেক রকম জল্পনা কল্পনা রয়েছে, এরকমও মনে করা হয় কাকলি ঘোষ দস্তিদার তৃণমূলে অত্যন্ত প্রবল হয়ে উঠেছিলেন যা দলের অনেকেরই গাত্রদাহের কারণ হয়ে উঠেছিল। পাশাপাশি এও মনে করা হয়, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজের হাতে সব সিদ্ধান্ত নিতে পারলে বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠতেন না কাকলি ঘোষ দস্তিদার । তবে বিপক্ষ মতামতও রয়েছে তৃণমূলের অন্দরে, তৃণমূলের একাংশ মনে করেন – “কেন সাংসদ পরিবার তন্ত্রের সুবিধা ভোগ করবেন? কেন সাংসদের অনুগত দুএকজন কাউন্সিলর এত ঔদ্ধত্য প্রদর্শন করবেন?
কেউ মনে করেন, প্রাপ্য সম্মান পাননি কাকলি ঘোষ দস্তিদার, আবার একাংশ মনে করেন তৃণমূলের বর্তমান অবস্থার জন্য কাকলি ঘোষ দস্তিদার দায়িত্বে এড়াতে পারেন না।। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, কাকলি ঘোষ দস্তিদার সময়ের অপেক্ষা করছিলেন।”রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা, কাটা ঘায়ে নুনের ছিটের মত এবার পদ হারানো বিষয়টি যোগ হতেই কাকলি ঘোষ দস্তিদার বিস্ফোরক হয়ে উঠলেন।তাহলে কি একে একে নিভিছে দেউটি? সময় বলবে সময়ের কথা।।


More Stories
জমিজট কাটাতে ও কাঁটাতার দিতে গুরুদায়িত্ব নন্দিনীকে
কারা ঠাঁই পেলেন বঙ্গে বিজেপির মন্ত্রীসভায়?
কাদের সমর্থনে থালাপতি বিজয় সরকার গঠন করতে চলেছেন?